নিজের চাচাকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
বুধবার (৫ অক্টোবর) তাকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
কামাল হোসেন তার জন্মদাতা পিতা-মাতা মো. আবুল কাশেম ও মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে নিজের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা দেখিয়ে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পান।
মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর দুদকের সম্মিলিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এর উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
কামাল হোসেনের প্রকৃত মা-বাবা কারা, তা নিশ্চিত হতে গতকাল মঙ্গলবার ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক দিন পর ইউএনও কামাল হোসেনকে ওএসডি করা হলো।
এর আগে গত বছর ২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীতে ইউএনও কামাল হোসেনের জন্মদাতা পিতা-মাতা পরিবর্তে নিজের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চাচিকে পিতা-মাতা দেখিয়ে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পান। এই সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে চ্যানেল-২৪ এর কুষ্টিয়ার স্টাফ রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস, ক্যামেরাপার্সন এসআই সুমন ও স্থানীয় সাংবাদিক বিদ্যুৎ হোসেন এর উপর ইউএনওর চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এর নেতৃত্বে স্থানীয় বাচ্চু সহ ৮/১০ জন সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা করে। সে সময় প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে তাদের মারধর করে এবং তাদের ক্যামেরা ভেঙে ফেলে।

সাংবাদিক শরীফ বিশ্বাস বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। কাঠের চলা ও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছিল। ক্যামেরা ভাঙচুর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল সে সময়।
এ ঘটনায় সেই দিনই সন্ধ্যায় দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন সাংবাদিক শরীফ বিশ্বাস। তবে অদৃশ্য কারণে আজ পর্যন্ত সেই মামলা আলোর মুখ দেখেনি। সাংবাদিক শরীফ বিশ্বাস আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের উপর হামলার সময় দৌলতপুর থানা পুলিশকে জানালেও তারা আমাদের উদ্ধার করতে যেতেও গড়িমসি করে।
ডেস্ক রিপোর্ট 










