ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
ইনুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলাকার মানুষের

গ্রামে একটি বাড়ি ছাড়া দৃশ্যমান কোন সম্পদ নেই কুষ্টিয়ায় 

নিজ সংবাদ ॥ দেশের রাজনীতিতে আলোচিত নাম জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগরের সন্তান ইনু আটকের খবরে জেলার মানুষ নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরাজিত হন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর মাত্র দুইবার এলাকায় আসেন এই নেতা।  ১৪দলীয় জোটের অন্যতম নেতা হাসানুল হক ইনুর সাথে স্থাণীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছিল দা-কুমড়া সম্পর্ক। তাই সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতারা কামারুল আরেফিনের পক্ষে ভোটে নামলে ইনুর নৌকার ডুবে যায়। গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে ইনু জেলার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বাড়িও ভেড়ামারায় হওয়ার সুবাদে দুইজনের মধ্যে ছিল সাপে-নেওলে সম্পর্ক। গত রোববার ভেড়ামারা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এক প্রতিবাদ সভা থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা ইনুকে কট্টাক্ষ করে নানা বক্তব্য রাখেন। অশ্রাভ্য ভাষায় ইনুকে গালিগালাজও করেন কয়েকজন নেতা।  পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৮ সালের আগের তিনটি নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২(ভেড়ামারা-মিরপুর) আসন থেকে জাসদ থেকে মশাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিএনপি প্রার্থীর কাছে জামানত হারান। তবে মহাজোট গঠনের পর ইনুর কপাল খুলে যায়। একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ দলীয় মনোনয়ন চাইলেও ইনুকে আসন ছেড়ে দেওয়ার কারনে কপাল পুড়ে যায় হানিফের। হানিফকে সদরে পাঠানো হয়। আর সর্বশেষ ৪টি সংসদ নির্বাচনে নৌকায় চড়ে এমপি বনে যান ইনু। এমনকি মন্ত্রীর স্বাদও গ্রহন করেন। তথ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  যে নৌকায় চড়ে ইনু এমপি ও মন্ত্রী হন সেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মিদের সাথে ইনু ও তার দল জাসদের সম্পর্ক মোটেও ভাল যায়নি বিগত বছরগুলোতে।  বিশেষ করে সর্বশেষ দুটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েন ইনু। শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে কয়েকবার ইনু উতরে গেলেও এবার ইনুর নৌকা ডুবে যায় হানিফের শিষ্য কামারুলের কাছে। শিষ্যকে দিয়ে ফাঁদ পেতে ধরাশায়ী করেন ইনুকে। ইনু ও জাসদের রাজনীতি কুষ্টিয়া থেকে বিতাড়িত করতে হানিফ উঠেপড়ে ছিলেন। সর্বশেষ দুই বছরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগ ওঠে জাসদ নেতা-কর্মিদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমানকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর জাসদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মিদের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মিরা ইনুর বিরুদ্ধে মিছিল ও সমাবেশ করে শাস্তি দাবি করেন।  আর এ হত্যার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করা হয় ইনুর অনুগত ও ডানহাত হিসেবে পরিচিত জেলা জাসদ সভাপতি আব্দুল আলীম স্বপন ও তার ভাই চাঁদগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান তপনের বিরুদ্ধে। ইনু আসামী না গলেও জাসদের জেলার শীর্ষ নেতারা আসামী হন। এরপর গত বছরের ২ আগষ্ট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যা সঞ্জয় কুমার হত্যার পর জাসদকে দায়ী করা হয়। এ ঘটনার পর জাসদ ও বিএনপির নেতা-কর্মিদের বাড়ি-ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের লোকজন। এসব নিয়ে জাসদ ও আওয়ামী লীগের সম্পর্কে আর জোড়া লাগাতে পারেনি ইনু। যার পরিণতি ভোগ করতে হয় সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে। পুর্বের রাগ ও অভিযান থেকে মাহবুবউল আলম হানিফ রাজনীতির মাঠে ইনুকে ঘায়েল করতে শিষ্য কামারুল আরেফিনকে খাড়া করে দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইনুর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে নামলে বেকায়দায় পড়ে যান। ঢাকায় বসে কামারুলকে মাঠ থেকে সরাতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যণÍ না পেরে হতাশ হন ইনু। নির্বাচনে কামারুল আরেফিনের নিকট শোচনীয় পরাজয় বরণ করে মান অভিযানে আর জেলা মুখী হননি খুব একটা।  