সুন্দরবনের জলদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীরসহ ২৭ দস্যু আত্মসমর্পণ করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেন এ দস্যু বাহিনী।
এ সময় ৩টি বিদেশি বন্দুক, ১টি এইট শুটার, ১টি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনালা বন্দুক, ১৫ টি দেশীয় পাইপগান, ২টি চায়না পাইপ গান,৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেয় দস্যু বাহিনী।
এ সময় কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বনবিভাগ, র্যাবের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ২০১৮ সালেও র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুইটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এ অভিযানের প্রেক্ষিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। যার ফলে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ জলদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ ও তার সহযোগী সদস্যরা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই বিকাল ৫ টার দিকে সুন্দরবনের চরাপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ ও তার সহযোগীসহ মোট ২৭ জন দস্যু অস্ত্র ও গুলিসহ অনানুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণ করা হয়। এরপর আজ (১৪ জুলাই )মঙ্গলবার সকালে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়। এর আগে, ২০১৮ সালেও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো। আত্মসমর্পণকারী দস্যু জাহাঙ্গীর শেখ, মুজাহিদ গাজী, বিল্লাল শেখ, জাহিদ হাসান,সুমন ঢালী,এরশাদ শিকারী, ওয়াহিদুজ্জামান,আইয়ুব শেখ,রাফসান ঢালী,পারভেজ শেখ,কামরুল শেখ, জহুরুল গাজী, সিরাজুল তরফদার, আমিনুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম, বাবুল শেখ, শাজাহান শেখ,হেলাল, খুলনা জেলার কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। আকরাম শেখ, নুরুল ইজারাদার, হাসান শেখ, কামরুল শেখ, জিয়া শেখ, কবির সুলতান, কাইয়ুম, শরিফুল বয়াতী বাগেরহাট জেলার রামপাল, কচুয়া, ফকিরহাট, শরনখোলা বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে সুন্দরবনের সব দস্যু বাহিনীকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে অন্যথায় আরও কঠোর অবস্থানে যাবে কোস্ট গার্ড।
জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পনকৃত ডাকাতদের পূর্ণবাসন সহ পরবর্তী আইননুগ কার্য ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধিন রয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট 










