ঢাকা ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পদ্মী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

কুমারখালীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ ২ শ্রমিক

Oplus_0

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে দুই শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার(৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বেড় কালোয়ায় এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ দুইজন হলেন- উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের সোহরাব আলী শেখের ছেলে হুমায়ন শেখ(২৭) ও সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে শিমুল হোসেন(৩৪)। তারা কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত হুমায়ন শেখ বলেন, প্রায় ২০ জন মিলে পদ্মা নদীর বেড় কালোয়া এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে দুইটি ট্রলারে ১৫ থেকে ১৭ জন  আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্রধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় তিনিসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়। তার হাটুর উপরে ১টা ও নিচে ৩টা ছড়রা গুলি লেগেছে।  হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রলারে যারা আসছিলেন তারা সবাই অপরিচিত। তবে নৌকা থেকে একজনের মুখে শামীমের নাম উচ্চারণ করতে শুনেছেন। তার ভাষ্য, গত সোমবার থেকে তিনি দিন এক হাজার টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। স্থানীয় জিয়া খাঁ তাকে বালু তোলার কাজ দিয়েছেন। আহত শিমুল বলেন, চোখে ছড়রা গুলি লেগে তিনি গুরুত্বর জখম হয়েছেন। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয়রা জানান, জেলা য্লুীগের সভাপতি ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষার জেলা প্রশাসন থেকে পাস নিয়ে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করত। গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। এরপর সম্প্রতি ইউনুছ আলী ও মো. জিয়া নামের দুই বিএনপির সমর্থক বালু উত্তোলনের পায়তারা শুরু করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। এরইমধ্যে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে জিয়া শ্রমিক দিয়ে বালু তোলা শুরু করলে দুপুরে গুলির ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: সুমাইয়া জান্নাত বলেন, দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একজনকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আরেকজন যিনি হাসপাতালে রয়েছেন তার অবস্থা ভালো।  রাতে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জানতে পেরেছি বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে  দুই গ্র“পের সংঘাতে এই ঘটনা ঘটেছে।  এর আগে ওই বালিঘাটের ইজারা ছিল  সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বপনের।  দখোঁজ নিতে হাসপাতালে পুলিশ  পাঠানো হয়েছে। দুইজন আহত হয়েছেন। জানতে পেরেছি তাদের ছররা গুলি লেগেছে । তবে তাদের অবস্থা গুরুত্বর নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পদ্মী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

কুমারখালীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ ২ শ্রমিক

আপডেট সময় ১২:৫২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে দুই শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার(৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর বেড় কালোয়ায় এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ দুইজন হলেন- উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের সোহরাব আলী শেখের ছেলে হুমায়ন শেখ(২৭) ও সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে শিমুল হোসেন(৩৪)। তারা কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত হুমায়ন শেখ বলেন, প্রায় ২০ জন মিলে পদ্মা নদীর বেড় কালোয়া এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে দুইটি ট্রলারে ১৫ থেকে ১৭ জন  আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্রধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় তিনিসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়। তার হাটুর উপরে ১টা ও নিচে ৩টা ছড়রা গুলি লেগেছে।  হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রলারে যারা আসছিলেন তারা সবাই অপরিচিত। তবে নৌকা থেকে একজনের মুখে শামীমের নাম উচ্চারণ করতে শুনেছেন। তার ভাষ্য, গত সোমবার থেকে তিনি দিন এক হাজার টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। স্থানীয় জিয়া খাঁ তাকে বালু তোলার কাজ দিয়েছেন। আহত শিমুল বলেন, চোখে ছড়রা গুলি লেগে তিনি গুরুত্বর জখম হয়েছেন। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয়রা জানান, জেলা য্লুীগের সভাপতি ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইয়াছির আরাফাত তুষার জেলা প্রশাসন থেকে পাস নিয়ে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করত। গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। এরপর সম্প্রতি ইউনুছ আলী ও মো. জিয়া নামের দুই বিএনপির সমর্থক বালু উত্তোলনের পায়তারা শুরু করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। এরইমধ্যে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে জিয়া শ্রমিক দিয়ে বালু তোলা শুরু করলে দুপুরে গুলির ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: সুমাইয়া জান্নাত বলেন, দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একজনকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আরেকজন যিনি হাসপাতালে রয়েছেন তার অবস্থা ভালো।  রাতে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জানতে পেরেছি বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে  দুই গ্র“পের সংঘাতে এই ঘটনা ঘটেছে।  এর আগে ওই বালিঘাটের ইজারা ছিল  সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বপনের।  দখোঁজ নিতে হাসপাতালে পুলিশ  পাঠানো হয়েছে। দুইজন আহত হয়েছেন। জানতে পেরেছি তাদের ছররা গুলি লেগেছে । তবে তাদের অবস্থা গুরুত্বর নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।