জাসদ গণবাহিনীর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ইনুকে নিজ দল জাসদেও আছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে জাতীয় নেতা কাজী আরেফ হত্যার ঘটনায় দলের অনেকেই মাষ্টার মাইন্ড হিসেবে ইনুকে দায়ী করেন। এছাড়া কুষ্টিয়া অঞ্চলে আরো অনেক হত্যাকান্ডের নায়ক হিসেবে ইনুকে দায়ী করেন সাধারন মানুষ। কুষ্টিয়া অঞ্চলে অস্ত্রের রাজনীতি ও চরমপন্থি গ্রুপগুলো একটা সময় ইনু নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তার দলের অনেক-কর্মি এখনো অস্ত্রের রাজনীতি করেন বলেন অভিযোগ আছে। সর্বশেষ ভেড়ামারা আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান হত্যাকান্ডের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন ইনুর অনুগতরা।  এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাদের অভিযোগ, ইনু কথায় কথায় পুলিশ দিয়ে হয়রানী করতেন নেতা-কর্মিদের। জামায়াত-বিএনপির অনেকেই ইনুর সহনুভুতি পেলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মিদের নামে মামলা দিয়ে বাড়ি-ঘর ছাড়া করা হয় তার আমলে।   আলেম বিদ্বেষী ইনুর প্রতি জেলার বড় একটি অংশ চরম ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে হেফাজত ইসলামের নেতারা ইনুর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হেফাজত নেতা মুফতি আব্দুল লতিফ বলেন, আলেমদের নিয়ে অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন। শাপলা চত্বরে আওয়ামী লীগ সরকার যে তান্ডব চালিয়ে ছিল তার অন্যতম মাষ্টার মাইন্ড ছিল ইনু। তাই তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’  এদিকে প্রায় ১৬ বছর এমপি থাকাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার একছত্র আধিপত্য ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি তার পরিবারের লোকজন বসেন। স্ত্রী রিনা আফরোজ ছাড়াও ছেলেকে সভাপতি করেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। টেন্ডার হাট-ঘাট দখলে ছিল ইনুর অনুগতদের। ভেড়ামারায় ইনুর নিজ ইউনিয়ন গোলাপনগর এলাকার কয়েকজনের সাথে মোবাইলে কথা হয় গতকাল সোমবার বিকেলে। ইনুর আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।  আতিয়ার রহমান নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন,‘ ইনু ছিলেন চতুর একজন ব্যাক্তি। তিনি মানুষের সাথে মুখে মিষ্টি কথা বলে লোকজনকে ভুলিয়ে রাখতেন। তবে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করতেন সব সময়। দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন করতে না পারলেও তার দলের কতিপয় নেতা-কর্মি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। হাসানুল হক ইনুর সম্পদের বিষয়ে বলেন,‘ টানা ৪ মেয়াদে এমপি থাকায় নিজ এলাকা গোলাপনগরে একটি বাড়ি ছাড়া উপজেলার কোথাও তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোন সম্পদ নেই। তবে ঢাকায় তার ও তার ছেলেদের নামে অনেক সম্পদ আছে বলে শুনেছি।’  ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ ইনু এমপি থাকাকালিন কোন সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগের কাউকেই দেয়নি। তার দলের ৩ থেকে৪জন নেতা কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। ইনু তাদের এ সুযোগ করে দিয়েছেন। আর মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহম্মদ আলী সব কাজের কমিশন ইনুর স্ত্রী রিনা আফরোজকে দিতেন বলে সবাই বলাবালি করে। তবে ইনুর পুরাতন একটি বাড়ি ছাড়া জেলায় কোন সম্পদ আছে বলে জানা নেই।’  জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মহসিনের সাথে কথা বলতে তার মোবাইলে রিং দিলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের শীর্ষ নেতাদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে।  জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, জাসদ সভাপতি ইনু ভারতে পালিয়ে থাকা হাসিনার প্রধান দোসর। তারা ১৬ বছরে বাংলাদেশকে শোষণ করেছে। তাই ইনু এর দায় এড়াতে পারে না। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ক্রয়চুক্তি সই

ইনুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলাকার মানুষের

গ্রামে একটি বাড়ি ছাড়া দৃশ্যমান কোন সম্পদ নেই কুষ্টিয়ায় 

আপডেট সময় ১১:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ দেশের রাজনীতিতে আলোচিত নাম জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগরের সন্তান ইনু আটকের খবরে জেলার মানুষ নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরাজিত হন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর মাত্র দুইবার এলাকায় আসেন এই নেতা।  ১৪দলীয় জোটের অন্যতম নেতা হাসানুল হক ইনুর সাথে স্থাণীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছিল দা-কুমড়া সম্পর্ক। তাই সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতারা কামারুল আরেফিনের পক্ষে ভোটে নামলে ইনুর নৌকার ডুবে যায়। গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে ইনু জেলার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বাড়িও ভেড়ামারায় হওয়ার সুবাদে দুইজনের মধ্যে ছিল সাপে-নেওলে সম্পর্ক। গত রোববার ভেড়ামারা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এক প্রতিবাদ সভা থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা ইনুকে কট্টাক্ষ করে নানা বক্তব্য রাখেন। অশ্রাভ্য ভাষায় ইনুকে গালিগালাজও করেন কয়েকজন নেতা।  পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৮ সালের আগের তিনটি নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২(ভেড়ামারা-মিরপুর) আসন থেকে জাসদ থেকে মশাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিএনপি প্রার্থীর কাছে জামানত হারান। তবে মহাজোট গঠনের পর ইনুর কপাল খুলে যায়। একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ দলীয় মনোনয়ন চাইলেও ইনুকে আসন ছেড়ে দেওয়ার কারনে কপাল পুড়ে যায় হানিফের। হানিফকে সদরে পাঠানো হয়। আর সর্বশেষ ৪টি সংসদ নির্বাচনে নৌকায় চড়ে এমপি বনে যান ইনু। এমনকি মন্ত্রীর স্বাদও গ্রহন করেন। তথ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  যে নৌকায় চড়ে ইনু এমপি ও মন্ত্রী হন সেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মিদের সাথে ইনু ও তার দল জাসদের সম্পর্ক মোটেও ভাল যায়নি বিগত বছরগুলোতে।  বিশেষ করে সর্বশেষ দুটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েন ইনু। শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে কয়েকবার ইনু উতরে গেলেও এবার ইনুর নৌকা ডুবে যায় হানিফের শিষ্য কামারুলের কাছে। শিষ্যকে দিয়ে ফাঁদ পেতে ধরাশায়ী করেন ইনুকে। ইনু ও জাসদের রাজনীতি কুষ্টিয়া থেকে বিতাড়িত করতে হানিফ উঠেপড়ে ছিলেন। সর্বশেষ দুই বছরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগ ওঠে জাসদ নেতা-কর্মিদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমানকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর জাসদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মিদের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মিরা ইনুর বিরুদ্ধে মিছিল ও সমাবেশ করে শাস্তি দাবি করেন।  আর এ হত্যার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করা হয় ইনুর অনুগত ও ডানহাত হিসেবে পরিচিত জেলা জাসদ সভাপতি আব্দুল আলীম স্বপন ও তার ভাই চাঁদগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান তপনের বিরুদ্ধে। ইনু আসামী না গলেও জাসদের জেলার শীর্ষ নেতারা আসামী হন। এরপর গত বছরের ২ আগষ্ট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যা সঞ্জয় কুমার হত্যার পর জাসদকে দায়ী করা হয়। এ ঘটনার পর জাসদ ও বিএনপির নেতা-কর্মিদের বাড়ি-ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের লোকজন। এসব নিয়ে জাসদ ও আওয়ামী লীগের সম্পর্কে আর জোড়া লাগাতে পারেনি ইনু। যার পরিণতি ভোগ করতে হয় সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে। পুর্বের রাগ ও অভিযান থেকে মাহবুবউল আলম হানিফ রাজনীতির মাঠে ইনুকে ঘায়েল করতে শিষ্য কামারুল আরেফিনকে খাড়া করে দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইনুর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে নামলে বেকায়দায় পড়ে যান। ঢাকায় বসে কামারুলকে মাঠ থেকে সরাতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যণÍ না পেরে হতাশ হন ইনু। নির্বাচনে কামারুল আরেফিনের নিকট শোচনীয় পরাজয় বরণ করে মান অভিযানে আর জেলা মুখী হননি খুব একটা।  