ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ আগস্ট যুবক জনি হত্যা চেষ্টা মামলা

র‌্যাবের হাতে কুষ্টিয়া পৌরসভার ৩ কাউন্সিলর গ্রেফতার : হানিফ-আতাসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭৩ জন আসামী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 110

নিজ সংবাদ ॥ গত ৫ আগষ্ট সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতে কোটা বিরোধী ও অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শহরের বার্মিজ গলিতে হত্যার উদ্দেশ্যে  মারপিট ও গুলিবর্ষনে গুরুতর আহত হন কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোরাই গ্রামের তামজিদ হোসেন জনি (২৬) নামের এক যুবক। এ  ঘটনায় গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতাসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন আহত যুবক তামজিদ হোসেন জনির বড় ভাই মোঃ জিলহজ হোসেন। মামলা নং-১৩, তারিখ-১৯-০৯-২৪। এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভায় অভিযান চালিয়ে এই হত্যা চেষ্টা মামলার ৩ আসামী ৩ পৌর কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন- মামলার ৬নং আসামী কুষ্টিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফ উল হক ওরফে মুরাদ, মামলার ৪নং আসামী পৌর ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম নজু ও মামলার ৩৫নং আসামী পৌর ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছ কুরাইশী।  র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার ইলিয়াস খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় তাদের  গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পৌর ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবাউদ্দিন সওদাগর বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) পৌরসভায় মাসিক মিটিং ছিল। মিটিংএ সকল কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন কাউন্সিলর হাজিরাতে স্বাক্ষর করে চলে যান। বেলা ৩টার দিকে মিটিং শেষ করে কাউন্সিলররা বের হলে র‌্যাব তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে কি কারণে নিয়ে গেছে তা তিনি জানেননা বলেও জানান।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে গত ৫ আগস্ট বাদির ছোট ভাই তামজিদ হোসেন জনি(২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানাধীন বার্মিজ গলিতে পৌছালে মামলার আসামীরা দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার ভাই জনিসহ আন্দোলনরতদের পথরোধ করে। এসময় কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ হুকুমে অন্যান্য আসামীরা আমার ভাইসহ আন্দোলনে থাকা সবাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। আমার ভাই জনিসহ জীবন বাঁচানোর জন্য কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের দিকে দৌড় দেয়। থানাপাড়াস্থ টুরিষ্ট লজের সামনে পৌছালে আসামীরা আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেছন দিক থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করে। আসামীরা লাঠি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আমার ভাই জনির বাম পায়ে গুলি করে গুরুতর রক্তাক্ত, হাড়ভাঙ্গা জখম করে। পরে পথচারীরা এগিয়ে এসে আমার ভাইকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ার আড়াইশ’ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করে।  মামলার আসামীরা হলেন কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ, কুষ্টিয়া পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম নজু, কুমারখালীর কালোয়া গ্রামের নিজামুল হক চুন্নু, কুষ্টিয়া পৌর কাউন্সিলর সাইফ-উল হক ওরফে মুরাদ, সদর উপজেলা জুগিয়া গ্রামের মৃত আনছার শেখের ছেলে মাহাবুল, শহরের এরশাদ নগর এলাকার ফকির আলীর ছেলে সালামত, কুমারখালীর জিলাপীতলার বালু ব্যবসায়ী মাসুদ, ইবি থানার হাতিয়া গ্রামের মৃত আজিবার বিশ^াসের ছেলে পাপুল বিশ^াস, মিনাপাড়া ওয়াজ আলীর ছেলে সুজন আহমেদ, একই এলাকার মনো মন্ডলের ছেলে সাহাজ্জুল, মৃত কটার ছেলে পাপন, মৃত সাইদার বিশ^াসের ছেলে তরিকুল হাসান সাগর, কুমারখালীর নগর সাঁওতা গ্রামের আতুল শেখের ছেলে মিজানুর রহমান মুসা, পাহাড়পুর গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে কটা বিশ^াস, শহরের কালিশংকরপুরের নজরুল ইসলামের ছেলে যুবলীগ নেতা সবুজ আহমেদ, কুষ্টিয়া শহরের বাড়াদি মধ্যপাড়ার মৃত রাজা মেম্বারের ছেলে পৌর কাউন্সিলর আবু জাহিদ সঞ্জু, ইবি থানার হাতিয়া গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেমের ছেলে সজল, কুমারখালীর দয়রামপুর গ্রামের মৃত গুলাই সরদারের ছেলে কামিন সরদার, একই এলাকার ইয়াকুব মোল্লার ছেলে নূর আলম জিকু, সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে রহিদুল ইসলাম, মৃত তোরাপ মন্ডলের ছেলে রাশিদুল ইসলাম, বালিয়াপাড়ার গঞ্জের আলীর ছেলে সেকেন, কাঞ্চনপুর গ্রামের আমজেদের ছেলে একরাম মন্ডল, মিরপুর উপজেলার ধূবাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজামাল বরুন, ধূবইল গ্রামের সামসুদ্দিন থান্ডারের ছেলে সজল, ইবি থানার হাতিয়া গ্রামের ইমারত মন্ডলের ছেলে আমান,  কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর গ্রামের মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেমের ছেলে শিপন আলী, কুমারখালীর বাড়াদী গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে মিজান, কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার কারিগরপাড়ার  মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন, মৃত বজলুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও মুলতান হোসেন তারা, কুষ্টিয়া পৌর কাউন্সিলর আনিস কুরাইশী, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মোড়ের মতিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী নিশান, হাসপাতাল মোড়ের ফার্মেসী ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন চঞ্চল, আতাউর রহমান আতার পিএস আফিল ডাক্তার, মোল্লাতেঘরিয়ার মৃত ইয়ার উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি, ছেঁউড়িয়ার মৃত আব্দল জব্বারের ছেলে নূর মোহাম্মদ পুকারী ও নূর মোহাম্মদের ছেলে রাজিব হোসেন, শহরের হরিশংকরপুর এলাকার মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, দলিল লেখক ওহিদুর রহমান লাইজু,  কুমারখালীর কয়ার আব্দুল রহিমের ছেলে জীবন হাসান সোহেল, দুর্বাচারার মৃত আইজুদ্দিন মন্ডলের ছেলে ইদ্রিস মন্ডল, মৃত মোসলেম উদ্দিন মোল্লার ছেলে ছানোয়ার মোল্লা, মৃত সলিম উদ্দিনের ছেলে সাহিরুল ইসলাম ও সাবু বিন বিশ^াস, আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে রাকিব মন্ডল, শ্যামপুর গ্রামের বজলুর রহমান শেখের ছেলে ইমরান শেখ, দূর্বাচারার মৃত তোরাপ আলীর ছেলে সাহেব আলী মিস্ত্রি, মৃত আহম্মদ মোল্লার ছেলে আব্দুর রহমান মোল্লা, স্বস্তিপুর গ্রামের মাদার মন্ডলের ছেলে আলিম, শহরের ঈদগাহপাড়ার জিনাত আলীর ছেলে সাইফুদ্দৌলা তরুন, বাড়াদী গ্রামের রশিদ সর্দ্দারের ছেলে পাভেল, পাটিকাবাড়ির আলহাজ¦ মওলা মন্ডলের ছেলে সাদ আহমেদ, শহরের কোর্টপাড়ার কলেজ মোড় এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আক্তারুজ্জামান লাবু, আড়–য়াপাড়ার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, মোল্লাতেঘরিয়ার নিয়েত আলীর ছেলে আব্দুল হাই, আড়–য়াপাড়ার মোটা মিলনের ছেলে সজিব, কুমারখালীর  মির্জাপুর শিলাইদহ  গ্রামের বদর উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারিক বাবু, মৃত হাতেম মহাজনের ছেলে আব্দুল ওহাব, মৃত জলিলের ছেলে আব্দুল গফ্ফার, শহরের আমলাপাড়ার গৌতম চাকীর ছেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মানব চাকী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কয়ার মৃত বাচ্চু চেয়ারম্যানের ছেলে ইয়াসির আরাফাত তুষার, শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাসিব কোরাইশী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক, সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফেরদৌস, হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মন্ডল, পৌর কাউন্সিলর সোহেল রানা আশা, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোমিজুর রহমান মোমিজ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপন ও হাটশ হরিপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস। এছাড়াও অজ্ঞাত ৪০/৪৫জনকে আসামী করা হয়েছে এই মামলায়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। 

