চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। তবে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামি ছাত্রশিবির। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শাখা শিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ এসব অভিযোগ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বে থাকা কিছু শিক্ষক সরাসরি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে কমিশনার প্রফেসর ড. জাহিদুর রহমান চৌধুরী প্রকাশ্যে ছাত্রশিবিরবিরোধী অবস্থান নেন। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
শিবিরের দাবি, চাকসুর গঠনতন্ত্রে সভাপতি হিসেবে উপাচার্যকে সীমাহীন ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এতে নির্বাচিত সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য প্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবে। এ ক্ষমতা হ্রাস করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্তৃত্ব বাড়ানোর দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে শিবির আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পাদক পদ না রেখে অপ্রয়োজনীয় পদ সংযোজন করেছে। বিশেষ করে দপ্তর সম্পাদক পদটি শুধু পুরুষদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্তকে শিবির ‘নারী বিদ্বেষী ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে আখ্যা দেয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ দাবি করে তারা।
এ ছাড়া বয়সসীমা তুলে দিয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ তোলে শিবির। তাদের মতে, ছাত্রত্ব ফেরানোর সুযোগ একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত ছিল।
চবি শাখা শিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ শিক্ষক বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। একটি পক্ষকে সুবিধা দেয়ার জন্যই এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাদের আসলে চাকসুর কোনো ম্যান্ডেট নেই, তারাই গোপনে চাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। যাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল তাদের সঠিকভাবে বিচার হয়নি, ফলে তারা এখনো ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, চাকসু নির্বাচন নিয়ে যেন কোনো ষড়যন্ত্র না হয়।
শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ বলেন, আমাদের খসড়া প্রস্তাবনায় সব নিয়মিত শিক্ষার্থীর চাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ ছিল। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কোনো মতামত দেইনি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রভাবিত হওয়া নয়। অথচ দপ্তর সম্পাদক পদ কেবল ছাত্রদের জন্য রাখার সিদ্ধান্তকে শিবিরের পরামর্শ বলে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। এটি সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার।
ডেস্ক রিপোর্ট 










