ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে মন্দিরের কাছে পাঁচতলা হোটেলে আগুন, ৬ পুণ্যার্থী নিহত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাট শহরের কাছে অবস্থিত তারাপীঠ মন্দিরে পুজা করতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ছয়জন পুণ্যার্থী।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে মন্দিরের কাছেই একটি পাঁচতলা হোটেলে আগুন লাগে।

ঘটনায় বেশ কয়েক জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

তারাপীঠ থানার অদূরে পুকুরপাড়ে অবস্থিত ‘বিদেশিনী’ হোটেলের নীচের অংশে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন অংশে। অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে আচমকা ধোঁয়া ও আগুনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।

আগুনের তীব্রতায় নীচতলার একাংশ দ্রুত পুড়ে যায়। ধোঁয়া উঠে যায় উপরতলার ঘরগুলিতেও। অনেক আবাসিক ঘর থেকে বের হতে গিয়ে বিপদে পড়েন। নীচে আগুন থাকায় উপরতলায় আটকে পড়েন বেশ কয়েক জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেউ কেউ উপর থেকে জিনিসপত্র নীচে ফেলতে শুরু করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ। পরে দমকলবাহিনীর একাধিক দল আসে। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর হোটেলের ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে আটকে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ ও ধোঁয়ায় অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হোটেল মালিক কল্যাণ পালের দাবি, আগুন লাগার পর রাতপাহারার কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ধরে যাওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তার বক্তব্য, ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে যাওয়ায় আতঙ্কিত আবাসিকেরা রিসেপশনের দিক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়ই অনেকে আগুনের সংস্পর্শে এসে দগ্ধ হন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা তপনজ্যোতি মণ্ডল। তার পরিবারের সদস্যরাও বিপদের মুখে পড়েন। তপনজ্যোতির দাবি, আগুন দেখতে পেয়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। জানলা না থাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভিতর আটকে ছিলেন। পরে শৌচালয়ের উপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। তার মা ও বোনও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও দমকলের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো গেলেও প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে তারাপীঠে। শ্রাবণ মাস উপলক্ষে ওই হোটেলে মালদহ, আলিপুরদুয়ার-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা ছিলেন। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের নাম, পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি, শনাক্ত করল কাস্টমস

ভারতে মন্দিরের কাছে পাঁচতলা হোটেলে আগুন, ৬ পুণ্যার্থী নিহত

আপডেট সময় ০১:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাট শহরের কাছে অবস্থিত তারাপীঠ মন্দিরে পুজা করতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ছয়জন পুণ্যার্থী।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে মন্দিরের কাছেই একটি পাঁচতলা হোটেলে আগুন লাগে।

ঘটনায় বেশ কয়েক জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

তারাপীঠ থানার অদূরে পুকুরপাড়ে অবস্থিত ‘বিদেশিনী’ হোটেলের নীচের অংশে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন অংশে। অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে আচমকা ধোঁয়া ও আগুনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।

আগুনের তীব্রতায় নীচতলার একাংশ দ্রুত পুড়ে যায়। ধোঁয়া উঠে যায় উপরতলার ঘরগুলিতেও। অনেক আবাসিক ঘর থেকে বের হতে গিয়ে বিপদে পড়েন। নীচে আগুন থাকায় উপরতলায় আটকে পড়েন বেশ কয়েক জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেউ কেউ উপর থেকে জিনিসপত্র নীচে ফেলতে শুরু করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ। পরে দমকলবাহিনীর একাধিক দল আসে। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর হোটেলের ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে আটকে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ ও ধোঁয়ায় অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হোটেল মালিক কল্যাণ পালের দাবি, আগুন লাগার পর রাতপাহারার কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ধরে যাওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তার বক্তব্য, ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে যাওয়ায় আতঙ্কিত আবাসিকেরা রিসেপশনের দিক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়ই অনেকে আগুনের সংস্পর্শে এসে দগ্ধ হন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা তপনজ্যোতি মণ্ডল। তার পরিবারের সদস্যরাও বিপদের মুখে পড়েন। তপনজ্যোতির দাবি, আগুন দেখতে পেয়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। জানলা না থাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভিতর আটকে ছিলেন। পরে শৌচালয়ের উপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। তার মা ও বোনও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ ও দমকলের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো গেলেও প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে তারাপীঠে। শ্রাবণ মাস উপলক্ষে ওই হোটেলে মালদহ, আলিপুরদুয়ার-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা ছিলেন। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের নাম, পরিচয় এখনও জানা যায়নি।