গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাড়ির পাশ থেকে শেফালী বেগম (৩৩) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ১০টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের বাগদা বাজার সংলগ্ন কাটাবাড়ী গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শেফালী বেগম ওই গ্রামের ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী। এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ফরিদুল ইসলাম (৪০) পলাতক।
এলাকাবাসী জানান, ১২ বছর আগে কাটাবাড়ী ইউনিয়নের বোগদহ কলোনীর শরিফ উদ্দিনের মেয়ে শেফালী বেগমের সাথে কাটাবাড়ী গ্রামের বাগদা বাজার টাওয়ার এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ফরিদুল ইসলামের দ্বিতীয় বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই নানা কারণে শিউলীকে নির্যাতন করত ফরিদুল। শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। এক পর্যায়ে ফরিদুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিউলীর গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়ির পাশে বাগানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এদিকে, সন্ধ্যায় ৭টার দিকে শেফালীর ছেলে সাকিব (১০) খেলাধুলা শেষে বাড়ি ফিরে মাকে খুঁজে না পেয়ে, মায়ের ফোনে কল দিলে বাড়ির পাশে আম বাগান থেকে মোবাইলে রিং বাজতে থাকলে বাগানে গিয়ে কাঁঠাল গাছের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে। খবর পেয়ে এসে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার জন্য এলাকাবাসী নিহতের স্বামী ফরিদুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেন।
নিহত শিউলীর ভাই সোহেল বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত ফরিদুল। আজ সন্ধ্যায় সে পরিকল্পিতভাবে শিউলীকে হত্যা করে পালিয়েছে। ফরিদুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। নিহতের গলা ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলাম ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধা জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) রশিদুল বারী।
ডেস্ক রিপোর্ট 
























