দেশের চাল বাজার নিয়ন্ত্রনকারী সিন্ডিকেট প্রধান বাংলাদেশ মেজর অটো ও হাস্কিং রাইচ মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রশিদ এগ্রো: লি: সহ কয়েকটি গ্রুপ কোম্পানীর স্বত্ত্বাধিকার আব্দুর রশিদ’কে গ্রেফতার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেরার বটতৈল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক ভাবে অর্থ আত্মসাৎ সহ পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় পাওনাদারকে প্রান নাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অপরাধের অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন আকিজ এ্যাসেন্সিয়াল লি: এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার তোফায়েল হোসেন। মামলা নং- ১১, তারিখ: ০৯/০৯/২০২৫।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ জুন ২০২৫ তারিখ থেকে আগষ্ট-২০২৫ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে দেশের প্রথম সারির শিল্প গ্রুফ আকিজ লি: এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আকিজ এ্যাসেন্সিয়াল লি: এর সাথে কাঁচামাল সরবরাহের চুক্তি করেন। কিন্তু শর্তাবলী ভঙ্গ করে মালামাল দেয়ার প্রতিশ্রুতি করে কয়েক ধাপে অগ্রীম বাবদ ৫০ লক্ষ ৭২ হাজার ৫শ ৩০ টাকা আত্মসাৎ করেন কুষ্টিয়ার শীর্ষ চাল কল মালিক রশিদ গ্রুপের স্বত্ত্বাধিকার আব্দুর রশিদ। চুক্তির শর্তানুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি মালামাল সরবাহে ব্যর্থ হওয়ায় আকিজ এ্যাসেন্সিয়াল লি: স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘœ হয় এবং বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এই কারনে আকিজ এ্যাসেন্সিয়ালের সাথে চুক্তি অকার্যকর হওয়ায় আব্দুর রশিদের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে বার বার তাগাদা দেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানে এজিএম তোফায়েল হোসেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আব্দুর রশিদ তোফায়েল হোসেনকে অপহরনসহ প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এঘটনায় মামলার বাদী কুষ্টিয়া মডেল থানায় আব্দুর রশিদ সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ:বি: ৪০৬/ ৪২০/ ১০৯/ ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ এনে মামলা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, ‘শীর্ষ চালকল মালিক ও মালিক সমিতির শীর্ষ নেতা হয়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষকে ভয়ভীতি দিচ্ছেন। এভাবে একের পর এক প্রতারণামূল অর্থ আত্মাসাতের অভিযোগে কয়েক ডজন মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এখনও কষ্টিয়া মডেল থানাতেই তার রিুদ্ধে ১৯টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন থানাতেও অসংখ্য মামলা রয়েছে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযাগে। এছাড়া এন আই এ্যাক্টে কয়েক’শ কোটি টাকার ডজনাধিক ঋণ খেলাপী ও চেক ডিসঅনার মামলাতেও আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত গ্রেপ্তারাদেশ রয়েছে।
ওসি আরও জানায় ‘এতোবড় একটা গ্রুপ কোম্পানীজের মালিক তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থায়নে হাজার কোটি টাকার গ্রুপ ইন্ডাষ্ট্রিজে বিনিয়োগকৃত টাকা গেলো কোথায় ? সেসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখবে পুলিশ।
কুষ্টিয়া অফিস 










