ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
টপ নিউজ :
কুষ্টিয়ায় পুুকুরে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু মরদেহ ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী পরিবারের চল্লিশ উর্ধ বয়সী স্কাউটারদের পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণে যাত্রা বেইলি রোডে আগুনে প্রাণ গেল ২ সাংবাদিকের কাচ্চি ভাই নয়, নিচের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত: র‌্যাব বেইলি রোডে আগুন: মৃতের সংখ্যা বাড়ার কারণ জানালেন চিকিৎসক ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামের নির্মাণাধীন হিমাগারের আগুন বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রপতির শোক বেইলি রোডের আগুন লাগা বহুতল ভবনটিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না: প্রধানমন্ত্রী ভবনে ভেন্টিলেশন ছিল না, নিহতরা ধোঁয়ায় মারা গেছেন
যুবকের ৯ টুকরা লাশ

রাজনীতিতে বিস্ময়কর উত্থান তুষারের

রাজনীতিতে খুব একটা অভিজ্ঞ নন, ভালো বক্তৃতা দিতে পারেন না। অথচ এই ইয়াছির আরাফাত তুষারই অল্প বয়সে বাগিয়ে নিয়েছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির পদ। বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন তিনি। সভাপতির মতো এই গুরুত্বপূর্ণ পদ পুঁজি করে অল্প বয়সেই গড়েছেন টাকার পাহাড়। গাড়ি-বাড়ি থেকে শুরু করে বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। বর্তমানে পদ্মার (কুষ্টিয়া অঞ্চল) অঘোষিত বালু সম্রাট বলা হয় তাকে। নৌপথে পদ্মায় অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের যে মহোৎসব চলছে, তা তারই মদদে হয়ে থাকে।

দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে দরপত্রের বালু আত্মসাতের মধ্য দিয়ে ইয়াছির আরাফাত তুষারের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত। ওই সময় তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ওই পদ পুঁজি করে সরকারি নানা প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তখন শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে ৮ লাখ টাকার বালু সরবরাহের কাজ পান তিনি। ওই বালু প্রকল্পে সরবরাহ না করে স্থানীয় ইকবাল মাঝির কাছে বিক্রি করে দেন। ওই টাকায় কেনেন একটি ব্যক্তিগত গাড়ি। এরপর তার নজর পড়ে পদ্মার চরের বালুর দিকে। বিনা ইজারায় পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নৌপথে চাঁদাবাজি শুরু করেন তুষার। তারপর থেকেই আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

জানা গেছে, প্রতিদিন তার আয় প্রায় ২ লাখ টাকা। যেখানে এক দিনেই তোলা হয় ২০ লাখ টাকার বালু। নিজের অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নজর দেন পেশিশক্তির দিকে। নিজের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে হলেও ঘাঁটি গাড়েন কুষ্টিয়া শহরে। শহরের ছয়রাস্তার মোড় এলাকায় ২২ নম্বর ফয়সাল টাওয়ারে প্রায় কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কিনে নেন। সেখান থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় আলোচিত কিশোর গ্যাং লিডার এসকে সজীবের। যে সজীবের নেতৃত্বে গত ৩১ জানুয়ারি মিলন হোসেন নামে এক যুবককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ৯ টুকরা করে কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর এলাকার পদ্মার চরে পুঁতে রাখা হয়। কুষ্টিয়া শহরে দুই শতাধিক কিশোরের একটি গ্যাং পরিচালনা করেন সজীব। আর তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইয়াছির আরাফাত তুষার।

যেভাবে রাজনীতিতে উত্থান তুষারের

২০০৯ সালে বাবা জামিল হোসেন বাচ্চু সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হলে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন মা সাদিয়া জামিল কণা। ঢাকাতেই পড়ালেখা করতেন ইয়াছির আরাফাত তুষার ও তার বোন। সেখানে পড়াশোনা শেষ না করেই কুষ্টিয়ায় ফিরে আসেন সপরিবারে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার স্নেহভাজন তুষার ২০১২ সালে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন হন। ২০১৬ সালে এক লাফে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ২০২৩ সালে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদও বাগিয়ে নেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া অনেককেই বিস্মিত করেছে। অথচ দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও অনেক নেতা কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি।

কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক তুষার

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০১২ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই তুষার কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন অলিগালিতে গজে ওঠা সমাজের বখে যাওয়া ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন। উদ্দেশ্য—নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি। ওই সময়ই পরিচয় হয় কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর বস্তিতে বেড়ে ওঠা এস কে সজীবের সঙ্গে। কিশোর গ্যাংকে পুঁজি করে ২০১৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তুষার। তার পর থেকেই নিজের দাপট দেখতে থাকে কুষ্টিয়া শহরবাসী। শুধু পদ্মার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিতেই তিনি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করেন। কুষ্টিয়া শহরে যেসব কিশোর গ্যাং লিডার রয়েছে, তাদের সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক তুষারের। তাদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিতে দেখা গেছে তুষারকে। অস্ত্র নিয়ে এসব মহড়ার স্থির ও ভিডিওচিত্র দেখা গেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন তুষার

সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। ইয়াছির আরাফাত তুষার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই। পদ্মার চরে বালু উত্তোলনেও আমি যুক্ত নই। নদীতে বালুবাহী একটি কার্গো জাহাজ রয়েছে, সেটিরও মালিক আমার বাবা। এ ছাড়া আমার কোনো ফ্ল্যাট কিংবা গাড়ি নেই। আমার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে, সব অসত্য ও ভিত্তিহীন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে শত্রুতা করে কেউ কেউ আমার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালাতে পারে। মিলন হত্যাকাণ্ডের হোতা এস কে সজীবের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি।

দৌলতপুরে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরন

যুবকের ৯ টুকরা লাশ

রাজনীতিতে বিস্ময়কর উত্থান তুষারের

আপডেট সময় ০১:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রাজনীতিতে খুব একটা অভিজ্ঞ নন, ভালো বক্তৃতা দিতে পারেন না। অথচ এই ইয়াছির আরাফাত তুষারই অল্প বয়সে বাগিয়ে নিয়েছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির পদ। বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন তিনি। সভাপতির মতো এই গুরুত্বপূর্ণ পদ পুঁজি করে অল্প বয়সেই গড়েছেন টাকার পাহাড়। গাড়ি-বাড়ি থেকে শুরু করে বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। বর্তমানে পদ্মার (কুষ্টিয়া অঞ্চল) অঘোষিত বালু সম্রাট বলা হয় তাকে। নৌপথে পদ্মায় অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের যে মহোৎসব চলছে, তা তারই মদদে হয়ে থাকে।

দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে দরপত্রের বালু আত্মসাতের মধ্য দিয়ে ইয়াছির আরাফাত তুষারের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত। ওই সময় তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ওই পদ পুঁজি করে সরকারি নানা প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তখন শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ প্রকল্পে ৮ লাখ টাকার বালু সরবরাহের কাজ পান তিনি। ওই বালু প্রকল্পে সরবরাহ না করে স্থানীয় ইকবাল মাঝির কাছে বিক্রি করে দেন। ওই টাকায় কেনেন একটি ব্যক্তিগত গাড়ি। এরপর তার নজর পড়ে পদ্মার চরের বালুর দিকে। বিনা ইজারায় পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, নৌপথে চাঁদাবাজি শুরু করেন তুষার। তারপর থেকেই আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

জানা গেছে, প্রতিদিন তার আয় প্রায় ২ লাখ টাকা। যেখানে এক দিনেই তোলা হয় ২০ লাখ টাকার বালু। নিজের অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নজর দেন পেশিশক্তির দিকে। নিজের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে হলেও ঘাঁটি গাড়েন কুষ্টিয়া শহরে। শহরের ছয়রাস্তার মোড় এলাকায় ২২ নম্বর ফয়সাল টাওয়ারে প্রায় কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কিনে নেন। সেখান থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় আলোচিত কিশোর গ্যাং লিডার এসকে সজীবের। যে সজীবের নেতৃত্বে গত ৩১ জানুয়ারি মিলন হোসেন নামে এক যুবককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ৯ টুকরা করে কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর এলাকার পদ্মার চরে পুঁতে রাখা হয়। কুষ্টিয়া শহরে দুই শতাধিক কিশোরের একটি গ্যাং পরিচালনা করেন সজীব। আর তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইয়াছির আরাফাত তুষার।

যেভাবে রাজনীতিতে উত্থান তুষারের

২০০৯ সালে বাবা জামিল হোসেন বাচ্চু সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হলে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন মা সাদিয়া জামিল কণা। ঢাকাতেই পড়ালেখা করতেন ইয়াছির আরাফাত তুষার ও তার বোন। সেখানে পড়াশোনা শেষ না করেই কুষ্টিয়ায় ফিরে আসেন সপরিবারে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার স্নেহভাজন তুষার ২০১২ সালে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন হন। ২০১৬ সালে এক লাফে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ২০২৩ সালে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদও বাগিয়ে নেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া অনেককেই বিস্মিত করেছে। অথচ দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও অনেক নেতা কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি।

কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক তুষার

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০১২ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই তুষার কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন অলিগালিতে গজে ওঠা সমাজের বখে যাওয়া ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন। উদ্দেশ্য—নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি। ওই সময়ই পরিচয় হয় কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর বস্তিতে বেড়ে ওঠা এস কে সজীবের সঙ্গে। কিশোর গ্যাংকে পুঁজি করে ২০১৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তুষার। তার পর থেকেই নিজের দাপট দেখতে থাকে কুষ্টিয়া শহরবাসী। শুধু পদ্মার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিতেই তিনি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করেন। কুষ্টিয়া শহরে যেসব কিশোর গ্যাং লিডার রয়েছে, তাদের সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক তুষারের। তাদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিতে দেখা গেছে তুষারকে। অস্ত্র নিয়ে এসব মহড়ার স্থির ও ভিডিওচিত্র দেখা গেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন তুষার

সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। ইয়াছির আরাফাত তুষার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই। পদ্মার চরে বালু উত্তোলনেও আমি যুক্ত নই। নদীতে বালুবাহী একটি কার্গো জাহাজ রয়েছে, সেটিরও মালিক আমার বাবা। এ ছাড়া আমার কোনো ফ্ল্যাট কিংবা গাড়ি নেই। আমার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে, সব অসত্য ও ভিত্তিহীন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে শত্রুতা করে কেউ কেউ আমার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালাতে পারে। মিলন হত্যাকাণ্ডের হোতা এস কে সজীবের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি।