ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক সারিতে কবর চারজনের

সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে নাটোরের বড়াইগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের সাতজনসহ মোট আটজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত সবাই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের বাসিন্দা।

গতকাল বুধবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দাফন করা হয় মাইক্রোবাসচালক শাহাবুদ্দিন (৪২) কে তার নিজ গ্রামের মালিথাপাড়া কবরস্থানে। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় জানাজা শেষে দৌলতপুরের প্রাগপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত জাহিদুল ইসলামের ছোট বোন রওসনারা আক্তার ইতিকে (৪৮)। একই সময়ে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় জাহিদুল ইসলামের শাশুড়ি আনজুমান (৭৫) এবং শ্যালিকা সীমাকে (৩৫)। সবশেষে আজ বৃহস্পতিবার প্রবাস থেকে দুই ছেলে আসার পর দুপুর ২টার দিকে ধর্মদহ গ্রামের ফরাজিপাড়া কবরস্থানে জানাজা শেষে পাশাপাশি চারটি কবর খনন করে একত্রে দাফন করা হয় জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), চাচাতো বোন আনোয়ারা খাতুন (৫৫) এবং চাচাতো ভাবি আনোয়ারা খাতুন আনুকে (৫০)।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত জাহিদুল ফরাজির দুই ছেলে দেশের বাইরে থাকেন। বাবা-মাসহ স্বজনদের মৃত্যুর খবরে বুধবার রাতেই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছান। ছেলেরা বাড়ি আসলেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। বুধবার রাতেই ধর্মদহ গোরস্থানে দাফন করা হয় মাইক্রোবাসের চালক শাহাবুদ্দিনের। আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময় দাফন হয় জাহিদুলসহ অন্যদের।

জাহিদুলের ভাই ও আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে আমেনা খাতুন আন্নু তার স্ত্রী। সাজানো পরিবার। নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে তাদের নিজ নিজ গ্রামে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, ধর্মদহ গিয়েছিলাম, চারজনের জানাজায় অংশ নিয়েছি। এলাকায় শোকের ছায়া। এ এক হৃদয় বিদারক ঘটনা।

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪৮৬৪) বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তরমুজ পাম্প এলাকায় পৌঁছালে, কুষ্টিয়া থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-৯৭৯২) অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে। এতে মাইক্রোবাসের ভেতরে থাকা চালকসহ ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে নেওয়া হলে একজনের মৃত্যু হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

এক সারিতে কবর চারজনের

আপডেট সময় ০৮:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে নাটোরের বড়াইগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের সাতজনসহ মোট আটজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত সবাই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের বাসিন্দা।

গতকাল বুধবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দাফন করা হয় মাইক্রোবাসচালক শাহাবুদ্দিন (৪২) কে তার নিজ গ্রামের মালিথাপাড়া কবরস্থানে। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় জানাজা শেষে দৌলতপুরের প্রাগপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় নিহত জাহিদুল ইসলামের ছোট বোন রওসনারা আক্তার ইতিকে (৪৮)। একই সময়ে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় জাহিদুল ইসলামের শাশুড়ি আনজুমান (৭৫) এবং শ্যালিকা সীমাকে (৩৫)। সবশেষে আজ বৃহস্পতিবার প্রবাস থেকে দুই ছেলে আসার পর দুপুর ২টার দিকে ধর্মদহ গ্রামের ফরাজিপাড়া কবরস্থানে জানাজা শেষে পাশাপাশি চারটি কবর খনন করে একত্রে দাফন করা হয় জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), চাচাতো বোন আনোয়ারা খাতুন (৫৫) এবং চাচাতো ভাবি আনোয়ারা খাতুন আনুকে (৫০)।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত জাহিদুল ফরাজির দুই ছেলে দেশের বাইরে থাকেন। বাবা-মাসহ স্বজনদের মৃত্যুর খবরে বুধবার রাতেই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছান। ছেলেরা বাড়ি আসলেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। বুধবার রাতেই ধর্মদহ গোরস্থানে দাফন করা হয় মাইক্রোবাসের চালক শাহাবুদ্দিনের। আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সময় দাফন হয় জাহিদুলসহ অন্যদের।

জাহিদুলের ভাই ও আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে আমেনা খাতুন আন্নু তার স্ত্রী। সাজানো পরিবার। নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে তাদের নিজ নিজ গ্রামে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, ধর্মদহ গিয়েছিলাম, চারজনের জানাজায় অংশ নিয়েছি। এলাকায় শোকের ছায়া। এ এক হৃদয় বিদারক ঘটনা।

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪৮৬৪) বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তরমুজ পাম্প এলাকায় পৌঁছালে, কুষ্টিয়া থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-৯৭৯২) অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকটির নিচে চাপা পড়ে। এতে মাইক্রোবাসের ভেতরে থাকা চালকসহ ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে নেওয়া হলে একজনের মৃত্যু হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।