ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :

তেলাপিয়া মাছের বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম থাইল্যান্ড

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 138

ঢাকা অফিস ॥ ব্যাপকভাবে তেলাপিয়া মাছ ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশের ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে থাইল্যান্ড। ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রজাতি হিসেবে’ বর্ণনা করা হয়েছে তেলাপিয়া মাছকে। অনেকেই পানিতে নেমে মাছটি ধরার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমেও মাছটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিবিসি জানায়, ইতমধ্যেই থাইল্যান্ডের প্রায় ১৭ টি প্রদেশে ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। কীভাবে তেলাপিয়া এমন দ্রুত ছড়াচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট। ব্যাংককের এমপি নাত্তাচা বুনচাইনসাওয়াত বলেন, “আমরা একটি ধ্বংসাত্মক ইকোসিস্টেম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব না।” থাইল্যান্ডে এর আগেও ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। তবে মাছটি এবার যতটা ছড়িয়েছে আগে কখনও সেভাবে ছড়ায়নি। নাত্তাচা জানান, এবার ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার কারণে থাইল্যান্ডের অর্থনীতির ক্ষতি হবে অন্তত ১ হাজার কোটি বাথ (অর্থাৎ প্রায় ২৯৩ মিলিয়ন ডলার)। মূল সমস্যা হল- ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া থাইল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ জলজ সম্পদ যেমন: ছোট চিংড়ি এবং শামুকের লার্ভা শিকার করে। তাই কয়েক মাস ধরে, সরকার জনগণকে ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া ধরতে উৎসাহিত করেছে, যাতে জলাশয়ে ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হয়। এই মাছ মিঠা পানিতে বেড়ে ওঠে, তবে স্বচ্ছ ও নোনা পানিতেও বেঁচে থাকতে পারে। বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এক কেজি তেলাপিয়া ধরতে পারলে ১৫ বাথ দেওয়ার ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ড সরকার। ফলে মাছ ধরায় উৎসাহী হয়ে ব্যাংককের শহরতলীতে স্থানীয় মানুষজন হাটু পানিতে নেমে তেলাপিয়া ধরার চেষ্টা করছে। থাই সরকার এমন একটি মাছের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে যার প্রজনন খুব দ্রুত ঘটে। একটি মা তেলাপিয়া একবারে ৫০০টির বেশি মাছের জন্ম দিতে সক্ষম। তবে নাত্তাচা বিবিসি থাইকে বলেছেন, সরকারের আরও দ্রুত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই মাছের প্রজনন আটকাতে হবে, না হলে পরিস্থিতিতে হাতের বাইরে চলে যাবে। এখন প্রশ্ন হল, এই মাছটি থাইল্যান্ডে কীভাবে এসেছিল? বিবিসি জানায়, ১৪ বছর আগে পশুখাদ্য উৎপাদন এবং চিংড়ি ও গবাদি পশুর খামার পরিচালনাকারী চারোয়েন পোকফান্ড ফুড (সিপিএফ) নামের একটি কোম্পানি পরীক্ষামূলকভাবে ২ হাজারটি মাছ ঘানা থেকে এনেছিল। তবে দায় এড়িয়ে তারা বলছেন, সব মাছ মারা গেছে এবং সেগুলো যথাযথভাবে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সম্প্রচারক থাই পিবিএস জানিয়েছে, দুই বছর পর সিপিএফ এর পরীক্ষাগারসহ থাইল্যান্ডে ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। সিপিএফ অবশ্র এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে যারা ‘ভুল তথ্য’ ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করারও হুমকি দিয়েছে। তারা বিদেশি এই প্রজাতির বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াই করা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলির সাথে সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বিবিসি থাইকে বলছেন, ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হার হতে পারে। ওয়ালাইলাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ প্রাণী জেনেটিক্সের বিশেষজ্ঞ ড. সুউইত উথিসুথিমেথাভি বলেন, “আমি এটি নির্মূল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।” তিনি বলেন, “কারণ আমরা এর গ-ি বেধে দিতে পারব না। প্রকৃতিতে থাকলেই এটি দ্রুত প্রজনন ঘটায়।”

