নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২৬২টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগই শটগান, পিস্তল ও রিভলবার। বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারের আমলে এসব অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে ২৪১টি অস্ত্র জেলার সাতটি থানায় জমা হয়েছে। জমা দেবার বাইরে থেকে গেছে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র। এই ২১টি অস্ত্র বিধিমোতাবেক এখন অবৈধ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে বুধবার রাত থেকে জেলা জুড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিত্রে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। এসব অস্ত্র ও গুলি ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে থানায় জমা দিতে বলা হয়। ২৭ আগষ্ট ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আখতারের দেওয়া গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, থানায় অস্ত্র জমা না দেওয়া হলে তা অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে অস্ত্র আইনে মামলা হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় মোট ২৬২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইন্সেস দেওয়া হয়। এরমধ্যে পিস্তল ও রিভলবার রয়েছে ৫১টি। বাকিগুলো শর্টগানসহ অনান্য অস্ত্র। সবচেয়ে বেশি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সদরে ৭৮টি। এরপর রয়েছে দৌলতপুরে ৬২টি। ভেড়ামারায় ৩৮টি, মিরপুরে ৩২টি,খোকসাতে ১৬টি ও ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানার আওতায় ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া। সবচেয়ে বেশি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ২০১০,২০১২ ও ২০১৩ সালের দিকে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই তিন বছরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারেরা এসব অস্ত্রের লাইসেন্স নেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার আওতায় দেওয়া ৭৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পিস্তল ও রিভলবার রয়েছে ১৭টি, মিরপুরে ৩২টির মধ্যে ৬টি, ভেড়ামারায় ৩৮টির মধ্যে ৮টি, দৌলতপুরে ৬২টির মধ্যে ৬টি, কুমারখালীতে ৩২টির মধ্যে ৯টি, খোকসাতে ১৬টির মধ্যে ৪টি ও ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানার আওতার মধ্যে পিস্তল ও রিভলবার রয়েছে একটি। এসব থানায় মঙ্গলবার রাত বারটা পর্যন্ত মিরপুর, দৌলতপুর, কুমারখালী ও খোকসার আওতাধীন সবগুলো আগ্নেয়াস্ত্র জমা হয়েছে। সদরে ১৮টি, ভেড়ামারায় একটি ও ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানার আওতাধীর দুটি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান তাঁর লাইসেন্সকৃত পিস্তল বা রিভলবার জমা দেননি। আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলমের চাচাতো ভাই আতাউর রহমান। ৫ আগষ্ট হাসিনা সরকার পতনের পর দুর্বৃত্তরা কুষ্টিয়া শহরে এই দুই ভাইয়ের দুটি আলিশান বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দফায় দফায় হামলার পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি বহুতল ভবনের ইট পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়েছে। স্ত্রীসহ আতাউরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলাও রয়েছে। আতাউরের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স বাতিল ও থানায় জমা দিতে সরকারি বেসরকারিভাবে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। অধিকাংশ অস্ত্রই থানায় জমা পড়েছে। যেসব অস্ত্র জমা পড়েনি সেগুলোর উদ্ধারে যৌথবাহিনী মাঠে কাজ করবে।’ কুষ্টিয়া ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আখতার বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার জন্য সভা করা হয়েছে। এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা থাকবেন। তবে বেশির ভাগ অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা থাকবে। সীমান্ত এলাকাতে অভিযানে বিজিবির সদস্যরা থাকবে।
টপ নিউজ :
আ.লীগ শাসনামলে দেয়া হয় ২৬২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স
কুষ্টিয়ায় বৈধ ২১টি অস্ত্র বিধিমোতাবেক এখন অবৈধ হিসাবে বিবেচিত
-
নিজস্ব সংবাদ : - আপডেট সময় ১১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- 56
জনপ্রিয় সংবাদ











