ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রে উপদেষ্টাদেরও ইন্ধন থাকতে পারে: রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের পেছনে উপদেষ্টাদেরও ইন্ধন থাকতে পারে, আর তাই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে গাদ্দার উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশ করতে হবে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সকালে নাগরিক যুব ঐক্য আয়েজিত গুণমানসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় সরকারের উপদেষ্টাদের তীব্র সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, এনজিও উপদেষ্টারা যেদিন শপথ নিয়েছেন সেদিনই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পথ খুলেছে। এটাকে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বানচালের মধ্যদিয়ে যদি অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়, তাহলে তার দায়ভার নাহিদ ইসলামকেও নিতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদ সংসদের উচ্চকক্ষে পিআরের পক্ষে জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিম্নকক্ষ পিআর কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়৷ এই ব্যবস্থা চালু হলে সকাল-বিকাল সংসদ সদস্যদের কেনাবেচা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করেছেন এবং তারা এখন নিজেদের ‘সেফ এক্সিট’ (নিরাপদ প্রস্থান) নিয়ে ভাবছেন।

এ বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে তার বক্তব্যের ভিডিও ও ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। নেটিজেনরা পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির সাথে সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতারণার অভিযোগ এনে বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাদের এবং যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের অনেককে বিশ্বাস করাটা আমাদের অবশ্যই ভুল হয়েছিল। আমাদের উচিত ছিল ছাত্র নেতৃত্বকেই শক্তিশালী করা, সরকারে গেলে সম্মিলিতভাবে যাওয়া। তিনি আরও যোগ করেন, নাগরিক সমাজ বা রাজনৈতিক দলকে আমরা যে বিশ্বাসটা করেছিলাম, যে আস্থা রেখেছিলাম, সেই জায়গায় আসলে আমরা প্রতারিত হয়েছি। তিনি দাবি করেন, অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, অথবা গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা (বিট্রে) করেছেন। যখন সময় আসবে, তখন আমরা এদের নামও উন্মুক্ত করব।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রে উপদেষ্টাদেরও ইন্ধন থাকতে পারে: রাশেদ খান

আপডেট সময় ০৩:০৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের পেছনে উপদেষ্টাদেরও ইন্ধন থাকতে পারে, আর তাই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে গাদ্দার উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশ করতে হবে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সকালে নাগরিক যুব ঐক্য আয়েজিত গুণমানসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় সরকারের উপদেষ্টাদের তীব্র সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, এনজিও উপদেষ্টারা যেদিন শপথ নিয়েছেন সেদিনই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পথ খুলেছে। এটাকে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বানচালের মধ্যদিয়ে যদি অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়, তাহলে তার দায়ভার নাহিদ ইসলামকেও নিতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদ সংসদের উচ্চকক্ষে পিআরের পক্ষে জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিম্নকক্ষ পিআর কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়৷ এই ব্যবস্থা চালু হলে সকাল-বিকাল সংসদ সদস্যদের কেনাবেচা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করেছেন এবং তারা এখন নিজেদের ‘সেফ এক্সিট’ (নিরাপদ প্রস্থান) নিয়ে ভাবছেন।

এ বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে তার বক্তব্যের ভিডিও ও ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। নেটিজেনরা পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির সাথে সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পরিষদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতারণার অভিযোগ এনে বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাদের এবং যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের অনেককে বিশ্বাস করাটা আমাদের অবশ্যই ভুল হয়েছিল। আমাদের উচিত ছিল ছাত্র নেতৃত্বকেই শক্তিশালী করা, সরকারে গেলে সম্মিলিতভাবে যাওয়া। তিনি আরও যোগ করেন, নাগরিক সমাজ বা রাজনৈতিক দলকে আমরা যে বিশ্বাসটা করেছিলাম, যে আস্থা রেখেছিলাম, সেই জায়গায় আসলে আমরা প্রতারিত হয়েছি। তিনি দাবি করেন, অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, অথবা গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা (বিট্রে) করেছেন। যখন সময় আসবে, তখন আমরা এদের নামও উন্মুক্ত করব।