ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইবিতে অধ্যাপককে ক্যাম্পাস ত্যাগে বাধ্য করলো শিক্ষার্থীরা

আমি কষ্ট পেলেও, শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই : ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল

ইবি প্রতিনিধি ॥ দ্বিতীয়বার মবজাস্টিসের শিকার হলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামী ঘরানার প্রগতিবাদী মেধাবী শিক্ষক, লেখক, কলামিস্ট, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল।

অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে হেনস্থা করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। গতকাল শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার যথারীতি তিনি সকাল ৮টার গাড়িতে ক্যাম্পাসে গিয়ে বাংলা বিভাগের এম. এ শ্রেণির মডারেশন পর্ব শেষ করে ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষে ক্লাস নিতে চলে যান। ক্লাস শেষে বেলা ১১টায় বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় যোগদান করেন। তিনি যখন করিডোর দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন একদল শিক্ষার্থী ধর ধর দালাল ধর, বলে শ্লোগান দিতে থাকে। তবে তারা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নন। এক পর্যায়ে যুদ্ধাংদেহী মিছিলটি ড. বিকুলের পিছু নিয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের সম্মুখে জড়ো হয়ে কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান দিতে থাকে। পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর এক পর্যায়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষকগণ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে বিভাগের জামায়াত-বিএনপি- বৈষম্যপন্থী ও অন্য একটি বিভাগের শিক্ষকগণেরা বাংলা বিভাগের সভাপতিকে নিয়ে বিভাগীয় সভাপতির কক্ষে দফায় দফায় বৈঠকে মিলিত হয়। এর মধ্যে শ্লোগানের ভাষা বদলে যেতে থাকে। ড. বিকুলের নামে কুৎসিত ভাষায় শ্লোগান পরিচালিত হয়। একপর্যায়ে বৈঠকশেষে বাংলা বিভাগের সভাকক্ষে এসে সভাপতি প্রফেসর ড. রবিউল হোসেন ঘোষণা করেন, আন্দোলনরত মিছিলরত শিক্ষার্থীদের দাবী প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে এই মুহুর্তে বাংলা বিভাগ ছেড়ে চলে যেতে হবে। তারা আরও বলে আমাদের হাতে তাকে ছেড়ে দিন আমরা তাকে গেটের বাইরে রেখে আসবো। বাংলা বিভাগ পরে তাদের এই কথা বলে নিবৃত্ত করে যে, আমরা নিজেরাই তাকে নামিয়ে দিয়ে আসবো। এ সময় বাংলা বিভাগের সভাপতি পরিবহণ শাখায় ফোন দিয়ে রবীন্দ্র-নজরুল কলা অনুষদ সামনে বাদল ড্রাইভারের গাড়িটি ডেকে আনেন। এরই এক পর্যায়ে বিভাগ থেকে কয়েকজন শিক্ষকের মাধ্যমে মিছিলরত শিক্ষার্থীদের মাঝে অশ্রুসজল নয়নে বিভাগ থেকে বের হয়ে আসেন বিভাগের জনপ্রিয় শিক্ষক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল। ড. বিকুলকে বহনকৃত মাইক্রোবাসটিতে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. রবিউল হোসেন, প্রফেসর গাজী মোঃ মাহবুব মুর্শিদ, প্রফেসর ড. রশিদুজ্জামান, প্রফেসর ড. মনজুর রহমান ও একজন কর্মকতা আশরাফুল আলম ও কর্মচারী মোঃ ইসমাইল গাড়িতে উঠে ড. বিকুলকে নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্য রওনা হন। পথিমধ্যে ইবি গেটের বাইরে এসে শিক্ষকবৃন্দ নেমে যান, অন্য দুজন কর্মকর্তা প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে কুষ্টিয়াস্থ মজমপুরে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যান। উল্লেখ্য যে, কয়েকদিন আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন ভবনের নিচতলায় প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। একই ব্যক্তিকে দুবার মবজাস্টিসের শিকার হতে হলো।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল আওয়ামী পন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সমর্থক। বিভিন্ন সময়ে তাকে আওয়ামী লীগপন্থী মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। এর জেরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং তার ক্যাম্পাস ত্যাগের দাবি জানায়। তবে এ আন্দোলনে বাংলা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি অংশ নেয়নি।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন সঙ্গে কথা বলে অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে ক্যাম্পাস ত্যাগের আহ্বান জানায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভাগের সভাপতি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর বিশিষ্ট কলামিস্ট ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক মুঈদ রহমানের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে চরমভাবে হেনস্থা করা হয়। সেদিনও তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল বলেন, “আমি কষ্ট পেলেও, আমার প্রিয় শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। আমার হৃদয় ব্যথিত হলেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ আনবো না। শিক্ষার্থীরাই আমার প্রাণ, তাদের মাঝেই আমি বেঁচে থাকতে চাই। তাদের অর্জন, তাদের সফলতাই আমার আলো, তাদের মাঝেই আমি আমার উজ্জ্বলতা খুঁজে পাই।”

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা যদি গণতন্ত্রের কথা বলি, তাহলে দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকেরই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো অন্যায় করলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আছে, উপাচার্য আছেন। যেসব শিক্ষার্থী আজ একজন অধ্যাপককে হেনস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগে বাধ্য করেছে, তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, “বিষয়টি প্রথম সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পারলাম। শিক্ষার্থীরা কি একজন শিক্ষকের বিচার করতে পারে? যদি কোনো শিক্ষক অন্যায় করে থাকেন, শিক্ষার্থীদের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করা। শিক্ষকের ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে তিনি তখন ব্যস্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে মন্তব্য করবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি কল রিসিভ করেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইবিতে অধ্যাপককে ক্যাম্পাস ত্যাগে বাধ্য করলো শিক্ষার্থীরা

