ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ ভেড়ামারা পৌর এলাকায় আরসিসি ড্রেন নির্মাণে অস্বাভাবিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পৌর এলাকার হিসনা নদী থেকে দক্ষিণ রেল গেট পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছিল এ ড্রেনটি। প্রায় ১৪০০ মিটার (৪৫০০ ফুট) দীর্ঘ এই ড্রেনটি তৈরি করতে ব্যয় করা হয়েছে ৫ কোটি ১৯ লাখ টাকারও বেশি। এলজিইডির আওতায় ড্রেনটির নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিএম ওয়াটার কোম্পানি লিমিটেড। যেহেতু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বহিরাগত তাই কাজে বিভিন্ন আশঙ্কা হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনাই কাজটি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন রাজুর তত্ত্বাবধানে এলাকার প্রভাবশালী জাসদ নেতা আতিয়ারসহ তার সহযোগী সাব ঠিকাদারদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। কাজটির প্রভাবশালী নেতার আদলে যাওয়ার পর থেকেই ভয়ংকর দুর্নীতি ও পুকুর চুরি শুরু হয়ে যায়। নামমাত্র কাজ করে কোটি কোটি টাকা হরিলুট করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন সূত্র মাধ্যমে জানা যায় এই কাজের তদারকির দায়ভার ছিল ভেড়ামারা পৌর সহকারী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার ও ভেড়ামারা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী সোহানুর রহমান শিশিরের উপর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্মাণাধীন এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায় ড্রেন নির্মাণের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে কাজের সাইটে এসে নানা অনিয়ম ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের চিত্র উঠে আসে। উক্ত কাজে ঢালাই এর জন্য পঞ্চগড় সিলেকশন বালি ও পাথরের ব্যবহারের কথা থাকলেও পাশাপাশি ইটের খোয়া এবং পূর্বের ড্রেন ভাঙ্গার রাবিশ ও নিম্নমানের পদ্মা নদীর বালি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও রডের সেন্টার টু সেন্টার মাপের ক্ষেত্রেও করেছে দুর্নীতি। যেটা থাকার কথা ছিল তার থেকে ফাঁকা ফাঁকা করে রড বেঁধে ঢালাই দিয়েছে। বেড তৈরীর ক্ষেত্রে ভালোভাবে কম্প্যাকশন ও ঢালাই এর পুরত্ব কম দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। আরসিসি ঢালাই এর ক্ষেত্রে সিমেন্ট, বালি ও পাথরের রেশিও ঠিকমতো মানা হয়নি। যখন গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হতো যেমন ঢালাই ঠিকমতো হচ্ছে কিনা রড ঠিকমতো বাধাই হচ্ছে কিনা এসব তদারকির সময় ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সাইটে এসে পাওয়া যেত না। আবার এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন সুপারভাইজার জানান, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম সারোয়ার ও সোহানুর রহমান শিশির কে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে। সেই জন্য কাজের সাইটে তেমন তাদের চোখে পড়তো না বা তদারকি করতে দেখা যেত না। ভেড়ামারা বাসীদের জন্য এই ড্রেনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই ড্রেনের মাধ্যমে পৌরসভার বেশিরভাগ পানি বের হয়ে নদীতে পড়তো। অথচ এই ড্রেনের ক্ষেত্রে করা হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। স্থানীয় একাধিক বাড়ির মালিক জানান, ড্রেন নির্মাণের সময় কতকগুলো বাড়ির জমি ড্রেনের মধ্যে পড়েছে সেইগুলো ভেঙে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রকৌশলীদের যোগসাজেসে উক্ত বাড়িগুলো থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ড্রেনের আয়তন পরিবর্তন সহ লাইনের পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব নিয়ে খতিয়ে দেখতে আহ্বান জানান স্থানীয়রা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীকে বিভিন্ন রকমের কলা কৌশল যুক্ত কথা বলতে থাকেন এবং উৎকোচ দেওয়ার জন্য পাঁয়তারা খুঁজতে থাকে। পরবর্তীতে যখন রিপোর্টাররা কোন প্রকারের উৎকোচ গ্রহণ বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে নিশ্চিত করলে তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দাবিয়ে রাখার জন্য বলেন কাজটি জেলা আওয়ামী লীগের দুর্র্ধষ নেতা ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্যের এপিএস আমজাদ হোসেন রাজুর কাজ। অনিয়মের বিষয়ে ভেড়ামারা প্রকৌশলী জনাব গোলাম সরোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ড্রেন নির্মাণের স্থানে পৌর কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী উপস্থিত ছিল এবং আমরাও যথাসাধ্য তদারকি করেছি। কাজের বিষয়ে কতটুকু নিয়ম পালন করা হয়েছে বা হয়নি সেটা কর্তৃপক্ষ দেখার দায়িত্ব আপনাদের নয়। গোলাম সরোয়ার আরো জানান, তিনি একজন সাংবাদিক বড় নেতার আত্মীয়। এছাড়াও তিনিও বিভিন্নভাবে অদৃশ্য হুমকি ধামকি এবং ক্ষমতার দাপট দেখাতে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক স্থানীয়রা দাবি করেন ড্রেনটি পুনঃনির্মাণ না করলে অল্প সময়ে মধ্যে এলাকাবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টপ নিউজ :
ভেড়ামারায় ড্রেন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে
-
নিজস্ব সংবাদ : - আপডেট সময় ০৮:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- 48
জনপ্রিয় সংবাদ















