ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সোমবার অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি কিয়েভে রাশিয়ার দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া কিয়েভের আবাসিক ভবনগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর কয়েক দিন আগেও রুশ হামলায় কিয়েভে ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘বর্বর আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার কৌশল অপরিবর্তিত রয়েছে। তারা ইউক্রেনের মানুষ ও দেশের ওপর যতটা সম্ভব ক্ষতি ও যন্ত্রণা চাপিয়ে দিতে চায়।

তিনি জানান, ইউক্রেন ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের নেই। জেলেনস্কি বলেন, আধুনিক বিশ্বে এমন পরিস্থিতি ‘অযৌক্তিক’, যেখানে মানুষকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

হামলার সময় কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনটির কয়েকটি তলা ধ্বংস হয়ে যায়। হামলার সময় আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ ও আলোর ঝলকানি দেখা যায়।

কিয়েভে ১৬ জন এবং রাজধানীর কাছের ভিশনেভে শহরে আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি মানুষ।

জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ওই রাতে ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ব্যালিস্টিক ধরনের।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়াতেও হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণী।

হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোতে তল্লাশি চালান এবং মৃতদেহ উদ্ধার করেন। অনেক বাসিন্দা আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন।

৬০ বছর বয়সী কিয়েভের বাসিন্দা ওলেক্সান্ডার কোলোমিয়েটস বলেন, ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে তার মনে হয়েছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

৩৬ বছর বয়সী আন্না মিসকো জানান, তিনি ও তার সন্তান অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। হামলার সময় তারা ভবনের নিচতলায় নেমে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে চায় এবং দেশে কোথাও এখন আর পুরোপুরি নিরাপদ জায়গা নেই।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক শিল্প স্থাপনা, জ্বালানি ও জ্বালানি-সংক্রান্ত অবকাঠামো।

কিয়েভের বাসিন্দা ওলেক্সান্ডার সেলেজনভ বলেন, যুদ্ধ একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, রাশিয়া কিয়েভকে বেসামরিক মানুষের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলতে চাইছে।

কর্মকর্তারা জানান, কিয়েভে প্রায় ৩০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিশনেভে শহরে প্রায় ৫০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ক্রয়চুক্তি সই

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪

আপডেট সময় ১২:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সোমবার অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি কিয়েভে রাশিয়ার দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া কিয়েভের আবাসিক ভবনগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর কয়েক দিন আগেও রুশ হামলায় কিয়েভে ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘বর্বর আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার কৌশল অপরিবর্তিত রয়েছে। তারা ইউক্রেনের মানুষ ও দেশের ওপর যতটা সম্ভব ক্ষতি ও যন্ত্রণা চাপিয়ে দিতে চায়।

তিনি জানান, ইউক্রেন ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের নেই। জেলেনস্কি বলেন, আধুনিক বিশ্বে এমন পরিস্থিতি ‘অযৌক্তিক’, যেখানে মানুষকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

হামলার সময় কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনটির কয়েকটি তলা ধ্বংস হয়ে যায়। হামলার সময় আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ ও আলোর ঝলকানি দেখা যায়।

কিয়েভে ১৬ জন এবং রাজধানীর কাছের ভিশনেভে শহরে আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি মানুষ।

জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ওই রাতে ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ব্যালিস্টিক ধরনের।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়াতেও হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণী।

হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোতে তল্লাশি চালান এবং মৃতদেহ উদ্ধার করেন। অনেক বাসিন্দা আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন।

৬০ বছর বয়সী কিয়েভের বাসিন্দা ওলেক্সান্ডার কোলোমিয়েটস বলেন, ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে তার মনে হয়েছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

৩৬ বছর বয়সী আন্না মিসকো জানান, তিনি ও তার সন্তান অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। হামলার সময় তারা ভবনের নিচতলায় নেমে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে চায় এবং দেশে কোথাও এখন আর পুরোপুরি নিরাপদ জায়গা নেই।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক শিল্প স্থাপনা, জ্বালানি ও জ্বালানি-সংক্রান্ত অবকাঠামো।

কিয়েভের বাসিন্দা ওলেক্সান্ডার সেলেজনভ বলেন, যুদ্ধ একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, রাশিয়া কিয়েভকে বেসামরিক মানুষের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলতে চাইছে।

কর্মকর্তারা জানান, কিয়েভে প্রায় ৩০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিশনেভে শহরে প্রায় ৫০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।