ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাসুদ রানার সংগ্রামের গল্প

মাদ্রাসার শিক্ষক থেকে ইবির ভ্যানচালক

oppo_1024

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপরিচিত ভ্যানচালক মোঃ মাসুদ রানা। তিনি কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার মধুপুর গ্রামের একজন বাসিন্দা। জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি লড়াই করে বেঁচে আছেন, তবে সেই লড়াই ধীরে ধীরে তাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তার জীবন শুরু হয় ছোটবেলার ভয়াবহ দারিদ্র্য, নিঃস্ব শৈশব আর অভাবের তীব্র কষাঘাতের মধ্যদিয়ে। এত কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো হাল ছেড়ে দেননি।

মাত্র চার বছর বয়সে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মামার বাসায় কাজ শুরু করেন। নিজের শৈশব হারিয়ে অন্যের সংসারের ভার টেনে নিতে হয় তাকে। সেখান থেকেই মোহাম্মদপুর নুরানি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। তিন বছরের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ছোট্ট সেই শিশুটি স্বপ্ন দেখতেন বড় হবেন, শিক্ষিত হবেন, আলোর পথে এগিয়ে যাবেন।

তার স্বপ্নের যাত্রা তাকে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার লুধুয়া মাদ্রাসায় নিয়ে যায়, যেখানে তিনি হেফজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-আর্থিক সংকট তার পড়াশোনার পথ রুদ্ধ করে দেয়। কিতাব বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। এরপর জীবনের তাগিদে মাসুদ রানা একটি বেসরকারি নতুন মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। পবিত্র এই পেশায় থেকেও তার আয়ের সীমাবদ্ধতা ছিল মাত্র ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা। প্রতিদিন নতুন সংকটে পড়তে হয়। অবশেষে এলাকায় ফিরে এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাস্থ হরিনারায়ণপুর পাশে বেড়বারাদিতে একটি মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব নেন। সেখানেও  বেতন নেই। পরে প্রায় ২৫ বছর ধরে ঢাকার একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করে পরিবারকে টিকিয়ে রাখার  চেষ্টা করেছেন। তবুও শান্তি পাননি। অবশেষে নিজ এলাকায় ফিরে এসে স্বাধীন পেশায় প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে মাসুদ রানা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যান চালান। এই আয়ে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কোনোরকমে  টেনে নিয়ে চলছেন। তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে তার পরিবারের সামান্য সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যও এখন দূরের স্বপ্ন। তার সামান্য জমি আছে, তবে নিজের টিন কিনে ঘর তোলার মতো সামর্থ্য নেই। বর্তমানে একটি অস্থায়ীভাবে এক বাড়িতে থেকে দিন পার করছেন।

এই অসহায়তার মধ্যেও মাসুদ রানার একমাত্র স্বপ্ন একটি ছোট্ট টিনের ঘর, যেখানে তার পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। বিদ্যুৎ, পানি; এই মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা। এটাই তার জন্য আজ সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। মাসুদ রানার জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প করুণ শোনায়। আমাদের সকলের সম্মিলিত সাহায্যে হয়তো একজন মানুষ ও তার পরিবার ফিরে পাবে একটু সচ্ছল জীবন। সেই আশায় তারা হয়তো আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে। (সাহায্যের জন্য তাঁর মুঠোফোন নাম্বার :- ০১৭২২-৮৭৮৩৬৪)

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসুদ রানার সংগ্রামের গল্প

মাদ্রাসার শিক্ষক থেকে ইবির ভ্যানচালক

আপডেট সময় ১১:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপরিচিত ভ্যানচালক মোঃ মাসুদ রানা। তিনি কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার মধুপুর গ্রামের একজন বাসিন্দা। জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি লড়াই করে বেঁচে আছেন, তবে সেই লড়াই ধীরে ধীরে তাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তার জীবন শুরু হয় ছোটবেলার ভয়াবহ দারিদ্র্য, নিঃস্ব শৈশব আর অভাবের তীব্র কষাঘাতের মধ্যদিয়ে। এত কষ্টের মধ্যেও তিনি কখনো হাল ছেড়ে দেননি।

মাত্র চার বছর বয়সে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মামার বাসায় কাজ শুরু করেন। নিজের শৈশব হারিয়ে অন্যের সংসারের ভার টেনে নিতে হয় তাকে। সেখান থেকেই মোহাম্মদপুর নুরানি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। তিন বছরের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ছোট্ট সেই শিশুটি স্বপ্ন দেখতেন বড় হবেন, শিক্ষিত হবেন, আলোর পথে এগিয়ে যাবেন।

তার স্বপ্নের যাত্রা তাকে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার লুধুয়া মাদ্রাসায় নিয়ে যায়, যেখানে তিনি হেফজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-আর্থিক সংকট তার পড়াশোনার পথ রুদ্ধ করে দেয়। কিতাব বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। এরপর জীবনের তাগিদে মাসুদ রানা একটি বেসরকারি নতুন মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেন। পবিত্র এই পেশায় থেকেও তার আয়ের সীমাবদ্ধতা ছিল মাত্র ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা। প্রতিদিন নতুন সংকটে পড়তে হয়। অবশেষে এলাকায় ফিরে এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাস্থ হরিনারায়ণপুর পাশে বেড়বারাদিতে একটি মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব নেন। সেখানেও  বেতন নেই। পরে প্রায় ২৫ বছর ধরে ঢাকার একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করে পরিবারকে টিকিয়ে রাখার  চেষ্টা করেছেন। তবুও শান্তি পাননি। অবশেষে নিজ এলাকায় ফিরে এসে স্বাধীন পেশায় প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে মাসুদ রানা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যান চালান। এই আয়ে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কোনোরকমে  টেনে নিয়ে চলছেন। তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে তার পরিবারের সামান্য সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যও এখন দূরের স্বপ্ন। তার সামান্য জমি আছে, তবে নিজের টিন কিনে ঘর তোলার মতো সামর্থ্য নেই। বর্তমানে একটি অস্থায়ীভাবে এক বাড়িতে থেকে দিন পার করছেন।

এই অসহায়তার মধ্যেও মাসুদ রানার একমাত্র স্বপ্ন একটি ছোট্ট টিনের ঘর, যেখানে তার পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। বিদ্যুৎ, পানি; এই মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা। এটাই তার জন্য আজ সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। মাসুদ রানার জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প করুণ শোনায়। আমাদের সকলের সম্মিলিত সাহায্যে হয়তো একজন মানুষ ও তার পরিবার ফিরে পাবে একটু সচ্ছল জীবন। সেই আশায় তারা হয়তো আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে। (সাহায্যের জন্য তাঁর মুঠোফোন নাম্বার :- ০১৭২২-৮৭৮৩৬৪)