কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কোনো ছুটি ছাড়াই প্রায় দেড় মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জোতমোড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাককে শোকজ করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা। বুধবার ( ২৮ আগষ্ট) দুপুরে ডাকযোগে তাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? – সে বিষয়ে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী এজাজ কায়সার সমকালকে জানান, তিনি ২২ আগষ্ট বিদ্যালয়টিতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। গিয়ে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে অনুপস্থিত পান । তার ভাষ্য, কোনো ছুটি ছাড়াই ১৬ জুলাই থেকে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত। তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে। মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় তিনি এখন ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি। গত ১৫ জুলাই মুভমেন্ট খাতায় বিদ্যালয়ের বিশেষ কাজ দেখিয়ে তিনি প্রায় দেড় মাস বিদ্যালয়ে আসেননা। জানা গেছে, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর জোতমোড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক কর্মচারী হিসেবে মো. মেহেদী হাসান শান্ত ও জোসনা বেগমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। উক্ত নিয়োগ প্রাপ্তদের এমপিও ভুক্ত করার জন্য ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ‘ বিদ্যালয়ের অবস্থান ‘ জনিত প্রত্যায়ন তৈরি করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং তৎকালীন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. আজিজুল হক। বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুমারখালী আমলী আদালতে মামলা করেন চেয়ারম্যান। মামলায় দুই কর্মচারী, প্রধান শিক্ষক ও তৎকালীন সভাপতিকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের ১৪ জুলাই উক্ত মামলায় আসামিদের আদালতে হাজিরার দিন ধার্য ছিল। সেদিন দুই কর্মচারী ও তৎকালীন সভাপতি আদালতে হাজিরা দেন। তবে গ্রেফতারের ভয়ে সেদিন আদালতে যাননি প্রধান শিক্ষক। এরপর ১৬ জুলাই থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ১৫ জুলাই বিদ্যালয়ের মুভমেন্ট খাতার একটি পাতা সমকালের হাতে এসে পৌছেছে। সেখানে লেখা রয়েছে। “ আমি আব্দুর রাজ্জাক, প্রধান শিক্ষক অত্র বিদ্যালয়। আমি বিদ্যালয়ের কাজে কয়েকদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারবনা। আমার অবর্তমানে বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কাজের দাঁয়িত্ব পালন করবেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইংরেজি মো. রেজাউল হক। “ সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক নেই। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এসময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক সমকালকে জানান, সঠিক বেঠিক কিছু জানিনা। ১৫ জুলাই মুভমেন্ট খাতায় মন্তব্য লিখে তাকে দাঁয়িত্ব দিয়ে চলে গেছেন প্রধান শিক্ষক। আর ফিরে আসেননি। ফোনেও কথা হয়নি আর। কোথায় আছেন তাও তিনি জানেননা। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে দাঁড়িয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আদালতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় তিনি বর্তমানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার জন্য ঢাকায় আত্মগোপনে আছেন প্রধান শিক্ষক। সরেজমিন প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী নাম প্রকাশ না করা শর্তে সমকালকে জানান, মাসখানেকের বেশি সময় ধরে তার স্বামী বাড়িতে নেই। কোথায় আছে তাও সঠিক জানেন না তিনি। মাঝে মাঝে বিভিন্ন নাম্বার দিয়ে কল দেয়। তাঁরও ভাষ্য, উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক ঢাকাতে থাকতে পারেন। যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, দুই কর্মচারীর এমপিও ভুক্তকরণে বিদ্যালয়ের অবস্থান জনিত প্রত্যায়নে তাঁর স্বাক্ষর, সিল জালিয়াতি করে প্যাড তৈরি করা হয়েছিল। তিনি প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জনের নামে মামলা করেছেন। মামলাটি আদালতে চলমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম সমকালকে জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
টপ নিউজ :
কুমারখালীতে জালিয়াতি মামলায় পলাতক প্রধান শিক্ষককে শোকজ
-
নিজস্ব সংবাদ : - আপডেট সময় ১২:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৪
- 80
জনপ্রিয় সংবাদ