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ আগস্ট যুবক জনি হত্যা চেষ্টা মামলা

র‌্যাবের হাতে কুষ্টিয়া পৌরসভার ৩ কাউন্সিলর গ্রেফতার : হানিফ-আতাসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭৩ জন আসামী

আপডেট সময় ০১:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ গত ৫ আগষ্ট সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতে কোটা বিরোধী ও অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শহরের বার্মিজ গলিতে হত্যার উদ্দেশ্যে  মারপিট ও গুলিবর্ষনে গুরুতর আহত হন কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোরাই গ্রামের তামজিদ হোসেন জনি (২৬) নামের এক যুবক। এ  ঘটনায় গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতাসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন আহত যুবক তামজিদ হোসেন জনির বড় ভাই মোঃ জিলহজ হোসেন। মামলা নং-১৩, তারিখ-১৯-০৯-২৪। এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভায় অভিযান চালিয়ে এই হত্যা চেষ্টা মামলার ৩ আসামী ৩ পৌর কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন- মামলার ৬নং আসামী কুষ্টিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফ উল হক ওরফে মুরাদ, মামলার ৪নং আসামী পৌর ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম নজু ও মামলার ৩৫নং আসামী পৌর ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছ কুরাইশী।  র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার ইলিয়াস খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় তাদের  গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পৌর ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবাউদ্দিন সওদাগর বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) পৌরসভায় মাসিক মিটিং ছিল। মিটিংএ সকল কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন কাউন্সিলর হাজিরাতে স্বাক্ষর করে চলে যান। বেলা ৩টার দিকে মিটিং শেষ করে কাউন্সিলররা বের হলে র‌্যাব তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে কি কারণে নিয়ে গেছে তা তিনি জানেননা বলেও জানান।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে গত ৫ আগস্ট বাদির ছোট ভাই তামজিদ হোসেন জনি(২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানাধীন বার্মিজ গলিতে পৌছালে মামলার আসামীরা দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার ভাই জনিসহ আন্দোলনরতদের পথরোধ করে। এসময় কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ হুকুমে অন্যান্য আসামীরা আমার ভাইসহ আন্দোলনে থাকা সবাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। আমার ভাই জনিসহ জীবন বাঁচানোর জন্য কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের দিকে দৌড় দেয়। থানাপাড়াস্থ টুরিষ্ট লজের সামনে পৌছালে আসামীরা আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেছন দিক থেকে গুলিবর্ষণ শুরু করে। আসামীরা লাঠি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আমার ভাই জনির বাম পায়ে গুলি করে গুরুতর রক্তাক্ত, হাড়ভাঙ্গা জখম করে। পরে পথচারীরা এগিয়ে এসে আমার ভাইকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ার আড়াইশ’ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করে।  মামলার আসামীরা হলেন কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ, কুষ্টিয়া পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম নজু, কুমারখালীর কালোয়া গ্রামের নিজামুল হক চুন্নু, কুষ্টিয়া পৌর কাউন্সিলর সাইফ-উল হক ওরফে মুরাদ, সদর উপজেলা জুগিয়া গ্রামের মৃত আনছার শেখের ছেলে মাহাবুল, শহরের এরশাদ নগর এলাকার ফকির আলীর ছেলে সালামত, কুমারখালীর জিলাপীতলার বালু ব্যবসায়ী মাসুদ, ইবি থানার হাতিয়া গ্রামের মৃত আজিবার বিশ^াসের ছেলে পাপুল বিশ^াস, মিনাপাড়া ওয়াজ আলীর ছেলে সুজন আহমেদ, একই এলাকার মনো মন্ডলের ছেলে সাহাজ্জুল, মৃত কটার ছেলে পাপন, মৃত সাইদার বিশ^াসের ছেলে তরিকুল হাসান সাগর, কুমারখালীর নগর সাঁওতা গ্রামের আতুল শেখের ছেলে মিজানুর রহমান মুসা, পাহাড়পুর গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে