ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষককে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সংবদ্ধ চক্রের

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী এমএন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষককে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংবদ্ধ চক্রের। চলতি মাসের ৪ তারিখে শিক্ষককে জিম্মি করে টাকা নেওয়ার পর পূণরায় টাকা দাবী করলে ২১ তারিখ (শনিবার) ওই শিক্ষক কুমারখালী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ৪ তারিখ সকালে  প্রাইভেট পড়ানোর সময় হটাৎই একটি মেয়ে সহ সোয়াদ,অন্তর,সাকিব,সিফাত, মমিন, বিশাল ও সোহেল রুমে ঢুকে প্রাইভেট পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়। এবং রুমের দরজা আটকে দিয়ে তাদের সাথে থাকা মেয়েটিকে তিনি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন এমন দাবী করা হয়। এবং এক পর্যায়ে সংঘবদ্ধ চক্রটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার সময়  মেয়েটি অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করে। অবৈধ অস্ত্র সাথে থাকা চক্রটি তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবী করেন। তিনি প্রাণভয়ে  পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এবং বিকাশের মাধ্যমে ওইদিনই তাদেরকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চক্রটি পূণরায় টাকা দাবী করলে তিনি কৌশলে তাদেরকে ডেকে আনেন এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে টাকা নিতে আসা অন্তর ও সিফাতকে আটক করেন। পরবর্তীতে আটকদের অভিভাবকরা এসে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেবার শর্তে তাদেরকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মেয়েটির বক্তব্যর ভিডিও ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে  পোস্ট দিয়ে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে চক্রটি। তিনি পরবর্তীতে মেয়েটির অভিভাবকদের সাথে কথা বললে মেয়েটি জানায় তাকে দিয়ে জোরপূর্বক কথাগুলো বলানো হয়েছে। মেয়েটির স্বীকারোক্তির ভিডিও তার কাছে আছে বলে জানান।  চক্রটির সাথে থাকা মমিন, সোহেল ও অন্তর ইতিমধ্যে ১৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন  তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আশরাফুল প্রামাণিক  জানান, ঘটনার দিন এলাকার  সোহেল, সোয়াদ ও সিফাত সহ বেশ কয়েকজন মোস্তাফিজ স্যারের রুমে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। বিষয়টি সন্দেহ জনক হলে তিনি রুমের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে রুমে ঢুকে স্যারকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে জানতে পারেন মোস্তফিজ মাষ্টারের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে ভয়ভীতি দেখিয়ে। স্থানীয় আজিম উদ্দিন  জানান, এমএন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে তিনি  বালু রেখে ব্যবসা করেন। এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মুলক কর্মকাে র সাথে জড়িত। ইতিপূর্বে তার কাছেও চাঁদা দাবি করেছে । শিক্ষক মোস্তাফিজের সাথে অনেক বড় অন্যায় করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। স্থানীয় মামুনুর রশিদ জানান, এই চক্রের সাথে জড়িতরা সবাই নেশা গ্রস্থ। নেশার টাকা যোগাতে বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকাে র সাথে জড়িত।  এমএন বাঁধে ঘুরতে আসা অনেকের কাছ থেকে এরা চাঁদা আদায় করে। এদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। চক্রের সাথে থাকা মেয়েটি জানান, তার সাথে আরিফুল নামের একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি মোস্তাফিজ স্যার জেনে গিয়ে তার সম্পর্কের  বিষয়টি  অভিভাবকদের জানাতে চাইলে আরিফুল মোস্তাফিজ স্যারের সাথে এগুলো করেছে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষককে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সংবদ্ধ চক্রের

আপডেট সময় ১০:৫৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী এমএন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষককে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংবদ্ধ চক্রের। চলতি মাসের ৪ তারিখে শিক্ষককে জিম্মি করে টাকা নেওয়ার পর পূণরায় টাকা দাবী করলে ২১ তারিখ (শনিবার) ওই শিক্ষক কুমারখালী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ৪ তারিখ সকালে  প্রাইভেট পড়ানোর সময় হটাৎই একটি মেয়ে সহ সোয়াদ,অন্তর,সাকিব,সিফাত, মমিন, বিশাল ও সোহেল রুমে ঢুকে প্রাইভেট পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়। এবং রুমের দরজা আটকে দিয়ে তাদের সাথে থাকা মেয়েটিকে তিনি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন এমন দাবী করা হয়। এবং এক পর্যায়ে সংঘবদ্ধ চক্রটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার সময়  মেয়েটি অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করে। অবৈধ অস্ত্র সাথে থাকা চক্রটি তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবী করেন। তিনি প্রাণভয়ে  পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এবং বিকাশের মাধ্যমে ওইদিনই তাদেরকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চক্রটি পূণরায় টাকা দাবী করলে তিনি কৌশলে তাদেরকে ডেকে আনেন এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে টাকা নিতে আসা অন্তর ও সিফাতকে আটক করেন। পরবর্তীতে আটকদের অভিভাবকরা এসে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেবার শর্তে তাদেরকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মেয়েটির বক্তব্যর ভিডিও ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে  পোস্ট দিয়ে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে চক্রটি। তিনি পরবর্তীতে মেয়েটির অভিভাবকদের সাথে কথা বললে মেয়েটি জানায় তাকে দিয়ে জোরপূর্বক কথাগুলো বলানো হয়েছে। মেয়েটির স্বীকারোক্তির ভিডিও তার কাছে আছে বলে জানান।  চক্রটির সাথে থাকা মমিন, সোহেল ও অন্তর ইতিমধ্যে ১৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন  তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আশরাফুল প্রামাণিক  জানান, ঘটনার দিন এলাকার  সোহেল, সোয়াদ ও সিফাত সহ বেশ কয়েকজন মোস্তাফিজ স্যারের রুমে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। বিষয়টি সন্দেহ জনক হলে তিনি রুমের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে রুমে ঢুকে স্যারকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে জানতে পারেন মোস্তফিজ মাষ্টারের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে ভয়ভীতি দেখিয়ে। স্থানীয় আজিম উদ্দিন  জানান, এমএন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে তিনি  বালু রেখে ব্যবসা করেন। এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মুলক কর্মকাে র সাথে জড়িত। ইতিপূর্বে তার কাছেও চাঁদা দাবি করেছে । শিক্ষক মোস্তাফিজের সাথে অনেক বড় অন্যায় করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। স্থানীয় মামুনুর রশিদ জানান, এই চক্রের সাথে জড়িতরা সবাই নেশা গ্রস্থ। নেশার টাকা যোগাতে বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকাে র সাথে জড়িত।  এমএন বাঁধে ঘুরতে আসা অনেকের কাছ থেকে এরা চাঁদা আদায় করে। এদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। চক্রের সাথে থাকা মেয়েটি জানান, তার সাথে আরিফুল নামের একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি মোস্তাফিজ স্যার জেনে গিয়ে তার সম্পর্কের  বিষয়টি  অভিভাবকদের জানাতে চাইলে আরিফুল মোস্তাফিজ স্যারের সাথে এগুলো করেছে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।