ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেড়ামারায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মায় ইলিশ ধরার মহোৎসব

ভেড়ামারা প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। প্রকাশ্যেই জেলেরা নৌকা নিয়ে কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ মাছ শিকারের মহোৎসবে মেতেছেন। গ্রাহকের কাছে ইলিশ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে। প্রকাশ্যে চলছে ইলিশ ধরা ও বিক্রি। ইলিশ মাছ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নদীতে ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি ও পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ইলিশ মাছ আমাদের জাতীয় সম্পদ। ইলিশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর এই ২২ দিন সরকারিভাবে মাছ আহরণ, পরিবহন ও মজুদ করা নিষিদ্ধ। জেলেদের পরিবার যেন কষ্ট না পায় সে জন্য সরকার উপজেলায় নিবন্ধনকৃত ৩৩২ জন মৎস্য চাষির প্রত্যেককে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে কেউ ইলিশ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই সরকারি কর্মকর্তা। ভেড়ামারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরিন বলেন, ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর অংশে অভিযান চালিয়েছি। জেলেদের কাছ থেকে জব্দকৃত ইলিশ এতিমখানায় দান করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের কাছে পাওয়া ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা। ইলিশ শিকার ও বিক্রির বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিভিন্ন স্থানে সাধ্যমতো অভিযান চালাচ্ছি। ভেড়ামারা থানার ওসি শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সবেমাত্র থানায় যোগদান করেছি। এখন ইলিশ মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ। জেলেদের প্রকাশ্যে মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনে আমরা পদ্মা নদীতে অভিযান চালাব। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কেউ ইলিশ মাছ ধরতে পারবে না। উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ের মধ্যে কেউ ইলিশ মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাছ বিক্রির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে। ইলিশ মাছ রক্ষা করতে অভিযান চলছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যেসব জেলে মাছ ধরছেন তাদের ভিজিএফসহ অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। সরেজমিন পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা যায়, জেলেরা নৌকা নিয়ে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৪ চলছে ঢিলেঢালাভাবে। বিগত বছরগুলোতে লাগাতার অভিযান চালানো হলেও এবার চলছে কচ্ছপ গতিতে। নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকে পদ্মা নদীতে দিনে ও রাতে অবৈধভাবে ধরা হচ্ছে ইলিশ মাছ। ভেড়ামারা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন বাহিরচর, মোকারিমপুর, বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহে পদ্মা নদীর ধারে ইলিশ মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। ভেড়ামারার ১২ মাইল এলাকা থেকে রায়টা পাথরঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীতে প্রকাশ্যে জেলেরা নৌকা নিয়ে ইলিশ মাছ ধরছে। নদী এলাকায় চলছে এসব ইলিশ মাছ বেচাকেনা। অনেক ক্ষেত্রে শহরে এনে চোরাই ইলিশ হোম ডেলিভারিও দিচ্ছেন অসাধু জেলে ও তাদের লোকেরা। এদিকে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়েও প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীদের ডালিতে করে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। অবৈধ জাল দিয়ে নদী থেকে ইলিশ শিকার করে তারা নদীর তীরে এনে বিক্রি করছে। ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছগুলো তারা ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা ও ছোট (জাটকা) ইলিশ মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মায় ইলিশ ধরার মহোৎসব

আপডেট সময় ০২:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪

ভেড়ামারা প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। প্রকাশ্যেই জেলেরা নৌকা নিয়ে কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ মাছ শিকারের মহোৎসবে মেতেছেন। গ্রাহকের কাছে ইলিশ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে। প্রকাশ্যে চলছে ইলিশ ধরা ও বিক্রি। ইলিশ মাছ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নদীতে ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি ও পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ইলিশ মাছ আমাদের জাতীয় সম্পদ। ইলিশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর এই ২২ দিন সরকারিভাবে মাছ আহরণ, পরিবহন ও মজুদ করা নিষিদ্ধ। জেলেদের পরিবার যেন কষ্ট না পায় সে জন্য সরকার উপজেলায় নিবন্ধনকৃত ৩৩২ জন মৎস্য চাষির প্রত্যেককে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে কেউ ইলিশ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই সরকারি কর্মকর্তা। ভেড়ামারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরিন বলেন, ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর অংশে অভিযান চালিয়েছি। জেলেদের কাছ থেকে জব্দকৃত ইলিশ এতিমখানায় দান করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের কাছে পাওয়া ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা। ইলিশ শিকার ও বিক্রির বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিভিন্ন স্থানে সাধ্যমতো অভিযান চালাচ্ছি। ভেড়ামারা থানার ওসি শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সবেমাত্র থানায় যোগদান করেছি। এখন ইলিশ মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ। জেলেদের প্রকাশ্যে মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনে আমরা পদ্মা নদীতে অভিযান চালাব। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কেউ ইলিশ মাছ ধরতে পারবে না। উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ের মধ্যে কেউ ইলিশ মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাছ বিক্রির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে। ইলিশ মাছ রক্ষা করতে অভিযান চলছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যেসব জেলে মাছ ধরছেন তাদের ভিজিএফসহ অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। সরেজমিন পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা যায়, জেলেরা নৌকা নিয়ে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৪ চলছে ঢিলেঢালাভাবে। বিগত বছরগুলোতে লাগাতার অভিযান চালানো হলেও এবার চলছে কচ্ছপ গতিতে। নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকে পদ্মা নদীতে দিনে ও রাতে অবৈধভাবে ধরা হচ্ছে ইলিশ মাছ। ভেড়ামারা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন বাহিরচর, মোকারিমপুর, বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহে পদ্মা নদীর ধারে ইলিশ মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। ভেড়ামারার ১২ মাইল এলাকা থেকে রায়টা পাথরঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীতে প্রকাশ্যে জেলেরা নৌকা নিয়ে ইলিশ মাছ ধরছে। নদী এলাকায় চলছে এসব ইলিশ মাছ বেচাকেনা। অনেক ক্ষেত্রে শহরে এনে চোরাই ইলিশ হোম ডেলিভারিও দিচ্ছেন অসাধু জেলে ও তাদের লোকেরা। এদিকে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়েও প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীদের ডালিতে করে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। অবৈধ জাল দিয়ে নদী থেকে ইলিশ শিকার করে তারা নদীর তীরে এনে বিক্রি করছে। ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছগুলো তারা ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা ও ছোট (জাটকা) ইলিশ মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।