এ মুহূর্তে জরুরি কাজ মানুষকে উদ্ধার করা
ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ গত তিন দশকে এমন বন্যা দেখেনি। নজিরবিহীন বন্যায় এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব এলাকার সাড়ে ৩৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে দেশের বড় একটি এলাকা এখন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ভুগছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সহায়তা নিয়ে বন্যা মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জানা গছে, গত ৩৬ বছরে ফেনীতে এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি। এবারের বন্যায় ফেনীর তিনটি উপজেলার ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সবকিছু ল-ভ- হয়ে গেছে। ১০ জেলার ৬৫টি উপজেলার ৪৯৫টি ইউনিয়ন বন্যার কবলে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মোট ৮২ হাজার ৬৯৪ জন মানুষ এবং ৭ হাজার ৭৫৫টি গবাদি পশুকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। গত মাসের শুরুতে ফেনীর কিছু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। তবে এবার স্মরণকালের রেকর্ড বন্যা দেখল জেলাটির মানুষ। বন্যায় সড়ক ও রেলপথ তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির মোটাদাগে কারণ তিনটি। এক. ভারত থেকে পাহাড়ি ঢল, দুই. উভয় দেশে অতিবৃষ্টি এবং তিন. একই সময়ে সমুদ্র ফুলে ওঠা অর্থাৎ জোয়ার। এতে যা হচ্ছে, বৃষ্টির পানি বঙ্গোপসাগরে নামতে পারছে না। সমুদ্র ফুলে ওঠায় অঞ্চলগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এ তিন কারণে অভূতপূর্ব এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে বন্যা নতুন কিছু নয়। তবে এবার যেসব জেলায় বন্যা হয়েছে, সেসব এলাকার পরিস্থিতি সাধারণত এতটা খারাপ কখনো হয় না। আবার এত দ্রুত পরিস্থিতি খারাপও সাধারণত হয় না। এবারের বন্যায় পানি এত দ্রুত বেড়েছে যে, অনেক এলাকায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ারও সময় পায়নি। এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ মানুষকে উদ্ধার করা। প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ ভেঙে গেছে, ভাঙার উপক্রম হয়েছে। এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনসহ কোস্ট গার্ড উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। শুকনা খাবার, স্যালাইন- এসব প্রশাসনিকভাবে দিতে হবে। স্কুলগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দিতে হবে। সঠিকভাবে উদ্ধারকাজ না চালালে অনেকেই মারা যেতে পারে। অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ হলো। আশা করা যায়, তারা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এরই মধ্যে নিয়েছেও। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রশাসনকেও। দেশে বহু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আছে, তাদেরও এ ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।
নিজস্ব সংবাদ : 















