ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

নিজ সংবাদ ॥ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবছরে কুষ্টিয়া জেলায় ২৩০টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় ৭২টি, খোকসা উপজেলায় ৬২টি, কুমারখালী উপজেলায় ৫৫টি, মিরপুর উপজেলায় ২৬টি, ভেড়ামারা উপজেলায় ৮টি ও দৌলতপুর উপজেলায় ৭টি মন্দিরে শারদীয় দূর্গোৎসব পালিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৩ অক্টোবর) দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে অনেকে অশ্রুজল চোখে দেবীকে বিদায় জানান। এদিন বিকেল থেকেই জেলা শহরের ঘোড়াঘাট এলাকায় গড়াই নদীর কুলে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। শহরের বিভিন্ন এলাকার পূজামন্ডপ থেকে নছিমন, ভ্যান ও ঠ্যালা গাড়িতে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন বড়বাজার ঘোড়াঘাট মোড়ে। সেখানে সাত পাকে ঘোরানো হয় দেবীকে। এর আগে সকালে দেখা গেছে এক মন্ডপ থেকে অন্য মন্ডপে ঘুরে দুর্গা দেবীর প্রতিমা দর্শন করে ভক্তরা’ মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন। মন্ডপে মন্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা। বিজয়া দশমীতে অংশ হিসেবে এদিন নারীরা সিদুঁর খেলায় অংশ নেন। মন্দিরে দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন তারা। হিন্দু নারীরা একে অপরের গায়ে সিঁদুর মাখিয়ে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন বলে জানা গেছে। কেউ কেউ মন্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিমার সঙ্গে ছবি-সেলফি তুলছিলেন। সন্ধ্যার দিকে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। ঢাকিরাও নেমে পড়েন ঢাকঢোল নিয়ে। তবে বিসর্জনের ক্ষণ এগিয়ে আসায় ভক্তদের মনে ছিল বিদায়ের সুর। কুষ্টিয়া থানাপাড়া মন্দিরে প্রার্থনার সময়ে সুমন সাহা বলেন, এবার মাকে আরাধনার জন্য আমরা কম সময় পেয়েছি। মায়ের চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। মায়ের কাছে সবার জন্য মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করেছি। এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিলো বিশেষ সতর্কতায়। পুরো আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাস্তার মোড়ে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছিলো পুলিশের কড়া নজরদারি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, উৎসবের শুরু থেকে প্রতিটি পূজা মন্দিরে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিলো। উৎসব চলাকালীন জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পূজা মন্দিরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ছাড়াও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিলো।

তবে হিন্দুধর্মাম্বলী আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হয় দোলায় বা পালকিতে। দেবীর এই আগমনের ফলাফল হবে মড়ক। যা শুভ ইঙ্গিত নয়। এছাড়াও দেবী স্বর্গে গমন করবেন ঘোটকে বা ঘোড়ায়। শাস্ত্রমতে দেবীর গমন বা আগমন ঘোটকে হলে ফলাফল ছত্রভঙ্গ হয়। শাস্ত্রমতে এই ঘোটকে গমনের ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল অবস্থাকে ইঙ্গিত করে। এটি যুদ্ধ, বিগ্রহ, অশান্তি, বিপ্লবের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়া জেলার পূজামন্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শেষ হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

আপডেট সময় ১২:৪৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবছরে কুষ্টিয়া জেলায় ২৩০টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্য সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় ৭২টি, খোকসা উপজেলায় ৬২টি, কুমারখালী উপজেলায় ৫৫টি, মিরপুর উপজেলায় ২৬টি, ভেড়ামারা উপজেলায় ৮টি ও দৌলতপুর উপজেলায় ৭টি মন্দিরে শারদীয় দূর্গোৎসব পালিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৩ অক্টোবর) দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে অনেকে অশ্রুজল চোখে দেবীকে বিদায় জানান। এদিন বিকেল থেকেই জেলা শহরের ঘোড়াঘাট এলাকায় গড়াই নদীর কুলে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। শহরের বিভিন্ন এলাকার পূজামন্ডপ থেকে নছিমন, ভ্যান ও ঠ্যালা গাড়িতে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন বড়বাজার ঘোড়াঘাট মোড়ে। সেখানে সাত পাকে ঘোরানো হয় দেবীকে। এর আগে সকালে দেখা গেছে এক মন্ডপ থেকে অন্য মন্ডপে ঘুরে দুর্গা দেবীর প্রতিমা দর্শন করে ভক্তরা’ মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন। মন্ডপে মন্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা। বিজয়া দশমীতে অংশ হিসেবে এদিন নারীরা সিদুঁর খেলায় অংশ নেন। মন্দিরে দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন তারা। হিন্দু নারীরা একে অপরের গায়ে সিঁদুর মাখিয়ে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন বলে জানা গেছে। কেউ কেউ মন্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিমার সঙ্গে ছবি-সেলফি তুলছিলেন। সন্ধ্যার দিকে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। ঢাকিরাও নেমে পড়েন ঢাকঢোল নিয়ে। তবে বিসর্জনের ক্ষণ এগিয়ে আসায় ভক্তদের মনে ছিল বিদায়ের সুর। কুষ্টিয়া থানাপাড়া মন্দিরে প্রার্থনার সময়ে সুমন সাহা বলেন, এবার মাকে আরাধনার জন্য আমরা কম সময় পেয়েছি। মায়ের চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। মায়ের কাছে সবার জন্য মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করেছি। এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিলো বিশেষ সতর্কতায়। পুরো আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাস্তার মোড়ে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছিলো পুলিশের কড়া নজরদারি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, উৎসবের শুরু থেকে প্রতিটি পূজা মন্দিরে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিলো। উৎসব চলাকালীন জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পূজা মন্দিরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ছাড়াও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিলো।

তবে হিন্দুধর্মাম্বলী আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হয় দোলায় বা পালকিতে। দেবীর এই আগমনের ফলাফল হবে মড়ক। যা শুভ ইঙ্গিত নয়। এছাড়াও দেবী স্বর্গে গমন করবেন ঘোটকে বা ঘোড়ায়। শাস্ত্রমতে দেবীর গমন বা আগমন ঘোটকে হলে ফলাফল ছত্রভঙ্গ হয়। শাস্ত্রমতে এই ঘোটকে গমনের ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল অবস্থাকে ইঙ্গিত করে। এটি যুদ্ধ, বিগ্রহ, অশান্তি, বিপ্লবের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে। উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়া জেলার পূজামন্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শেষ হয়।