ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :

বিএনপির বহিষ্কৃতরা দলে ফিরতে চান

  • ডিপি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪
  • 48

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা কারণে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা দলে ফিরতে চান। এর আগে উপজেলা নির্বাচন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে বিএনপি। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে শতাধিক নেতাকর্মী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিয়েছেন। অনেকে দলীয় পদ ফিরে পেতে আবেদন জমা দিয়েছেন। এরই মধ্যে গত সোমবার চার নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। পদ ফিরে পাওয়া এসব নেতাকে কয়েক বছর আগে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবার পাঁচ থেকে সাত বছর আগে অনেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তারা পদ ফিরে পাননি। নতুনভাবে যারা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করছেন, সেগুলো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত জানাবেন। সম্প্রতি নতুনভাবে ১০৮ নেতাকর্মী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বলে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কালবেলাকে বলেন, বর্তমান অবৈধ জন-ম্যান্ডেটহীন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত। এর পরও যারা নির্বাচন করেছেন, তাদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য অনেকেই আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে সিদ্ধান্ত দেবেন।

সদ্য সমাপ্ত চার ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় দলটির হাইকমান্ড। এর পরও তৃণমূলের বেশকিছু নেতাকর্মী দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী এসব নেতাকে পর্যায়ক্রমে দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সারা দেশে এমন ২২৫ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার কারণে দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

গত ৮ মে প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোট গ্রহণের মাধ্যমে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শুরু হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। নির্বাচন বর্জন ও জনগণকে ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সারা দেশে কয়েক লাখ লিফলেট বিতরণ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পথসভা, হাটসভা, কর্মিসভা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে বিএনপির ডাকে দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষমতাসীন দলের একতরফা উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করেছে বলে বিএনপির নেতারা মনে করেন।

বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, গত ১৫ এপ্রিল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যারা উপজেলা নির্বাচনে যাবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবুও বিএনপির অনেক নেতা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হন। প্রথম ধাপে ৮১ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৭১ জন, তৃতীয় ধাপে ৫৯ জন এবং চতুর্থ ধাপে মোট ১৪ জন নেতা প্রার্থী হন। বিএনপির সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলার নেতারা প্রার্থীদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। হাতেগোনা কয়েকজন প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও বেশিরভাগই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। যে কারণে এসব নেতাকে প্রথমে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু চিঠির জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখন এসব নেতাকর্মী দলে ফিরতে চাইছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ক্রয়চুক্তি সই

বিএনপির বহিষ্কৃতরা দলে ফিরতে চান

আপডেট সময় ১১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা কারণে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা দলে ফিরতে চান। এর আগে উপজেলা নির্বাচন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে বিএনপি। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে শতাধিক নেতাকর্মী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিয়েছেন। অনেকে দলীয় পদ ফিরে পেতে আবেদন জমা দিয়েছেন। এরই মধ্যে গত সোমবার চার নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। পদ ফিরে পাওয়া এসব নেতাকে কয়েক বছর আগে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবার পাঁচ থেকে সাত বছর আগে অনেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তারা পদ ফিরে পাননি। নতুনভাবে যারা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করছেন, সেগুলো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত জানাবেন। সম্প্রতি নতুনভাবে ১০৮ নেতাকর্মী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বলে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কালবেলাকে বলেন, বর্তমান অবৈধ জন-ম্যান্ডেটহীন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত। এর পরও যারা নির্বাচন করেছেন, তাদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য অনেকেই আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে সিদ্ধান্ত দেবেন।

সদ্য সমাপ্ত চার ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় দলটির হাইকমান্ড। এর পরও তৃণমূলের বেশকিছু নেতাকর্মী দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী এসব নেতাকে পর্যায়ক্রমে দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সারা দেশে এমন ২২৫ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার কারণে দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

গত ৮ মে প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোট গ্রহণের মাধ্যমে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শুরু হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। নির্বাচন বর্জন ও জনগণকে ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সারা দেশে কয়েক লাখ লিফলেট বিতরণ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পথসভা, হাটসভা, কর্মিসভা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে বিএনপির ডাকে দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষমতাসীন দলের একতরফা উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করেছে বলে বিএনপির নেতারা মনে করেন।

বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, গত ১৫ এপ্রিল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যারা উপজেলা নির্বাচনে যাবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবুও বিএনপির অনেক নেতা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হন। প্রথম ধাপে ৮১ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৭১ জন, তৃতীয় ধাপে ৫৯ জন এবং চতুর্থ ধাপে মোট ১৪ জন নেতা প্রার্থী হন। বিএনপির সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলার নেতারা প্রার্থীদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। হাতেগোনা কয়েকজন প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও বেশিরভাগই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেন। যে কারণে এসব নেতাকে প্রথমে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু চিঠির জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখন এসব নেতাকর্মী দলে ফিরতে চাইছেন।