ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :

কুষ্টিয়ায় কমছে গড়াইয়ের পানি বাড়ছে ভাঙন

নিজ সংবাদ ॥ ‘দুইদিকেই বাঁধ আছে। তয় মধ্যি নেই। এহন নদীর পানি কমছে আর ভাঙছে। পেত্যেকবার নদী ভাঙে, লোকজন আসে। তবে বাঁধ হয় না। ভাঙন নিয়ে সগলেই (সবাই) আতঙ্কে আছে।’ আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফজলু মিস্ত্রির স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫৫)। গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে কুমারখালী পৌরসভা ও উপজেলা শহর অবস্থিত। ১৮৬৯ সালে গঠিত প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কু ুপাড়া এলাকার হিম্মত মোড় থেকে গড়াই ইকোপার্ক পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় নেই বাঁধ। এর মধ্যে চলতি বছর ওই এলাকার প্রায় ১৫০-২০০ মিটার অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। গেল দু-তিন দিন ধরে ভাঙলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে হুমকির মুখে পড়েছেন গড়াই ইকোপার্ক, পার্কের মসজিদসহ অন্তত ৬০ থেকে ৭৫টি বসতবাড়ি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০০৩ সালে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কু ুপাড়া ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকান্দি এলাকায় কয়েক কিলোমিটার ব্লক দিয়ে শহর রক্ষায় পাকা বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে পাউবো কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় প্রায় ২১ বছরেও কু ুপাড়ার হিম্মত মোড় থেকে গড়াই ইকোপার্ক পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় কাঁচা বা পাকা কোনো বাঁধ নির্মাণ হয়নি। এতে প্রতিবছরই ভাঙতে ভাঙতে গড়াই নদী বাঁকা হয়ে ঢুকে পড়ছে জনবসতি এলাকায়। গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। গড়াই ইকোপার্কের মসজিদ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরের কয়েকটি স্থানে প্রায় ১৫০-২০০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিলন হোসেন জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে তাদের এলাকায় গড়াই পাড় ভাঙছে। নদীতে ভাঙন লাগলে প্রশাসনের লোকজন  আসেন। এলাকাবাসীকে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু বাঁধ আর নির্মাণ হয়নি। এবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি গড়াই তীরে দ্রুত পাকা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। কু ুপাড়ার আমিরুলের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন বলেন, গড়াইয়ে পানি কমলেও ভাঙে, বাড়লেও ভাঙে। চলতি বছর ফের নদীর পাড়ে ভাঙন লেগেছে। কখন কার বসতঘর নদীতে বিলীন হয়– এই ভেবে সবাই খুব আতঙ্কিত। ২০০৩ সালে কেন মাঝখানে ফাঁকা রেখে দু’পাশে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল তা জানেন না কুষ্টিয়া পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইয়ামিন হক। তিনি বলেন, পৌরসভার কু ুপাড়া এলাকায় ১৫০-২০০ মিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গড়াই নদী প্রকল্প-২ পাস হলে সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম   বলেন, পৌরসভার কু ুপাড়া এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাউবো কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ক্রয়চুক্তি সই

কুষ্টিয়ায় কমছে গড়াইয়ের পানি বাড়ছে ভাঙন

আপডেট সময় ০৮:২৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ ‘দুইদিকেই বাঁধ আছে। তয় মধ্যি নেই। এহন নদীর পানি কমছে আর ভাঙছে। পেত্যেকবার নদী ভাঙে, লোকজন আসে। তবে বাঁধ হয় না। ভাঙন নিয়ে সগলেই (সবাই) আতঙ্কে আছে।’ আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফজলু মিস্ত্রির স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫৫)। গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে কুমারখালী পৌরসভা ও উপজেলা শহর অবস্থিত। ১৮৬৯ সালে গঠিত প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কু ুপাড়া এলাকার হিম্মত মোড় থেকে গড়াই ইকোপার্ক পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় নেই বাঁধ। এর মধ্যে চলতি বছর ওই এলাকার প্রায় ১৫০-২০০ মিটার অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। গেল দু-তিন দিন ধরে ভাঙলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে হুমকির মুখে পড়েছেন গড়াই ইকোপার্ক, পার্কের মসজিদসহ অন্তত ৬০ থেকে ৭৫টি বসতবাড়ি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০০৩ সালে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কু ুপাড়া ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকান্দি এলাকায় কয়েক কিলোমিটার ব্লক দিয়ে শহর রক্ষায় পাকা বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে পাউবো কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় প্রায় ২১ বছরেও কু ুপাড়ার হিম্মত মোড় থেকে গড়াই ইকোপার্ক পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় কাঁচা বা পাকা কোনো বাঁধ নির্মাণ হয়নি। এতে প্রতিবছরই ভাঙতে ভাঙতে গড়াই নদী বাঁকা হয়ে ঢুকে পড়ছে জনবসতি এলাকায়। গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। গড়াই ইকোপার্কের মসজিদ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরের কয়েকটি স্থানে প্রায় ১৫০-২০০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিলন হোসেন জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে তাদের এলাকায় গড়াই পাড় ভাঙছে। নদীতে ভাঙন লাগলে প্রশাসনের লোকজন  আসেন। এলাকাবাসীকে বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু বাঁধ আর নির্মাণ হয়নি। এবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি গড়াই তীরে দ্রুত পাকা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। কু ুপাড়ার আমিরুলের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন বলেন, গড়াইয়ে পানি কমলেও ভাঙে, বাড়লেও ভাঙে। চলতি বছর ফের নদীর পাড়ে ভাঙন লেগেছে। কখন কার বসতঘর নদীতে বিলীন হয়– এই ভেবে সবাই খুব আতঙ্কিত। ২০০৩ সালে কেন মাঝখানে ফাঁকা রেখে দু’পাশে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল তা জানেন না কুষ্টিয়া পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইয়ামিন হক। তিনি বলেন, পৌরসভার কু ুপাড়া এলাকায় ১৫০-২০০ মিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গড়াই নদী প্রকল্প-২ পাস হলে সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম   বলেন, পৌরসভার কু ুপাড়া এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাউবো কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।