কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ খালের পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে দুইটি স্লুইসগেট নির্মাণ করেছেন সরকার। তবে সেই স্লুইসগেট বন্ধ করে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। ফলে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ও জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ১০টি মাঠের প্রায় এক হাজার ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফসলের মাঠ থেকে দ্রুত পানি অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশপথে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধন শেষে ইউএনওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে কৃষক শাজাহান পরামানিক (৫৫), রাসেল (৩৯), মোহাম্মদ আলী(৫৫) ও আবু বক্কার (৬০) বলেন- জগন্নাথপুর ইউনিয়নের এদ্রাকপুর ফকিরতলা- মহেন্দ্রপুর – জোতপাড়া খাল দিয়ে মাঠের পানি পদ্মা নদীতে চলে যেতে। পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে দুইটি স্লুইসগেট নির্মাণ করেছেন সরকার। কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি গেট বন্ধ করে এবং খালের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১০টি মাঠের এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। দ্রুত পানি অপসারণ না করা গেলে কয়েক কোটি টাকার ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলাদি নষ্ট হয়ে যাবে। তারা দ্রুত পানি অপসারণের দাবি জানান। জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী শেখ বলেন, স্লুইসগেট বন্ধ করে এবং খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় ফসলি জমি ও ঘর-বাড়িতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে তার এলাকায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি পানি অপসারণের জন্য ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ফসলের মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি, কৃষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগীতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদ : 














