ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা কাজ করছিল। প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দল চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাছাড়া প্রধান উপদেষ্টা এপ্রিলে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণায় রাজনীতিতে একটি চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার রাতে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, আজকের বৈঠকে তারেক রহমান ডিসেম্বর থেকে সরে ফেব্রুযারিতে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টাও শর্তসাপেক্ষে তা বিবেচনার কথা বলেছেন। নিজস্ব অবস্থানকে যৌক্তিক কারণে পুনর্বিবেচনা করার এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
দলটির মুখপাত্র আরও বলেন, ‘সংস্কার, বিচার ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে নীতিগত সমর্থন পাওয়া গেছে আজকের বৈঠকে। এটা স্বৈরতন্ত্রমুক্ত আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের পথকে মসৃন করবে বলে বিশ্বাস করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।’
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকের পরে রাজনীতিতে বিদ্যমান উত্তেজনা কেটে যাবে, অনিশ্চয়তা দূর হবে এবং বৃহত্তর ঐকমত্য তৈরি হবে।’
শীর্ষ দুই নেতার বৈঠকের পরে প্রেস বিফিংয়ে উপদেষ্টা জনাব খলিলুর রহমানের শব্দ প্রয়োগকে বিস্ময়কর আখ্যায়িত করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘ড. ইউনূস বাংলাদেশের সরকার প্রধান। তারেক রহমান একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান মাথায় রেখেও একথা সত্য যে, তারেক রহমান দেশের রাজনীতির একক প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাদের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হলেও আক্ষরিক অর্থে এটা দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে একজন রাজনৈতিক নেতার সংলাপ।’
‘এই সংলাপের পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বারবার ‘যৌথ বিবৃতি’ বলা বিস্ময়কর। একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রের ‘যৌথ বিবৃতি’ প্রদান শোভনীয় না। একই সঙ্গে একক বিএনপির মতামতের ভিত্তিতে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়াও শোভনীয় নয়’ বলে মনে করেন গাজী আতাউর।
নিজস্ব সংবাদ : 