কটা বিশ^াস, শহরের কালিশংকরপুরের নজরুল ইসলামের ছেলে যুবলীগ নেতা সবুজ আহমেদ, কুষ্টিয়া শহরের বাড়াদি মধ্যপাড়ার মৃত রাজা মেম্বারের ছেলে পৌর কাউন্সিলর আবু জাহিদ সঞ্জু, ইবি থানার হাতিয়া গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেমের ছেলে সজল, কুমারখালীর দয়রামপুর গ্রামের মৃত গুলাই সরদারের ছেলে কামিন সরদার, একই এলাকার ইয়াকুব মোল্লার ছেলে নূর আলম জিকু, সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে রহিদুল ইসলাম, মৃত তোরাপ মন্ডলের ছেলে রাশিদুল ইসলাম, বালিয়াপাড়ার গঞ্জের আলীর ছেলে সেকেন, কাঞ্চনপুর গ্রামের আমজেদের ছেলে একরাম মন্ডল, মিরপুর উপজেলার ধূবাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজামাল বরুন, ধূবইল গ্রামের সামসুদ্দিন থান্ডারের ছেলে সজল, ইবি থানার হাতিয়া গ্রামের ইমারত মন্ডলের ছেলে আমান,  কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর গ্রামের মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেমের ছেলে শিপন আলী, কুমারখালীর বাড়াদী গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে মিজান, কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার কারিগরপাড়ার  মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন, মৃত বজলুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও মুলতান হোসেন তারা, কুষ্টিয়া পৌর কাউন্সিলর আনিস কুরাইশী, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মোড়ের মতিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী নিশান, হাসপাতাল মোড়ের ফার্মেসী ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন চঞ্চল, আতাউর রহমান আতার পিএস আফিল ডাক্তার, মোল্লাতেঘরিয়ার মৃত ইয়ার উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি, ছেঁউড়িয়ার মৃত আব্দল জব্বারের ছেলে নূর মোহাম্মদ পুকারী ও নূর মোহাম্মদের ছেলে রাজিব হোসেন, শহরের হরিশংকরপুর এলাকার মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, দলিল লেখক ওহিদুর রহমান লাইজু,  কুমারখালীর কয়ার আব্দুল রহিমের ছেলে জীবন হাসান সোহেল, দুর্বাচারার মৃত আইজুদ্দিন মন্ডলের ছেলে ইদ্রিস মন্ডল, মৃত মোসলেম উদ্দিন মোল্লার ছেলে ছানোয়ার মোল্লা, মৃত সলিম উদ্দিনের ছেলে সাহিরুল ইসলাম ও সাবু বিন বিশ^াস, আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে রাকিব মন্ডল, শ্যামপুর গ্রামের বজলুর রহমান শেখের ছেলে ইমরান শেখ, দূর্বাচারার মৃত তোরাপ আলীর ছেলে সাহেব আলী মিস্ত্রি, মৃত আহম্মদ মোল্লার ছেলে আব্দুর রহমান মোল্লা, স্বস্তিপুর গ্রামের মাদার মন্ডলের ছেলে আলিম, শহরের ঈদগাহপাড়ার জিনাত আলীর ছেলে সাইফুদ্দৌলা তরুন, বাড়াদী গ্রামের রশিদ সর্দ্দারের ছেলে পাভেল, পাটিকাবাড়ির আলহাজ¦ মওলা মন্ডলের ছেলে সাদ আহমেদ, শহরের কোর্টপাড়ার কলেজ মোড় এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আক্তারুজ্জামান লাবু, আড়–য়াপাড়ার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, মোল্লাতেঘরিয়ার নিয়েত আলীর ছেলে আব্দুল হাই, আড়–য়াপাড়ার মোটা মিলনের ছেলে সজিব, কুমারখালীর  মির্জাপুর শিলাইদহ  গ্রামের বদর উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারিক বাবু, মৃত হাতেম মহাজনের ছেলে আব্দুল ওহাব, মৃত জলিলের ছেলে আব্দুল গফ্ফার, শহরের আমলাপাড়ার গৌতম চাকীর ছেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মানব চাকী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কয়ার মৃত বাচ্চু চেয়ারম্যানের ছেলে ইয়াসির আরাফাত তুষার, শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাসিব কোরাইশী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক, সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফেরদৌস, হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মন্ডল, পৌর কাউন্সিলর সোহেল রানা আশা, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোমিজুর রহমান মোমিজ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপন ও হাটশ হরিপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস। এছাড়াও অজ্ঞাত ৪০/৪৫জনকে আসামী করা হয়েছে এই মামলায়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।