ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
হত্যার ৫ বছর পর মামলা

কুষ্টিয়া ৪ আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রউফ গ্রেফতার

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মো. সুজন মালিথা (৪৫)কে হত্যার অভিযোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন দলীয় ভাই পরিচয়ে মো. সুজন হোসেন (৪২)। মামলায় কুষ্টিয়ার সাবেক এসপি, ওসি, আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১০ থেকে ১২ জনকে। উক্ত মামলার ৮ নম্বর আসামি কুষ্টিয়া ৪ ( কুমারখালী – খোকসা) আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টায় র‌্যাবের সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখার সহযোগীতায় ঢাকার মিরপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১ টা ৪৬ মিনিটে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কুষ্টিয়া র‌্যাব – ১২, সিপিসি -১ এর স্কোয়াড্রন লিডার কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান।আব্দুর রউফ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক মার্কা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত হাজী মোকাদ্দেস হোসেনের ছেলে। বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান জানান, গত ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া পূর্ব ক্যানালের পাড়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুষ্কৃতিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোঃ সুজন মালিথা(৪৫)কে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সদর থানার টাকিমারা এলাকার ইসমাইল মালিথার ছেলে। এ ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় উক্ত মামলার ৮ নম্বর আসামি আব্দুর রউফকে ঢাকার মিরপুর থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন – কুষ্টিয়ার সাবেক এসপি এস এম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া মডেল থানার সাবেক ওসি মোঃ নাসির উদ্দিন ও এ কে এম মিজানুর রহমান, উপ পরিদর্শক সাহেব আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, কুষ্টিয়া ৩ আসনের সাবেক এমপি মাহবুবুল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান টোকন চৌধুরী, কোর্টপাড়া এলাকার জিনাত আলীর ছেলে সাইফুদ্দৌলা তরু, সাদ্দাম বাজার এলাকার মানাহারুলের ছেলে রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, মহিদুল কমিশনার, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ আরিফুর হোসেন সজীব, শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি সোহাগ আলী, কৌশিক আহমেদ বিচ্ছু। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, নিহত সুজন মালিথা কুষ্টিয়ার নিয়মিত বিএনপির বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদের উৎসাহ প্রদান করিতেন। সেজন্য আসামীদের কাছে তিনি শত্রু হিসাবে পরিনত হয় এবং তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপির প্রোগ্রাম শেষ করে রাতে নিজ বাড়িতে আসলে রাত আনুমানিক ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে আসামীরা তাকে জোর পূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়। এরপর রাত দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন মোল্লাতেঘরিয়া পূর্ব ক্যানালের পাড়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পরে নিহত সুজন মালিথার দলীয় ভাই পরিচয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মো. সুজন হোসেন (৪২) বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তিনি কুষ্টিয়া সদর থানার লালন শাহ সড়ক এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। এবিষয়ে জানতে মামলার বাদী মো. সুজন হোসেনকে ফোন দেওয়া হয়। ফোনটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কুষ্টিয়া ৪ আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রউফের স্ত্রী জান্নাতুন নাহার ফোনে বলেন, ‘ আমার স্বামী একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ও জনদরদি। ঘটনার ৫ বছর পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ( স্বামী) ফাঁসানো হয়েছে। আমি এ হয়রানিমূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাহারের দাবি জানাই ‘।

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ক্রয়চুক্তি সই

হত্যার ৫ বছর পর মামলা

কুষ্টিয়া ৪ আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রউফ গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৮:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মো. সুজন মালিথা (৪৫)কে হত্যার অভিযোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন দলীয় ভাই পরিচয়ে মো. সুজন হোসেন (৪২)। মামলায় কুষ্টিয়ার সাবেক এসপি, ওসি, আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১০ থেকে ১২ জনকে। উক্ত মামলার ৮ নম্বর আসামি কুষ্টিয়া ৪ ( কুমারখালী – খোকসা) আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টায় র‌্যাবের সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখার সহযোগীতায় ঢাকার মিরপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১ টা ৪৬ মিনিটে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কুষ্টিয়া র‌্যাব – ১২, সিপিসি -১ এর স্কোয়াড্রন লিডার কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান।আব্দুর রউফ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক মার্কা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত হাজী মোকাদ্দেস হোসেনের ছেলে। বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব কমান্ডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান জানান, গত ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া পূর্ব ক্যানালের পাড়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুষ্কৃতিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোঃ সুজন মালিথা(৪৫)কে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সদর থানার টাকিমারা এলাকার ইসমাইল মালিথার ছেলে। এ ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় উক্ত মামলার ৮ নম্বর আসামি আব্দুর রউফকে ঢাকার মিরপুর থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা জেলার গোয়েন্দা শাখার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন – কুষ্টিয়ার সাবেক এসপি এস এম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া মডেল থানার সাবেক ওসি মোঃ নাসির উদ্দিন ও এ কে এম মিজানুর রহমান, উপ পরিদর্শক সাহেব আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, কুষ্টিয়া ৩ আসনের সাবেক এমপি মাহবুবুল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান টোকন চৌধুরী, কোর্টপাড়া এলাকার জিনাত আলীর ছেলে সাইফুদ্দৌলা তরু, সাদ্দাম বাজার এলাকার মানাহারুলের ছেলে রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, মহিদুল কমিশনার, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ আরিফুর হোসেন সজীব, শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি সোহাগ আলী, কৌশিক আহমেদ বিচ্ছু। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, নিহত সুজন মালিথা কুষ্টিয়ার নিয়মিত বিএনপির বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদের উৎসাহ প্রদান করিতেন। সেজন্য আসামীদের কাছে তিনি শত্রু হিসাবে পরিনত হয় এবং তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপির প্রোগ্রাম শেষ করে রাতে নিজ বাড়িতে আসলে রাত আনুমানিক ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে আসামীরা তাকে জোর পূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়। এরপর রাত দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন মোল্লাতেঘরিয়া পূর্ব ক্যানালের পাড়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পরে নিহত সুজন মালিথার দলীয় ভাই পরিচয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মো. সুজন হোসেন (৪২) বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তিনি কুষ্টিয়া সদর থানার লালন শাহ সড়ক এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। এবিষয়ে জানতে মামলার বাদী মো. সুজন হোসেনকে ফোন দেওয়া হয়। ফোনটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কুষ্টিয়া ৪ আসনের সাবেক এমপি আব্দুর রউফের স্ত্রী জান্নাতুন নাহার ফোনে বলেন, ‘ আমার স্বামী একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ও জনদরদি। ঘটনার ৫ বছর পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ( স্বামী) ফাঁসানো হয়েছে। আমি এ হয়রানিমূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাহারের দাবি জানাই ‘।