জাসদ গণবাহিনীর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ইনুকে নিজ দল জাসদেও আছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে জাতীয় নেতা কাজী আরেফ হত্যার ঘটনায় দলের অনেকেই মাষ্টার মাইন্ড হিসেবে ইনুকে দায়ী করেন। এছাড়া কুষ্টিয়া অঞ্চলে আরো অনেক হত্যাকান্ডের নায়ক হিসেবে ইনুকে দায়ী করেন সাধারন মানুষ। কুষ্টিয়া অঞ্চলে অস্ত্রের রাজনীতি ও চরমপন্থি গ্রুপগুলো একটা সময় ইনু নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তার দলের অনেক-কর্মি এখনো অস্ত্রের রাজনীতি করেন বলেন অভিযোগ আছে। সর্বশেষ ভেড়ামারা আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান হত্যাকান্ডের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন ইনুর অনুগতরা।  এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাদের অভিযোগ, ইনু কথায় কথায় পুলিশ দিয়ে হয়রানী করতেন নেতা-কর্মিদের। জামায়াত-বিএনপির অনেকেই ইনুর সহনুভুতি পেলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মিদের নামে মামলা দিয়ে বাড়ি-ঘর ছাড়া করা হয় তার আমলে।   আলেম বিদ্বেষী ইনুর প্রতি জেলার বড় একটি অংশ চরম ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে হেফাজত ইসলামের নেতারা ইনুর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হেফাজত নেতা মুফতি আব্দুল লতিফ বলেন, আলেমদের নিয়ে অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন। শাপলা চত্বরে আওয়ামী লীগ সরকার যে তান্ডব চালিয়ে ছিল তার অন্যতম মাষ্টার মাইন্ড ছিল ইনু। তাই তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’  এদিকে প্রায় ১৬ বছর এমপি থাকাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার একছত্র আধিপত্য ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি তার পরিবারের লোকজন বসেন। স্ত্রী রিনা আফরোজ ছাড়াও ছেলেকে সভাপতি করেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। টেন্ডার হাট-ঘাট দখলে ছিল ইনুর অনুগতদের। ভেড়ামারায় ইনুর নিজ ইউনিয়ন গোলাপনগর এলাকার কয়েকজনের সাথে মোবাইলে কথা হয় গতকাল সোমবার বিকেলে। ইনুর আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।  আতিয়ার রহমান নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন,‘ ইনু ছিলেন চতুর একজন ব্যাক্তি। তিনি মানুষের সাথে মুখে মিষ্টি কথা বলে লোকজনকে ভুলিয়ে রাখতেন। তবে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করতেন সব সময়। দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন করতে না পারলেও তার দলের কতিপয় নেতা-কর্মি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। হাসানুল হক ইনুর সম্পদের বিষয়ে বলেন,‘ টানা ৪ মেয়াদে এমপি থাকায় নিজ এলাকা গোলাপনগরে একটি বাড়ি ছাড়া উপজেলার কোথাও তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোন সম্পদ নেই। তবে ঢাকায় তার ও তার ছেলেদের নামে অনেক সম্পদ আছে বলে শুনেছি।’  ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ ইনু এমপি থাকাকালিন কোন সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগের কাউকেই দেয়নি। তার দলের ৩ থেকে৪জন নেতা কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। ইনু তাদের এ সুযোগ করে দিয়েছেন। আর মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহম্মদ আলী সব কাজের কমিশন ইনুর স্ত্রী রিনা আফরোজকে দিতেন বলে সবাই বলাবালি করে। তবে ইনুর পুরাতন একটি বাড়ি ছাড়া জেলায় কোন সম্পদ আছে বলে জানা নেই।’  জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মহসিনের সাথে কথা বলতে তার মোবাইলে রিং দিলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের শীর্ষ নেতাদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে।  জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, জাসদ সভাপতি ইনু ভারতে পালিয়ে থাকা হাসিনার প্রধান দোসর। তারা ১৬ বছরে বাংলাদেশকে শোষণ করেছে। তাই ইনু এর দায় এড়াতে পারে না। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’