ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভাড়ায় জিম্মি’ ঢাকায় ফেরা মানুষ

আগামীকাল খুলছে সব সরকারি অফিস-আদালত। তাই ঈদের ছুটি কাটিয়ে শেষ সময়ে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। তবে নিরাপদে ঢাকায় ফিরলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে ছিল বিস্তর অভিযোগ-আপত্তি।

শনিবার (১৪ জুন সকাল থেকেই ঢাকার সায়দাবাদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি দিন গ্রামে কাটিয়ে এখন আবারও কর্মস্থল ও রাজধানীর দৈনন্দিন জীবনে ফিরছেন তারা। এতে রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন দীর্ঘ যানজটে, বিশেষ করে পোস্তগোলায় যানজট বেশ ভুগিয়েছে যাত্রীদের। যানজট দেখা গেছে সায়েদাবাদ জনপদ মোড়সহ ফ্লাইওভারের নীচে ও যাত্রাবাড়ী এলাকায়। একই দৃশ্য দেখা গেছে গোলাপবাগ ও মানিকনগর বিশ্বরোড এলাকাতেও।

যাত্রীরা জানান, পদ্মা সেতু হওয়ায় দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের সড়কে ভোগান্তি কমেছে। একইভাবে কাঁচপুর পর্যন্ত চার লেন হওয়ায় যানজট ছিল না। তবে রায়েরবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী ও পোস্তগোলা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত যানজট থাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মেহেরপুর থেকে ফেরা গোল্ডেন পরিবহনের যাত্রী নোমান বলেন, মেহেরপুর থেকে ঢাকা আসছি নিরাপদে। তবে পোস্তগোলার যানজটের কারণে মনে হচ্ছে বাসায় ফেরার আগে অসুস্থ হয়ে যাবে। এমনিতে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কাউন্টারের নানা জটিলতায় পড়তে হয়।

কেমন ভাড়া নিচ্ছে জানতে চাইলে ইয়ারুল নামে অন্য এক যাত্রী বলেন, মেহেরপুরের গাংনী থেকে ভাড়া ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা। ঈদের পরে ভাড়া আদায় করছে ৯০০ টাকা। এভাবেই ঈদের আগে-পরে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে কাউন্টারগুলো।

এসবি পরিবহনের যাত্রী রিপন বলেন, স্বাভাবিক ভাড়া ৭৫০ টাকা, অনলাইনে টিকিট প্রিন্টের সময়ও লিখা ছিল ৭৫০ টাকা। কিন্তু নেওয়া হলো ৮০০ টাকা। এখানে দরদামের কোনো সুযোগ নেই। না নিলে কাউন্টার ত্যাগের পরামর্শ দেন কাউন্টার মাস্টাররা।

নোয়াখালীর মাইজদী থেকে আসা হিমাচল পরিবহনের যাত্রী রবিউল আলম বলেন, ভোরের দিকে ঢাকার আগে রায়েরবাগ এলাকায় পৌঁছে যানজটে পড়তে হয়। ভ্যাপসা গরমে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কষ্ট হয়। তাছাড়া ঢাকার বাইরের সড়কপথে কোনো বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হয়নি।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, দুপুর ও সন্ধ্যায় এই চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ অনেকেই সপ্তাহ শুরু হওয়ার আগে রাজধানীতে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কেউ কমেন্ট করতে রাজি হননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি, শনাক্ত করল কাস্টমস

‘ভাড়ায় জিম্মি’ ঢাকায় ফেরা মানুষ

আপডেট সময় ০৪:০২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

আগামীকাল খুলছে সব সরকারি অফিস-আদালত। তাই ঈদের ছুটি কাটিয়ে শেষ সময়ে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। তবে নিরাপদে ঢাকায় ফিরলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে ছিল বিস্তর অভিযোগ-আপত্তি।

শনিবার (১৪ জুন সকাল থেকেই ঢাকার সায়দাবাদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি দিন গ্রামে কাটিয়ে এখন আবারও কর্মস্থল ও রাজধানীর দৈনন্দিন জীবনে ফিরছেন তারা। এতে রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন দীর্ঘ যানজটে, বিশেষ করে পোস্তগোলায় যানজট বেশ ভুগিয়েছে যাত্রীদের। যানজট দেখা গেছে সায়েদাবাদ জনপদ মোড়সহ ফ্লাইওভারের নীচে ও যাত্রাবাড়ী এলাকায়। একই দৃশ্য দেখা গেছে গোলাপবাগ ও মানিকনগর বিশ্বরোড এলাকাতেও।

যাত্রীরা জানান, পদ্মা সেতু হওয়ায় দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের সড়কে ভোগান্তি কমেছে। একইভাবে কাঁচপুর পর্যন্ত চার লেন হওয়ায় যানজট ছিল না। তবে রায়েরবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী ও পোস্তগোলা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত যানজট থাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মেহেরপুর থেকে ফেরা গোল্ডেন পরিবহনের যাত্রী নোমান বলেন, মেহেরপুর থেকে ঢাকা আসছি নিরাপদে। তবে পোস্তগোলার যানজটের কারণে মনে হচ্ছে বাসায় ফেরার আগে অসুস্থ হয়ে যাবে। এমনিতে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কাউন্টারের নানা জটিলতায় পড়তে হয়।

কেমন ভাড়া নিচ্ছে জানতে চাইলে ইয়ারুল নামে অন্য এক যাত্রী বলেন, মেহেরপুরের গাংনী থেকে ভাড়া ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা। ঈদের পরে ভাড়া আদায় করছে ৯০০ টাকা। এভাবেই ঈদের আগে-পরে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে কাউন্টারগুলো।

এসবি পরিবহনের যাত্রী রিপন বলেন, স্বাভাবিক ভাড়া ৭৫০ টাকা, অনলাইনে টিকিট প্রিন্টের সময়ও লিখা ছিল ৭৫০ টাকা। কিন্তু নেওয়া হলো ৮০০ টাকা। এখানে দরদামের কোনো সুযোগ নেই। না নিলে কাউন্টার ত্যাগের পরামর্শ দেন কাউন্টার মাস্টাররা।

নোয়াখালীর মাইজদী থেকে আসা হিমাচল পরিবহনের যাত্রী রবিউল আলম বলেন, ভোরের দিকে ঢাকার আগে রায়েরবাগ এলাকায় পৌঁছে যানজটে পড়তে হয়। ভ্যাপসা গরমে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কষ্ট হয়। তাছাড়া ঢাকার বাইরের সড়কপথে কোনো বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হয়নি।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, দুপুর ও সন্ধ্যায় এই চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ অনেকেই সপ্তাহ শুরু হওয়ার আগে রাজধানীতে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কেউ কমেন্ট করতে রাজি হননি।