ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় বালুর ঘাট দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বালুরঘাট দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন- মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া গোরস্থানপাড়া গ্রামের মৃত মনিরুদ্দিনের ছেলে রাশিদুজ্জামান রাশেদ (৪৫), তার বড় ভাই আব্দুস সালাম (৫০) ও বালু ব্যবসায়ী পাপ্পু ইসলাম (৩৪)। তারা সবাই বালু ব্যবসায়ী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর সমর্থক। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলামের সমর্থকরা এ হামলায় জড়িত বলে দাবি করেছেন আহতরা।  গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া গ্রামের গোরস্থান বালুর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্র জানায়, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলে আসছে। আহতের ভাই ও বালু ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রায় দুই যুগ ধরে রানাখড়িয়া ঘাটে বালুর ব্যবসা করি। ৫ আগস্টের পর বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। আওয়ামী লীগের লোকজন আগে ঘাট নিয়ন্ত্রণ করতো। রাগীব রউফ চৌধুরী অনুগত বিএনপি নেতা-কর্মিরা পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে ঘাট পরিচালনা করে আসছিল। এতে চোখ পড়ে বিএনপির সাবেক এমপি শহীদুল ইসলামের লোকজনের। গত পরশুদিন নদী থেকে ঘাটে বালু এনে জড়ো করে রাগীব রউফ চৌধুরীর সমর্থকরা।  এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের সমর্থক সাইফুল ইসলাম, জসিম, জুয়েল, আশরাফুল ইসলাম, আসলাম উদ্দিন, শাওন বিশ্বাস, আকাইলেসহ প্রায় শতাধিক লোকজন পিস্তলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তারা চর ও বালুর ঘাট দখলের উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের পক্ষের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘাট দখল করতে যাইনি। তারা জয় বাংলার স্লোগান দিচ্ছিল। এজন্য তাদেরকে মারপিট করা হয়েছে। তারাও আমাদের মারপিট করেছে। এ ব্যাপারে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ বলেন, বালুরঘাট দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় বালুর ঘাট দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

আপডেট সময় ১২:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বালুরঘাট দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন- মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া গোরস্থানপাড়া গ্রামের মৃত মনিরুদ্দিনের ছেলে রাশিদুজ্জামান রাশেদ (৪৫), তার বড় ভাই আব্দুস সালাম (৫০) ও বালু ব্যবসায়ী পাপ্পু ইসলাম (৩৪)। তারা সবাই বালু ব্যবসায়ী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর সমর্থক। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলামের সমর্থকরা এ হামলায় জড়িত বলে দাবি করেছেন আহতরা।  গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া গ্রামের গোরস্থান বালুর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্র জানায়, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলে আসছে। আহতের ভাই ও বালু ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রায় দুই যুগ ধরে রানাখড়িয়া ঘাটে বালুর ব্যবসা করি। ৫ আগস্টের পর বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। আওয়ামী লীগের লোকজন আগে ঘাট নিয়ন্ত্রণ করতো। রাগীব রউফ চৌধুরী অনুগত বিএনপি নেতা-কর্মিরা পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে ঘাট পরিচালনা করে আসছিল। এতে চোখ পড়ে বিএনপির সাবেক এমপি শহীদুল ইসলামের লোকজনের। গত পরশুদিন নদী থেকে ঘাটে বালু এনে জড়ো করে রাগীব রউফ চৌধুরীর সমর্থকরা।  এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের সমর্থক সাইফুল ইসলাম, জসিম, জুয়েল, আশরাফুল ইসলাম, আসলাম উদ্দিন, শাওন বিশ্বাস, আকাইলেসহ প্রায় শতাধিক লোকজন পিস্তলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তারা চর ও বালুর ঘাট দখলের উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের পক্ষের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘাট দখল করতে যাইনি। তারা জয় বাংলার স্লোগান দিচ্ছিল। এজন্য তাদেরকে মারপিট করা হয়েছে। তারাও আমাদের মারপিট করেছে। এ ব্যাপারে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ বলেন, বালুরঘাট দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।