ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক হুমকির মুখে

পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাড়ী ঘর  শত শত বিঘা কৃষি জমি

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১২ মাইল, মসলেমপুর, টিকটিকি পাড়া ও মুন্সিপাড়ায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রতিদিন সড়ক অবরোধ করছে এলাকাবাসী। কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ। ইতিমধ্যে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডের একটি টাওয়ার। গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর, টিকটিকি মুন্সিপাড়া, এলাকায় পদ্মা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, এই সব এলাকায় ঘরবাড়ীসহ শত শত ফসলি জমি পদ্মা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙন থেকে বাড়িঘর ও ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন এলাকাবাসী। পদ্মার তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১২ মাইল, মসলেমপুর, টিকটিকি ও মুন্সিপাড়ায়সহ পাশ্ববর্তী বহলবাড়িয়া, বারুইপাড়া, তালবাড়িয়া, খাদিমপুর, ঘোড়ামারাসহ বেশ কিছু এলাকা। বিগত তিন বছর ধরে নদীগর্ভে শত শত একর আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের ছয়টি বিদ্যুৎ সঞ্চালনের টাওয়ারসহ বসতবাড়ি, শতবর্ষী স্কুলকলেজ ভাঙনের হুমকির মুখে আছে। কুষ্টিয়া-পাবনা-মহাসড়ক থেকে নদী মাত্র ৬০ মিটার দূরে আছে। সড়কটি যেকোনো সময় ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। কৃষক হাসান আলি বলেন, আমাদের পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে আমাদের চাষ করা জমি ইতিমধ্যে পদ্মার নদীগর্ভে চলে গেছে। এখান থেকে অনেকের বাড়ীঘর ভেঙে অন্যত্র চলে যাচ্ছে । গত বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁর বাড়ির সামনেই পদ্মা নদীর ভাঙনে জাতীয় গ্রিডের একটি টাওয়ার নদীতে ভেঙে পড়ে। হুমকির মুখে আছে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, ফসলি জমি সহ কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কসহ বিদ্যুতের আরও কয়েকটি টাওয়ার। এমন পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছি। ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন নদীভাঙন হচ্ছে এটা সত্য। প্রায় দিনই সেখানে আন্দোলন হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, যেহেতু নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে তাই ভাঙনটা তীব্র হচ্ছে। ঈশ্বরদী এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ শত  মিটার গ্রোয়েন (বাঁধ) পদ্মা নদীর মধ্যে আছে। সেখানে পানি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অপর পাড়ে ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া, মসলেপুর, টিকটিকি পাড়ায় ব্যাপক আকারে ভাঙছে। এমনটাই ধারণা করছেন। ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি ২-৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ওই এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। আমরা ব্যাপারটি অবজারভেশনের মধ্যে রেখেছি। কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার ও বেড়িবাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন বিভিন্ন জায়গা থেকে নৌকা যোগে বালু এনে মেশিনের মাধ্যমে বালি আনলোড করে নদীর কিনারায় রাখা হচ্ছে  এতে নদী ভাঙন বেশি বাড়ছে। এই বালি রাখা বন্ধ না করলে  জিও ব্যাগ, টিউব ব্যাগ ফেলে লাভ নেই। পাউবো সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পদ্মার ৯ কিলোমিটার অংশ জুড়ে স্থায়ী বাধ নিমাণে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ হবে। ইতিমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সেগুলো মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। বেশ কয়েকটি প্যাকেজে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে এই প্রকল্প কাজ শেষ  হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক হুমকির মুখে

পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাড়ী ঘর  শত শত বিঘা কৃষি জমি

আপডেট সময় ১২:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১২ মাইল, মসলেমপুর, টিকটিকি পাড়া ও মুন্সিপাড়ায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রতিদিন সড়ক অবরোধ করছে এলাকাবাসী। কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ। ইতিমধ্যে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডের একটি টাওয়ার। গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর, টিকটিকি মুন্সিপাড়া, এলাকায় পদ্মা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, এই সব এলাকায় ঘরবাড়ীসহ শত শত ফসলি জমি পদ্মা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙন থেকে বাড়িঘর ও ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন এলাকাবাসী। পদ্মার তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১২ মাইল, মসলেমপুর, টিকটিকি ও মুন্সিপাড়ায়সহ পাশ্ববর্তী বহলবাড়িয়া, বারুইপাড়া, তালবাড়িয়া, খাদিমপুর, ঘোড়ামারাসহ বেশ কিছু এলাকা। বিগত তিন বছর ধরে নদীগর্ভে শত শত একর আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের ছয়টি বিদ্যুৎ সঞ্চালনের টাওয়ারসহ বসতবাড়ি, শতবর্ষী স্কুলকলেজ ভাঙনের হুমকির মুখে আছে। কুষ্টিয়া-পাবনা-মহাসড়ক থেকে নদী মাত্র ৬০ মিটার দূরে আছে। সড়কটি যেকোনো সময় ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। কৃষক হাসান আলি বলেন, আমাদের পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে আমাদের চাষ করা জমি ইতিমধ্যে পদ্মার নদীগর্ভে চলে গেছে। এখান থেকে অনেকের বাড়ীঘর ভেঙে অন্যত্র চলে যাচ্ছে । গত বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁর বাড়ির সামনেই পদ্মা নদীর ভাঙনে জাতীয় গ্রিডের একটি টাওয়ার নদীতে ভেঙে পড়ে। হুমকির মুখে আছে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, ফসলি জমি সহ কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কসহ বিদ্যুতের আরও কয়েকটি টাওয়ার। এমন পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছি। ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন নদীভাঙন হচ্ছে এটা সত্য। প্রায় দিনই সেখানে আন্দোলন হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, যেহেতু নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে তাই ভাঙনটা তীব্র হচ্ছে। ঈশ্বরদী এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ শত  মিটার গ্রোয়েন (বাঁধ) পদ্মা নদীর মধ্যে আছে। সেখানে পানি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অপর পাড়ে ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া, মসলেপুর, টিকটিকি পাড়ায় ব্যাপক আকারে ভাঙছে। এমনটাই ধারণা করছেন। ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি ২-৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ওই এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। আমরা ব্যাপারটি অবজারভেশনের মধ্যে রেখেছি। কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার ও বেড়িবাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন বিভিন্ন জায়গা থেকে নৌকা যোগে বালু এনে মেশিনের মাধ্যমে বালি আনলোড করে নদীর কিনারায় রাখা হচ্ছে  এতে নদী ভাঙন বেশি বাড়ছে। এই বালি রাখা বন্ধ না করলে  জিও ব্যাগ, টিউব ব্যাগ ফেলে লাভ নেই। পাউবো সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পদ্মার ৯ কিলোমিটার অংশ জুড়ে স্থায়ী বাধ নিমাণে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ হবে। ইতিমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সেগুলো মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। বেশ কয়েকটি প্যাকেজে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে এই প্রকল্প কাজ শেষ  হবে।