ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যার বিচার তার বাবা দেখে যেতে পারবেন: আইন উপদেষ্টা

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শোকের মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) পালিত হয়েছে ‘জুলাই আন্দোলনের’ প্রথম শহিদ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহিদ আবু সাঈদ তোরণ, মিউজিয়াম এবং স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। সকাল ১১টায় তিনি তোরণ, মিউজিয়াম ও স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে সেখানে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে শহিদ আবু সাঈদের স্মরণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আবু সাঈদের হত্যার বিচার দ্রুতই হবে। তার বাবা জীবিত থাকতেই এই বিচার দেখতে পাবেন। এ সরকারের মেয়াদেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. তানজীম উদ্দীন খান।

সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শওকাত আলী। উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, ডিআইজি আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করা হয়। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়ে পার্কের মোড়, মডার্ন মোড় হয়ে শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহিদ আবু সাঈদের স্মরণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

শহিদ আবু সাঈদের মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি পালন করছে। শহিদ আবু সাঈদকে স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, আবু সাঈদ ছিলেন একটি আলোকবর্তিকা, বাংলাদেশের মুক্তির পথের দিশারী।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যার বিচার তার বাবা দেখে যেতে পারবেন: আইন উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শোকের মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) পালিত হয়েছে ‘জুলাই আন্দোলনের’ প্রথম শহিদ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহিদ আবু সাঈদ তোরণ, মিউজিয়াম এবং স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। সকাল ১১টায় তিনি তোরণ, মিউজিয়াম ও স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে সেখানে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে শহিদ আবু সাঈদের স্মরণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আবু সাঈদের হত্যার বিচার দ্রুতই হবে। তার বাবা জীবিত থাকতেই এই বিচার দেখতে পাবেন। এ সরকারের মেয়াদেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. তানজীম উদ্দীন খান।

সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শওকাত আলী। উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, ডিআইজি আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করা হয়। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়ে পার্কের মোড়, মডার্ন মোড় হয়ে শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহিদ আবু সাঈদের স্মরণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

শহিদ আবু সাঈদের মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি পালন করছে। শহিদ আবু সাঈদকে স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, আবু সাঈদ ছিলেন একটি আলোকবর্তিকা, বাংলাদেশের মুক্তির পথের দিশারী।