ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
ইনকিলাব মঞ্চের আহতদের শরীরে লাঠির আঘাত, পাওয়া যায়নি বুলেটের রোগী টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার মারা গেছে হাদি হত্যার তদন্তে রবিবার জাতিসংঘে চিঠি দেবে অন্তর্বর্তী সরকার শাহবাগে দফায় দফায় পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ নির্বাচনি প্রচারণায় আজ রংপুর যাচ্ছেন তারেক রহমান ‘ঘাম ঝরানো শ্রমিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করলেই তারা উজাড় করে দেবে’..জামায়াতের আমির ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করলে স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়: তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’র বিস্তারিত তুলে ধরলেন তারেক রহমান ফেনীতে বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করলেন জামায়াত আমির গণভোটে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণায় ইসির নিষেধাজ্ঞা

ইনকিলাব মঞ্চের আহতদের শরীরে লাঠির আঘাত, পাওয়া যায়নি বুলেটের রোগী

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে আহত ৬০ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে জানিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অধিকাংশই লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন। বুলেট কিংবা পিলেটে আহত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যককর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। এখন পর্যন্ত আমরা ৬০ জনের মতো রোগী রিসিভ করেছি। এখনও রোগী আসছেন। এই রোগীদের মধ্যে ৩০ জনের এক্সটারনাল ইনজুরি আছে। তবে কোনো গুলিবিদ্ধ অথবা পিলেটের রোগী পাইনি। তাদের স্কাল্ব ইনজুরি, ফেস ইনজুরি, পায়ের ইনজুরি, এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি আছে, যেটা লাঠির আঘাতে হয়েছে। এছাড়া অনেকের ইনহেলেশন ইনজুরি আছে, যেটা টিয়ারসেলের কারণে হয়েছে। আমরা অক্সিজেন দিয়ে তাদের মোটামুটি সুস্থ করেছি। তবে কোনো রোগী আমরা এখনো ভর্তি করিনি।’

প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অনেক রোগী ছেড়ে জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, ক্রাউড কন্ট্রোল। ক্রাউড ম্যানেজ করা খুই মুশকিল। কেউ কথা শুনতে চায় না। এটা একটা বড় সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ২০০ চিকিৎসক উপস্থিত আছেন। আমি নিজে উপস্থিত আছি। আমাদের চিকিৎসক, নার্সের কোনো স্বল্পতা নেই। জরুরি বিভাগ আমরা বৃদ্ধি করেছি, যাতে আমরা ২৫ জন রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা দিতে পারি। কিন্তু সমস্যা হলো, এক রোগীর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন চলে আসেন। তখন চিকিৎসা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা চেষ্টা করছি, এর মধ্যে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে। আমরা জুলাইয়ে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি। আমাদের যে চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ রয়েছে– তাতে চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হবে না।’

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার প্রবেশমুখ ও ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি আদায়ে শুক্রবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। টানা দেড় ঘণ্টা চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে। আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি আহত হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে শুরু হয় যান চলাচল।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ।

ইনকিলাব মঞ্চের আহতদের শরীরে লাঠির আঘাত, পাওয়া যায়নি বুলেটের রোগী

ইনকিলাব মঞ্চের আহতদের শরীরে লাঠির আঘাত, পাওয়া যায়নি বুলেটের রোগী

আপডেট সময় ১২:২৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে আহত ৬০ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে জানিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, অধিকাংশই লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন। বুলেট কিংবা পিলেটে আহত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যককর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। এখন পর্যন্ত আমরা ৬০ জনের মতো রোগী রিসিভ করেছি। এখনও রোগী আসছেন। এই রোগীদের মধ্যে ৩০ জনের এক্সটারনাল ইনজুরি আছে। তবে কোনো গুলিবিদ্ধ অথবা পিলেটের রোগী পাইনি। তাদের স্কাল্ব ইনজুরি, ফেস ইনজুরি, পায়ের ইনজুরি, এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি আছে, যেটা লাঠির আঘাতে হয়েছে। এছাড়া অনেকের ইনহেলেশন ইনজুরি আছে, যেটা টিয়ারসেলের কারণে হয়েছে। আমরা অক্সিজেন দিয়ে তাদের মোটামুটি সুস্থ করেছি। তবে কোনো রোগী আমরা এখনো ভর্তি করিনি।’

প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অনেক রোগী ছেড়ে জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, ক্রাউড কন্ট্রোল। ক্রাউড ম্যানেজ করা খুই মুশকিল। কেউ কথা শুনতে চায় না। এটা একটা বড় সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ২০০ চিকিৎসক উপস্থিত আছেন। আমি নিজে উপস্থিত আছি। আমাদের চিকিৎসক, নার্সের কোনো স্বল্পতা নেই। জরুরি বিভাগ আমরা বৃদ্ধি করেছি, যাতে আমরা ২৫ জন রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা দিতে পারি। কিন্তু সমস্যা হলো, এক রোগীর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন চলে আসেন। তখন চিকিৎসা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা চেষ্টা করছি, এর মধ্যে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে। আমরা জুলাইয়ে অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি। আমাদের যে চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ রয়েছে– তাতে চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হবে না।’

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার প্রবেশমুখ ও ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি আদায়ে শুক্রবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। টানা দেড় ঘণ্টা চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে। আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি আহত হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে শুরু হয় যান চলাচল।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ।