ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) হোটেল রেডিসন ব্লুতে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
বিমানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বিমানের আধুনিকায়ন জরুরি। নতুন প্রজন্মের এসব বিমান বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে বিশ্বমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও এগিয়ে নেবে।
তিনি বলেন, শুধু আধুনিক বিমান দিয়ে একটি এয়ারলাইনকে সফল করা যায় না। বিমানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের ওপর।
তিনি আরও বলেন, আসুন, নিরাপত্তা, দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, সততা ও উৎকর্ষতার সংস্কৃতি গড়ে তুলি। সম্মিলিতভাবে বিমানকে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ এয়ারলাইনে পরিণত করি- যা হবে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের গর্বের উৎস।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের এই নতুন যাত্রার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ মাহমুদ বলেন, দেশের বড় জনগোষ্ঠী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশির সঙ্গে শক্তিশালী বৈশ্বিক যোগাযোগ প্রয়োজন। এ বাস্তবতায় বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে তিনি বাস্তবসম্মত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
এয়ারবাসের নির্বাহী সহসভাপতি মনোয়া দ্য সাঁ-এক্সুপেরি বলেন, এ৩৫০ ও এ৩২১নিও-এর সমন্বয়ে বিমানের জন্য কার্যকর একটি বহর কৌশল তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সম্প্রসারণ এবং বাড়তে থাকা যাত্রী চাহিদা পূরণে এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো সহায়তা করবে।
এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এয়ারবাস কেনার চুক্তি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার।
তিনি বলেন, এয়ারবাস বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন।
মাইকেল মিলার বলেন, এয়ারবাস কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এটি বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্কের দিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এ চুক্তিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা এবং অর্থের যথাযথ মূল্য পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার উপস্থিত ছিলেন।
এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের সহযোগিতা শুধু উড়োজাহাজ কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উড়োজাহাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, এভিয়েশন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরিতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগতভাবে টেকসই এভিয়েশন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানের বহর আধুনিকায়নের সুফল যাত্রী, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য উন্নত আকাশ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে কাজে লাগানো হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে ঢাকা থেকে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সেবা পরিচালনা করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট 









