ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :

লালন মেলায় বেচাকেনা ৫০ কোটি টাকা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
  • 33

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে গ্রামীণ মেলায় পাঁচ দিনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছে। গতবারের তুলনায় বেচাকেনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় মরা কালী নদীর তীরে ১৭ অক্টোবর এ মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। মেলা শেষ হয়েছে গত সোমবার। মেলা ঘিরে ছেঁউড়িয়ার কয়েক কিলোমিটারজুড়ে হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিল স্থায়ী ও অস্থায়ী অন্তত ১ হাজার ৫০০টি বিপণিবিতান। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কয়েক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাগম হয়েছিল মেলায়। সে জন্য গতবারের তুলনায় বেচাকেনা প্রায় দ্বিগুণ। পাঁচ দিনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মতো বেচাকেনা হয়েছে। এতে ব্যাপক খুশি তারা। স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের দবির মোল্লা গেট, আখড়াবাড়ি প্রধান প্রবেশ গেট ও মিলপাড়া গেট সড়কের দুই পাড়ে বস্ত্রালয়, মুদি, হোটেল, কসমেটিকস, খাবার, সংগীতের যন্ত্রাংশসহ হরেক রকমের প্রায় এক হাজার দোকান বসে। এ ছাড়া মেলার মাঠে আরও প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী দোকান বসে। সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, আখড়াবাড়ি এলাকায় মানুষের ঢল নেই। তবে বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের বেশ আনাগোনা রয়েছে। অস্থায়ী দোকানিদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, গতবারের তুলনায় এবার দোকান বসানোর জায়গা ভাড়া আকার ভেদে ৩ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা বেশি। সেবা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক নুর মোহাম্মদ বলেন, বেচাকেনা বেশ ভালো। ১৭ অক্টোবর থেকে পাঁচ দিনে তিনি প্রায় ৭ লাখ টাকার ব্যবসা করেছেন। ঢাকা থেকে মেলায় প্রথমবারের মতো এসে গার্মেন্ট পণ্যের দোকান বসিয়েছেন আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, পরিবহন ও জায়গা ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। তবে তিন দিনে তাঁর ব্যবসা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। তাঁর ভাষ্য, ব্যাপক লোকসমাগমের কারণে ব্যবসায় লাভই হয়েছে। ময়মনসিংহ থেকে এসে ১৫ বছর ধরে মেলায় কসমেটিকসের ব্যবসা করছেন শাজাহান সাগর। তিনি বলেন, ‘হিসাব তো ওইভাবে বলা যায় না। তবে মনে করেন, গেলবার ২০ টাকা লাভ হলে এবার হয়েছে ৪০ টাকা।’ ছুটির দিন হওয়ায় এবং কুষ্টিয়ার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে এবার লোকসমাগম বেশি, যা গত ২০ থেকে ২৫ বছরে দেখেনি কেউ।  জানা গেছে, এ বছর ২৮ লাখ টাকায় মেলার মাঠ ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আকার ভেদে বিভিন্ন দামে টোল তুলেছেন ইজারাদার। তবে ইজারাদারের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে ইজারাদারের এক ব্যবসায়ীর সহযোগী বলেন, ২৮ লাখ ১ হাজার টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে।  প্রতিদিন প্রায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছিল ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ি এলাকায়। বেচাকেনাও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ২৮ লাখ টাকায় শুধু মেলার মাঠটা ইজারা দেওয়া হয়েছে। মোট লেনদেন পরে বলা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ক্রয়চুক্তি সই

লালন মেলায় বেচাকেনা ৫০ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০১:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে গ্রামীণ মেলায় পাঁচ দিনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছে। গতবারের তুলনায় বেচাকেনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় মরা কালী নদীর তীরে ১৭ অক্টোবর এ মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। মেলা শেষ হয়েছে গত সোমবার। মেলা ঘিরে ছেঁউড়িয়ার কয়েক কিলোমিটারজুড়ে হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিল স্থায়ী ও অস্থায়ী অন্তত ১ হাজার ৫০০টি বিপণিবিতান। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কয়েক দশকের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি মানুষের সমাগম হয়েছিল মেলায়। সে জন্য গতবারের তুলনায় বেচাকেনা প্রায় দ্বিগুণ। পাঁচ দিনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মতো বেচাকেনা হয়েছে। এতে ব্যাপক খুশি তারা। স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের দবির মোল্লা গেট, আখড়াবাড়ি প্রধান প্রবেশ গেট ও মিলপাড়া গেট সড়কের দুই পাড়ে বস্ত্রালয়, মুদি, হোটেল, কসমেটিকস, খাবার, সংগীতের যন্ত্রাংশসহ হরেক রকমের প্রায় এক হাজার দোকান বসে। এ ছাড়া মেলার মাঠে আরও প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী দোকান বসে। সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, আখড়াবাড়ি এলাকায় মানুষের ঢল নেই। তবে বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের বেশ আনাগোনা রয়েছে। অস্থায়ী দোকানিদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, গতবারের তুলনায় এবার দোকান বসানোর জায়গা ভাড়া আকার ভেদে ৩ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা বেশি। সেবা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক নুর মোহাম্মদ বলেন, বেচাকেনা বেশ ভালো। ১৭ অক্টোবর থেকে পাঁচ দিনে তিনি প্রায় ৭ লাখ টাকার ব্যবসা করেছেন। ঢাকা থেকে মেলায় প্রথমবারের মতো এসে গার্মেন্ট পণ্যের দোকান বসিয়েছেন আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, পরিবহন ও জায়গা ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। তবে তিন দিনে তাঁর ব্যবসা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। তাঁর ভাষ্য, ব্যাপক লোকসমাগমের কারণে ব্যবসায় লাভই হয়েছে। ময়মনসিংহ থেকে এসে ১৫ বছর ধরে মেলায় কসমেটিকসের ব্যবসা করছেন শাজাহান সাগর। তিনি বলেন, ‘হিসাব তো ওইভাবে বলা যায় না। তবে মনে করেন, গেলবার ২০ টাকা লাভ হলে এবার হয়েছে ৪০ টাকা।’ ছুটির দিন হওয়ায় এবং কুষ্টিয়ার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে এবার লোকসমাগম বেশি, যা গত ২০ থেকে ২৫ বছরে দেখেনি কেউ।  জানা গেছে, এ বছর ২৮ লাখ টাকায় মেলার মাঠ ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আকার ভেদে বিভিন্ন দামে টোল তুলেছেন ইজারাদার। তবে ইজারাদারের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে ইজারাদারের এক ব্যবসায়ীর সহযোগী বলেন, ২৮ লাখ ১ হাজার টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে।  প্রতিদিন প্রায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছিল ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ি এলাকায়। বেচাকেনাও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ২৮ লাখ টাকায় শুধু মেলার মাঠটা ইজারা দেওয়া হয়েছে। মোট লেনদেন পরে বলা যাবে।