আমি কষ্ট পেলেও, শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই : ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল

আপডেট সময় ০১:১৯:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ইবি প্রতিনিধি ॥ দ্বিতীয়বার মবজাস্টিসের শিকার হলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামী ঘরানার প্রগতিবাদী মেধাবী শিক্ষক, লেখক, কলামিস্ট, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল।

অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে হেনস্থা করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। গতকাল শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার যথারীতি তিনি সকাল ৮টার গাড়িতে ক্যাম্পাসে গিয়ে বাংলা বিভাগের এম. এ শ্রেণির মডারেশন পর্ব শেষ করে ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষে ক্লাস নিতে চলে যান। ক্লাস শেষে বেলা ১১টায় বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় যোগদান করেন। তিনি যখন করিডোর দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন একদল শিক্ষার্থী ধর ধর দালাল ধর, বলে শ্লোগান দিতে থাকে। তবে তারা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নন। এক পর্যায়ে যুদ্ধাংদেহী মিছিলটি ড. বিকুলের পিছু নিয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের সম্মুখে জড়ো হয়ে কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান দিতে থাকে। পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর এক পর্যায়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষকগণ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে বিভাগের জামায়াত-বিএনপি- বৈষম্যপন্থী ও অন্য একটি বিভাগের শিক্ষকগণেরা বাংলা বিভাগের সভাপতিকে নিয়ে বিভাগীয় সভাপতির কক্ষে দফায় দফায় বৈঠকে মিলিত হয়। এর মধ্যে শ্লোগানের ভাষা বদলে যেতে থাকে। ড. বিকুলের নামে কুৎসিত ভাষায় শ্লোগান পরিচালিত হয়। একপর্যায়ে বৈঠকশেষে বাংলা বিভাগের সভাকক্ষে এসে সভাপতি প্রফেসর ড. রবিউল হোসেন ঘোষণা করেন, আন্দোলনরত মিছিলরত শিক্ষার্থীদের দাবী প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে এই মুহুর্তে বাংলা বিভাগ ছেড়ে চলে যেতে হবে। তারা আরও বলে আমাদের হাতে তাকে ছেড়ে দিন আমরা তাকে গেটের বাইরে রেখে আসবো। বাংলা বিভাগ পরে তাদের এই কথা বলে নিবৃত্ত করে যে, আমরা নিজেরাই তাকে নামিয়ে দিয়ে আসবো। এ সময় বাংলা বিভাগের সভাপতি পরিবহণ শাখায় ফোন দিয়ে রবীন্দ্র-নজরুল কলা অনুষদ সামনে বাদল ড্রাইভারের গাড়িটি ডেকে আনেন। এরই এক পর্যায়ে বিভাগ থেকে কয়েকজন শিক্ষকের মাধ্যমে মিছিলরত শিক্ষার্থীদের মাঝে অশ্রুসজল নয়নে বিভাগ থেকে বের হয়ে আসেন বিভাগের জনপ্রিয় শিক্ষক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল। ড. বিকুলকে বহনকৃত মাইক্রোবাসটিতে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. রবিউল হোসেন, প্রফেসর গাজী মোঃ মাহবুব মুর্শিদ, প্রফেসর ড. রশিদুজ্জামান, প্রফেসর ড. মনজুর রহমান ও একজন কর্মকতা আশরাফুল আলম ও কর্মচারী মোঃ ইসমাইল গাড়িতে উঠে ড. বিকুলকে নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্য রওনা হন। পথিমধ্যে ইবি গেটের বাইরে এসে শিক্ষকবৃন্দ নেমে যান, অন্য দুজন কর্মকর্তা প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে কুষ্টিয়াস্থ মজমপুরে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যান। উল্লেখ্য যে, কয়েকদিন আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন ভবনের নিচতলায় প্রফেসর ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। একই ব্যক্তিকে দুবার মবজাস্টিসের শিকার হতে হলো।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল আওয়ামী পন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সমর্থক। বিভিন্ন সময়ে তাকে আওয়ামী লীগপন্থী মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। এর জেরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং তার ক্যাম্পাস ত্যাগের দাবি জানায়। তবে এ আন্দোলনে বাংলা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি অংশ নেয়নি।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন সঙ্গে কথা বলে অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে ক্যাম্পাস ত্যাগের আহ্বান জানায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভাগের সভাপতি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর বিশিষ্ট কলামিস্ট ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক মুঈদ রহমানের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলকে চরমভাবে হেনস্থা করা হয়। সেদিনও তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল বলেন, “আমি কষ্ট পেলেও, আমার প্রিয় শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। আমার হৃদয় ব্যথিত হলেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ আনবো না। শিক্ষার্থীরাই আমার প্রাণ, তাদের মাঝেই আমি বেঁচে থাকতে চাই। তাদের অর্জন, তাদের সফলতাই আমার আলো, তাদের মাঝেই আমি আমার উজ্জ্বলতা খুঁজে পাই।”

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা যদি গণতন্ত্রের কথা বলি, তাহলে দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকেরই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো অন্যায় করলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আছে, উপাচার্য আছেন। যেসব শিক্ষার্থী আজ একজন অধ্যাপককে হেনস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগে বাধ্য করেছে, তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, “বিষয়টি প্রথম সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পারলাম। শিক্ষার্থীরা কি একজন শিক্ষকের বিচার করতে পারে? যদি কোনো শিক্ষক অন্যায় করে থাকেন, শিক্ষার্থীদের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করা। শিক্ষকের ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে তিনি তখন ব্যস্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে মন্তব্য করবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি কল রিসিভ করেননি।