ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
কুষ্টিয়ায় নারীর চুল কেটে নির্যাতন

আসামিদের ছিনিয়ে নিতে থানা ঘেরাও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর

কুমারখালীতে চুরির অভিযোগে নারীর চুল কেটে দেওয়া ও বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টা দিকে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

ওই মামলায় বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিন নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে বেলা ১১টায় কুমারখালী থানা ঘেরাও করেন শতাধিক গ্রামবাসী। থানা চত্বরে আসামীদের ছাড়িয়ে নিতে গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ।

এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন- উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের রিপনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন, বক্করের স্ত্রী লিপি খাতুন ও মোমিনের স্ত্রী পারভিন খাতুন।

বেলা ১১টার দিকে থানা চত্বরে দেখা যায় এলাকাবাসীর ভিড়। পুলিশ আসামিদের গাড়িতে তুলছে। আর আসামী পক্ষের লোকজন তাদের নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা রিপন বলেন, ‘ওই নারী আমার বাড়ি থেকে ৪১ হাজার টাকা ও মাংস চুরি করে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। আর পুলিশ চোরের পক্ষ নিয়ে আমার স্ত্রীসহ তিনজনকে ধরে এনেছে। আমরা চোরের শাস্তি চাই আর আমার স্ত্রীসহ আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেছি।’

একই এলাকার কয়েকজন বলেন, ‘ওই নারী এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করেছেন। সেদিন লোকজন ধরে বিচার করেছেন। আর পুলিশ আমাদের লোক ধরে এনেছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।’ যাদের বাড়িতে চুরি হল পুলিশ তাদেরকে ধরে আনলো। আমরা চোরের বিচার চাই।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে গত সোমবার বিকেলে প্রতিবেশী রিপন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির ঘরে ঢুকে রেফ্রিজারেটর থেকে মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে ভুক্তভোগী রিনা খাতুনের বিরুদ্ধে। সে সময় প্রতিবেশী রিপনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন তাঁকে ধরে বাড়ির উঠানে পেয়ারাগাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করে মাংস কেড়ে নেন। একপর্যায়ে রিনাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান তাঁর স্বামী।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন রাত আটটার দিকে ওই নারীর বাড়িতে ভাঙচুর করে তাঁকে তুলে আবার প্রতিবেশীর বাড়ি নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেন। রাত ১০টার দিকে স্বজন ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিস বসান স্থানীয় ইউপি সদস্য। এ সময় মারধরের শিকার নারীর দুটি গরু, একটি ছাগল ও স্বর্ণালংকারের বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে চুরির নাটক সাজিয়ে আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন গ্রামের লোকজন। আমি বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি। কিন্তু মামলা তোলার জন্য সকলেই হুমকি দিচ্ছে।’

এ সম্পর্কে কুমারখালী থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, শারীরিক নির্যাতন, চুল কর্তন, ভাঙচুর, লুটপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগে এক নারী মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময় তাদের পরিবার ও গ্রামের লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সমঝোতার জন্য চাপ দেয়। গাড়ির সামনে শুয়ে পরে। তবু কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা এজাহার নামীয় আরো আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ক্রয়চুক্তি সই

কুষ্টিয়ায় নারীর চুল কেটে নির্যাতন

আসামিদের ছিনিয়ে নিতে থানা ঘেরাও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর

আপডেট সময় ০৮:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

কুমারখালীতে চুরির অভিযোগে নারীর চুল কেটে দেওয়া ও বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টা দিকে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

ওই মামলায় বুধবার সকাল ৯টার দিকে তিন নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে বেলা ১১টায় কুমারখালী থানা ঘেরাও করেন শতাধিক গ্রামবাসী। থানা চত্বরে আসামীদের ছাড়িয়ে নিতে গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ।

এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন- উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের রিপনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন, বক্করের স্ত্রী লিপি খাতুন ও মোমিনের স্ত্রী পারভিন খাতুন।

বেলা ১১টার দিকে থানা চত্বরে দেখা যায় এলাকাবাসীর ভিড়। পুলিশ আসামিদের গাড়িতে তুলছে। আর আসামী পক্ষের লোকজন তাদের নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা রিপন বলেন, ‘ওই নারী আমার বাড়ি থেকে ৪১ হাজার টাকা ও মাংস চুরি করে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। আর পুলিশ চোরের পক্ষ নিয়ে আমার স্ত্রীসহ তিনজনকে ধরে এনেছে। আমরা চোরের শাস্তি চাই আর আমার স্ত্রীসহ আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেছি।’

একই এলাকার কয়েকজন বলেন, ‘ওই নারী এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করেছেন। সেদিন লোকজন ধরে বিচার করেছেন। আর পুলিশ আমাদের লোক ধরে এনেছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।’ যাদের বাড়িতে চুরি হল পুলিশ তাদেরকে ধরে আনলো। আমরা চোরের বিচার চাই।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে গত সোমবার বিকেলে প্রতিবেশী রিপন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির ঘরে ঢুকে রেফ্রিজারেটর থেকে মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে ভুক্তভোগী রিনা খাতুনের বিরুদ্ধে। সে সময় প্রতিবেশী রিপনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন তাঁকে ধরে বাড়ির উঠানে পেয়ারাগাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করে মাংস কেড়ে নেন। একপর্যায়ে রিনাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান তাঁর স্বামী।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন রাত আটটার দিকে ওই নারীর বাড়িতে ভাঙচুর করে তাঁকে তুলে আবার প্রতিবেশীর বাড়ি নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেন। রাত ১০টার দিকে স্বজন ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিস বসান স্থানীয় ইউপি সদস্য। এ সময় মারধরের শিকার নারীর দুটি গরু, একটি ছাগল ও স্বর্ণালংকারের বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে চুরির নাটক সাজিয়ে আমার সঙ্গে অন্যায় করেছেন গ্রামের লোকজন। আমি বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি। কিন্তু মামলা তোলার জন্য সকলেই হুমকি দিচ্ছে।’

এ সম্পর্কে কুমারখালী থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, শারীরিক নির্যাতন, চুল কর্তন, ভাঙচুর, লুটপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগে এক নারী মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময় তাদের পরিবার ও গ্রামের লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সমঝোতার জন্য চাপ দেয়। গাড়ির সামনে শুয়ে পরে। তবু কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা এজাহার নামীয় আরো আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।