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ক্রয়চুক্তি সই

তেলাপিয়া মাছের বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম থাইল্যান্ড

আপডেট সময় ০১:১২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ঢাকা অফিস ॥ ব্যাপকভাবে তেলাপিয়া মাছ ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশের ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে থাইল্যান্ড। ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রজাতি হিসেবে’ বর্ণনা করা হয়েছে তেলাপিয়া মাছকে। অনেকেই পানিতে নেমে মাছটি ধরার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমেও মাছটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিবিসি জানায়, ইতমধ্যেই থাইল্যান্ডের প্রায় ১৭ টি প্রদেশে ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। কীভাবে তেলাপিয়া এমন দ্রুত ছড়াচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট। ব্যাংককের এমপি নাত্তাচা বুনচাইনসাওয়াত বলেন, “আমরা একটি ধ্বংসাত্মক ইকোসিস্টেম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাব না।” থাইল্যান্ডে এর আগেও ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। তবে মাছটি এবার যতটা ছড়িয়েছে আগে কখনও সেভাবে ছড়ায়নি। নাত্তাচা জানান, এবার ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার কারণে থাইল্যান্ডের অর্থনীতির ক্ষতি হবে অন্তত ১ হাজার কোটি বাথ (অর্থাৎ প্রায় ২৯৩ মিলিয়ন ডলার)। মূল সমস্যা হল- ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া থাইল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ জলজ সম্পদ যেমন: ছোট চিংড়ি এবং শামুকের লার্ভা শিকার করে। তাই কয়েক মাস ধরে, সরকার জনগণকে ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া ধরতে উৎসাহিত করেছে, যাতে জলাশয়ে ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হয়। এই মাছ মিঠা পানিতে বেড়ে ওঠে, তবে স্বচ্ছ ও নোনা পানিতেও বেঁচে থাকতে পারে। বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এক কেজি তেলাপিয়া ধরতে পারলে ১৫ বাথ দেওয়ার ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ড সরকার। ফলে মাছ ধরায় উৎসাহী হয়ে ব্যাংককের শহরতলীতে স্থানীয় মানুষজন হাটু পানিতে নেমে তেলাপিয়া ধরার চেষ্টা করছে। থাই সরকার এমন একটি মাছের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে যার প্রজনন খুব দ্রুত ঘটে। একটি মা তেলাপিয়া একবারে ৫০০টির বেশি মাছের জন্ম দিতে সক্ষম। তবে নাত্তাচা বিবিসি থাইকে বলেছেন, সরকারের আরও দ্রুত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই মাছের প্রজনন আটকাতে হবে, না হলে পরিস্থিতিতে হাতের বাইরে চলে যাবে। এখন প্রশ্ন হল, এই মাছটি থাইল্যান্ডে কীভাবে এসেছিল? বিবিসি জানায়, ১৪ বছর আগে পশুখাদ্য উৎপাদন এবং চিংড়ি ও গবাদি পশুর খামার পরিচালনাকারী চারোয়েন পোকফান্ড ফুড (সিপিএফ) নামের একটি কোম্পানি পরীক্ষামূলকভাবে ২ হাজারটি মাছ ঘানা থেকে এনেছিল। তবে দায় এড়িয়ে তারা বলছেন, সব মাছ মারা গেছে এবং সেগুলো যথাযথভাবে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সম্প্রচারক থাই পিবিএস জানিয়েছে, দুই বছর পর সিপিএফ এর পরীক্ষাগারসহ থাইল্যান্ডে ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। সিপিএফ অবশ্র এমন খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে যারা ‘ভুল তথ্য’ ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করারও হুমকি দিয়েছে। তারা বিদেশি এই প্রজাতির বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াই করা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলির সাথে সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বিবিসি থাইকে বলছেন, ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হার হতে পারে। ওয়ালাইলাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ প্রাণী জেনেটিক্সের বিশেষজ্ঞ ড. সুউইত উথিসুথিমেথাভি বলেন, “আমি এটি নির্মূল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।” তিনি বলেন, “কারণ আমরা এর গ-ি বেধে দিতে পারব না। প্রকৃতিতে থাকলেই এটি দ্রুত প্রজনন ঘটায়।”