ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও লেখক অধ্যাপক মুয়ীদ রহমান ইন্তেকাল করেছেন

নিজ সংবাদ ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও লেখক অধ্যাপক মুয়ীদ রহমান (৬৩) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি-রাজেউন)। বুধবার রাত সোয়া ৮টায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। তাঁর পারিবারিক সুত্রে জানা যায়- রাত ৮টার দিকে অন্য দিনের মত তিনি কুষ্টিয়া শহরের পুর্ব মজমপুর নিজ বাড়িতে (শ্বশুরালয়) স্বাভাবিক কাজ করছিলেন। এসময় তিনি আকর্ষিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাথে সাথে কুষ্টিয়া ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। মুহুর্তের মধ্যে অধ্যাপক মুয়ীদ রহমানের মৃত্যুর খবরে মজমপুরের বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ এলাকাবাসী ভিড় করেন। সেখানে এসময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতরনা হয়। তার স্মৃতিচারন করতে যেয়ে শিক্ষকেরা অশ্র“সিক্ত হয়ে পড়েন। মরহুম আব্দুল মুয়িদ একজন লেখক কলামিষ্ট হিসেবে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপি, মিষ্ট হাসির একজন মানুষ ছিলেন। ১৯৯০সালে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কুষ্টিয়া শহরের ক্যাম্পাসে যোগদান করেন। পরবর্তিতে তিনি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৯সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে লাঠি খেলাকে দেশজুড়ে প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা রাখেন। অধ্যাপক মুয়ীদ রহমান ১৯৯৯সালে বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ওস্তাদ সিরাজুল হক চৌধুরীর নাতনী শামীমা সুলতানা লিজুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায় নিজ বাড়িতেই তিনি বসবাস করতেন। একমাত্র কন্যা অর্পিতা রহমান একাদশ শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। অধ্যাপক আব্দুল মুয়ীদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলায়। তাঁর মরহুম পিতা শিক্ষা অফিসার ছিলেন। ৪ভাই  বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার মেঝ ভাই অধ্যাপক আবুল বায়েস ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি। মরহুমের জানাজা নামাজ সকাল ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা নামাজ আজ বাদ জোহর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। পরে পুর্ব মজমপুর চৌধুরি পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে। মরহুমের মৃত্যুতে বাসদ কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক শফিউর রহমান ও সাধারন সম্পাদক  আশরাফুল হক শোক প্রকাশ করে বিবৃতিতে মরহুমরে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও লেখক অধ্যাপক মুয়ীদ রহমান ইন্তেকাল করেছেন

আপডেট সময় ১১:১৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও লেখক অধ্যাপক মুয়ীদ রহমান (৬৩) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি-রাজেউন)। বুধবার রাত সোয়া ৮টায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। তাঁর পারিবারিক সুত্রে জানা যায়- রাত ৮টার দিকে অন্য দিনের মত তিনি কুষ্টিয়া শহরের পুর্ব মজমপুর নিজ বাড়িতে (শ্বশুরালয়) স্বাভাবিক কাজ করছিলেন। এসময় তিনি আকর্ষিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাথে সাথে কুষ্টিয়া ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। মুহুর্তের মধ্যে অধ্যাপক মুয়ীদ রহমানের মৃত্যুর খবরে মজমপুরের বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ এলাকাবাসী ভিড় করেন। সেখানে এসময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতরনা হয়। তার স্মৃতিচারন করতে যেয়ে শিক্ষকেরা অশ্র“সিক্ত হয়ে পড়েন। মরহুম আব্দুল মুয়িদ একজন লেখক কলামিষ্ট হিসেবে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপি, মিষ্ট হাসির একজন মানুষ ছিলেন। ১৯৯০সালে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কুষ্টিয়া শহরের ক্যাম্পাসে যোগদান করেন। পরবর্তিতে তিনি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৯সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে লাঠি খেলাকে দেশজুড়ে প্রসারে ব্যাপক ভুমিকা রাখেন। অধ্যাপক মুয়ীদ রহমান ১৯৯৯সালে বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ওস্তাদ সিরাজুল হক চৌধুরীর নাতনী শামীমা সুলতানা লিজুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকায় নিজ বাড়িতেই তিনি বসবাস করতেন। একমাত্র কন্যা অর্পিতা রহমান একাদশ শ্রেনীতে অধ্যায়নরত। অধ্যাপক আব্দুল মুয়ীদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলায়। তাঁর মরহুম পিতা শিক্ষা অফিসার ছিলেন। ৪ভাই  বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তার মেঝ ভাই অধ্যাপক আবুল বায়েস ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি। মরহুমের জানাজা নামাজ সকাল ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা নামাজ আজ বাদ জোহর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। পরে পুর্ব মজমপুর চৌধুরি পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে। মরহুমের মৃত্যুতে বাসদ কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক শফিউর রহমান ও সাধারন সম্পাদক  আশরাফুল হক শোক প্রকাশ করে বিবৃতিতে মরহুমরে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।