ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২৪ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

ধর্মীয় ও পারস্পরিক মুল্যবোধের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গা পুজার উৎসব সম্পন্ন করতে হবে

 নিজ সংবাদ ॥ জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) শারমিন আখতার বলেছেন, ধর্মীয় ও পারস্পারিক মুল্যবোধের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গা পুজার উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্নভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। গতকাল সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপজা ২০২৪ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। পালনে সকলের সহযোগিতার সম্প্রতি ও সৌহার্দ পুর্ণ পরিবেশে সকলের সহযোগিতায় সম্ভব।  সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাঃ আকুল উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তী নাথ,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম শীল, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের উপপরিচালক হ্যাপী সাহা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল গফুর, সেক্রেটারী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আহমাদ আলী, কুষ্টিয়া পুজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সেন, পুজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি নরেন্দ্র নাথ সাহা,অসীত কুমার সিংহ, চাকী, কুমারখালী পুজা কমিটির সাধারন সম্পাদক এ্যাড, শংকর কুমার, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার নাগ প্রমুখ। সভায় জানানো হয় এবার কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় ২২৮টি পুজা মন্ডপে পুজা অর্চনার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৯অক্টোবর থেকে ১৩অক্টোবর পর্যন্ত ৫দিন ব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবার হিন্দু ধর্মীয় তীথি অনুযায়ী এবার পুজা অর্চনা শুরু হবে ভোর ৪টায়। একই সময়ে মুসলমানদের ফজরের নামাজের সময় থাকায় উভয় ধর্মের প্রতি সম্মান রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালনে সকলের প্রতি সহমর্মিতা ও সদয় আচরনের অনুরোধ জানানো হয়। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে শান্তিপুর্ন পরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানানো হয়। সভাপতি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমীন আখতার জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারো সকলের সার্বিক সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গাৎসব পালন হবে। আপনাদের সকলের সমন্বিত সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় এই উৎসব গুলোকে আমরা সফলতার মাধ্যমে শেষ করতে পারবো বলে আশা রাখি। তিনি আরো বলেন, নির্ধারিত দিন গুলো আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আনসার ভিডিপি বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাবের টহলদারী বৃদ্ধি করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা মোতাবেক অতি ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থা সুশৃংখল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পুজা মন্ডপ এলাকার মধ্যে মাদক দ্রব্য সেবন ও মাদক বিক্রির মত অপরাধমুলক কাজে যারা জড়িত থাকবে তাদের ব্যাপারে কোন সুপারিশ চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানানো হয়।  এছাড়া পুজা মন্ডপের আশে পাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সকলকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। বড় বাজারে দুটি ঘাটে পুজা মন্ডপ বিসর্জনের ব্যবস্থা থাকবে। ঘাট গুলোর পরিবেশ ভাল রাখার স্বার্থে পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিবারের ন্যায় এবারো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানানো হয়। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্যাস্টের মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলায় দুস্থ্যদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সভায় ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সাউন্ড সিষ্টেম বাজিয়ে জনগণের দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে সে বিষয়টি খেয়াল রাখার আহবান জানানো হয়। পুজা অনুষ্ঠানকালীন সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়। পুজা মন্ডপে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ যাতে না নেয়া হয় সে ব্যাপারে পুজা কমিটির নেতৃবৃন্দকে সজাগ থাকার আহবান জানানো হয়। বিদ্যুৎ লাইন থেকে কোন রকমের দুর্ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখার আহবান জানানো হয়। এছাড়া সড়কের উপর পুজা মন্ডপ না বসিয়ে সুবিধামত স্থানে মানুষের চলাচলের বিগ্ন সৃষ্টি হয় এমন স্থান নির্বাচন থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২৪ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

ধর্মীয় ও পারস্পরিক মুল্যবোধের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গা পুজার উৎসব সম্পন্ন করতে হবে

আপডেট সময় ১২:১৭:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 নিজ সংবাদ ॥ জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) শারমিন আখতার বলেছেন, ধর্মীয় ও পারস্পারিক মুল্যবোধের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গা পুজার উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্নভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। গতকাল সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপজা ২০২৪ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। পালনে সকলের সহযোগিতার সম্প্রতি ও সৌহার্দ পুর্ণ পরিবেশে সকলের সহযোগিতায় সম্ভব।  সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডাঃ আকুল উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তী নাথ,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম শীল, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের উপপরিচালক হ্যাপী সাহা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল গফুর, সেক্রেটারী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আহমাদ আলী, কুষ্টিয়া পুজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সেন, পুজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি নরেন্দ্র নাথ সাহা,অসীত কুমার সিংহ, চাকী, কুমারখালী পুজা কমিটির সাধারন সম্পাদক এ্যাড, শংকর কুমার, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার নাগ প্রমুখ। সভায় জানানো হয় এবার কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় ২২৮টি পুজা মন্ডপে পুজা অর্চনার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৯অক্টোবর থেকে ১৩অক্টোবর পর্যন্ত ৫দিন ব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবার হিন্দু ধর্মীয় তীথি অনুযায়ী এবার পুজা অর্চনা শুরু হবে ভোর ৪টায়। একই সময়ে মুসলমানদের ফজরের নামাজের সময় থাকায় উভয় ধর্মের প্রতি সম্মান রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালনে সকলের প্রতি সহমর্মিতা ও সদয় আচরনের অনুরোধ জানানো হয়। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে শান্তিপুর্ন পরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানানো হয়। সভাপতি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমীন আখতার জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারো সকলের সার্বিক সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গাৎসব পালন হবে। আপনাদের সকলের সমন্বিত সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় এই উৎসব গুলোকে আমরা সফলতার মাধ্যমে শেষ করতে পারবো বলে আশা রাখি। তিনি আরো বলেন, নির্ধারিত দিন গুলো আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আনসার ভিডিপি বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাবের টহলদারী বৃদ্ধি করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা মোতাবেক অতি ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থা সুশৃংখল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পুজা মন্ডপ এলাকার মধ্যে মাদক দ্রব্য সেবন ও মাদক বিক্রির মত অপরাধমুলক কাজে যারা জড়িত থাকবে তাদের ব্যাপারে কোন সুপারিশ চলবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানানো হয়।  এছাড়া পুজা মন্ডপের আশে পাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সকলকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। বড় বাজারে দুটি ঘাটে পুজা মন্ডপ বিসর্জনের ব্যবস্থা থাকবে। ঘাট গুলোর পরিবেশ ভাল রাখার স্বার্থে পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিবারের ন্যায় এবারো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানানো হয়। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্যাস্টের মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলায় দুস্থ্যদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সভায় ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সাউন্ড সিষ্টেম বাজিয়ে জনগণের দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে সে বিষয়টি খেয়াল রাখার আহবান জানানো হয়। পুজা অনুষ্ঠানকালীন সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়। পুজা মন্ডপে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ যাতে না নেয়া হয় সে ব্যাপারে পুজা কমিটির নেতৃবৃন্দকে সজাগ থাকার আহবান জানানো হয়। বিদ্যুৎ লাইন থেকে কোন রকমের দুর্ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখার আহবান জানানো হয়। এছাড়া সড়কের উপর পুজা মন্ডপ না বসিয়ে সুবিধামত স্থানে মানুষের চলাচলের বিগ্ন সৃষ্টি হয় এমন স্থান নির্বাচন থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়।