ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
স্থানীয়দের মহাসড়ক অবরোধ

কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভাঙ্গনে জাতীয় গ্রীডের সঞ্চালন টাওয়ার নদীগর্ভে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 90

 নিজ সংবাদ ॥  পদ্মা নদীতে গ্রাস করলো জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা চোখের সামনে বিকট শব্দে ৩২নম্বর টাওয়ারটি ভেঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে পদ্মার গহবরে চলে যেতে দেখেন। মিরপুর উপজেলার সাহেব নগর গ্রামের পদ্মা নদীর কোল ঘেষে এই টাওয়ারটি নদীতে বিলিন হয়ে যায়। এঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সাথে সাথে এলাকাবাসী কুষ্টিয়া- রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এলাকাকে পদ্মার কলারগ্রাস থেকে মুক্ত করতে সরকারের জরুরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবীতেই এই সড়ক অবরোধ বলে এলাকাবাসী জানান। ২ঘন্টা অবরোধ চলাকালে সড়কের উভয় পাশের্^ শত শত যানবাহন ও দুরপাল্লার বাস আটকে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বাপ্পী, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিরপুর-ভেড়ামারা) সার্কেল আব্দুল খালেক, মিরপুর উপজেলার ভুমি কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এলাকার ছেলে  বেলাল খানঁ। কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীকে আশ^াস দেন দ্রুত বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে অতিরিক্ত বালু ও জিও ব্যাগ ফেলা হবে। সেই সাথে সদ্য টেন্ডারের কাজ আগামী শুকনো মৌসুমে শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায়- স্থানীয়রা সাহেবনগর বাসষ্ট্যান্ডের কুষ্টিয়া-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় স্থানীয় নদী রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। নদীরকুলবুতি সাহেবনগর গ্রামের নুর হোসেন জানান- আমরা প্রতিটি মুহুর্তে ভয় এবং আতংকে দিনপাত করছি। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে আমাদের চোখের সামনেই জাতীয় গ্রীডের ৩২নম্বর টাওয়ার দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে যায়। ৩৩নম্বর টাওয়ার মারাত্বক ঝুঁিকতে রয়েছে যে কোন মুহুর্তে ঐ টাওয়ারটি নদীর গহবরে চলে যাবে। নদীরকুলবর্তি আরো ৪টি টাওয়ার রয়েছে মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, সাহেবনগর বেড়ীবাঁধসহ ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার কাজ চালূ থাকা অবস্থায় টাওয়ারটি ভেঙ্গে যায়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌছে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে আরো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে আশ^স্ত করলে এলাকাবাসী শান্ত হয়। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে নেয়া টেন্ডার মোতাবেক আগামী শুষ্ক মৌসুমে এই নদী রক্ষার কাজ শুরু করা হবে। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলাকাবাসীকে জানান, আমরা জানি আপনারা মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আমরা আপানদের পাশে সার্বক্ষনিক আছি। আশা করছি শ্রীগ্র্ই এই পরিস্থিতি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাঁধ রক্ষার কাজ শুরুর আশ^াস দেন। বিকেলে কুষ্টিয়া সেনা ক্যাম্পে স্থানীয় নদী রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দকে ডেকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন এবং সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিপুর্ন সষ্ঠ’ু সমাধানের বিষয়ে আশ^াস প্রদান করেন সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ লেঃ কর্ণেল মাহবুবুর রহমান। এদিকে কুষ্টিয়ার বটতৈল গ্রীডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেব জানান- নদী ভাঙ্গনের খবরে আমরা কয়েক দিন আগে থেকেই ঐ লাইনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রেখেছিলাম। এ লাইনে ভেড়ামারা থেকে ফরিদপুর গ্রীডের বিদ্যুৎ আনা নেয়া হতো। নদীতে বিদ্যুৎএর টাওয়ার ভেঙ্গে যাওয়ায় কোন সমস্যা হবে না। সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫০০ মিটার গ্রোয়েন (বাঁধ) নদীর মধ্যে আছে।  সেখানে পানি বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে অপর পাড়ে  সাহেব নগর এলাকা ভাঙছে। পদ্মা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক মেহেদী হাসান অপু জানান, এলাকাবাসীর আশংকা ছিল টাওয়ার ভেঙ্গে নদীতে চলে যাবে ঠিক তাই হলো। আরো কয়েকটি টাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে আমাদের সাথে পান্ িউন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ সকল মহলের সর্বাক্ষনিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি আরো জানান, মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া, তালবাড়িয়া ও বারুইপাড়া ইউনিয়নের মির্জানগর, নওদা খাদিমপুর, বাহিরচর, সাহেব নগর, ঘোড়ামারা, রানাখড়িয়া গ্রামের  হাজার হাজার একর আবাদী জমির ফসল নদীতে সম্পুর্ণ বিলিন হয়ে গেছে। গ্রামের স্কুল কলেজ, মাদাসা, মসজিদ, গোরস্থান, এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গেও যোগাযোগের একমাত্র  সড়কটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয়দের মহাসড়ক অবরোধ

কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভাঙ্গনে জাতীয় গ্রীডের সঞ্চালন টাওয়ার নদীগর্ভে

আপডেট সময় ০১:০০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

 নিজ সংবাদ ॥  পদ্মা নদীতে গ্রাস করলো জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়রা চোখের সামনে বিকট শব্দে ৩২নম্বর টাওয়ারটি ভেঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে পদ্মার গহবরে চলে যেতে দেখেন। মিরপুর উপজেলার সাহেব নগর গ্রামের পদ্মা নদীর কোল ঘেষে এই টাওয়ারটি নদীতে বিলিন হয়ে যায়। এঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সাথে সাথে এলাকাবাসী কুষ্টিয়া- রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এলাকাকে পদ্মার কলারগ্রাস থেকে মুক্ত করতে সরকারের জরুরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবীতেই এই সড়ক অবরোধ বলে এলাকাবাসী জানান। ২ঘন্টা অবরোধ চলাকালে সড়কের উভয় পাশের্^ শত শত যানবাহন ও দুরপাল্লার বাস আটকে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বাপ্পী, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিরপুর-ভেড়ামারা) সার্কেল আব্দুল খালেক, মিরপুর উপজেলার ভুমি কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এলাকার ছেলে  বেলাল খানঁ। কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীকে আশ^াস দেন দ্রুত বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে অতিরিক্ত বালু ও জিও ব্যাগ ফেলা হবে। সেই সাথে সদ্য টেন্ডারের কাজ আগামী শুকনো মৌসুমে শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায়- স্থানীয়রা সাহেবনগর বাসষ্ট্যান্ডের কুষ্টিয়া-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় স্থানীয় নদী রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। নদীরকুলবুতি সাহেবনগর গ্রামের নুর হোসেন জানান- আমরা প্রতিটি মুহুর্তে ভয় এবং আতংকে দিনপাত করছি। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে আমাদের চোখের সামনেই জাতীয় গ্রীডের ৩২নম্বর টাওয়ার দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে যায়। ৩৩নম্বর টাওয়ার মারাত্বক ঝুঁিকতে রয়েছে যে কোন মুহুর্তে ঐ টাওয়ারটি নদীর গহবরে চলে যাবে। নদীরকুলবর্তি আরো ৪টি টাওয়ার রয়েছে মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, সাহেবনগর বেড়ীবাঁধসহ ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার কাজ চালূ থাকা অবস্থায় টাওয়ারটি ভেঙ্গে যায়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌছে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে আরো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে আশ^স্ত করলে এলাকাবাসী শান্ত হয়। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে নেয়া টেন্ডার মোতাবেক আগামী শুষ্ক মৌসুমে এই নদী রক্ষার কাজ শুরু করা হবে। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলাকাবাসীকে জানান, আমরা জানি আপনারা মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আমরা আপানদের পাশে সার্বক্ষনিক আছি। আশা করছি শ্রীগ্র্ই এই পরিস্থিতি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাঁধ রক্ষার কাজ শুরুর আশ^াস দেন। বিকেলে কুষ্টিয়া সেনা ক্যাম্পে স্থানীয় নদী রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দকে ডেকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন এবং সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিপুর্ন সষ্ঠ’ু সমাধানের বিষয়ে আশ^াস প্রদান করেন সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ লেঃ কর্ণেল মাহবুবুর রহমান। এদিকে কুষ্টিয়ার বটতৈল গ্রীডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেব জানান- নদী ভাঙ্গনের খবরে আমরা কয়েক দিন আগে থেকেই ঐ লাইনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রেখেছিলাম। এ লাইনে ভেড়ামারা থেকে ফরিদপুর গ্রীডের বিদ্যুৎ আনা নেয়া হতো। নদীতে বিদ্যুৎএর টাওয়ার ভেঙ্গে যাওয়ায় কোন সমস্যা হবে না। সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫০০ মিটার গ্রোয়েন (বাঁধ) নদীর মধ্যে আছে।  সেখানে পানি বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে অপর পাড়ে  সাহেব নগর এলাকা ভাঙছে। পদ্মা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক মেহেদী হাসান অপু জানান, এলাকাবাসীর আশংকা ছিল টাওয়ার ভেঙ্গে নদীতে চলে যাবে ঠিক তাই হলো। আরো কয়েকটি টাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে আমাদের সাথে পান্ িউন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ সকল মহলের সর্বাক্ষনিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি আরো জানান, মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া, তালবাড়িয়া ও বারুইপাড়া ইউনিয়নের মির্জানগর, নওদা খাদিমপুর, বাহিরচর, সাহেব নগর, ঘোড়ামারা, রানাখড়িয়া গ্রামের  হাজার হাজার একর আবাদী জমির ফসল নদীতে সম্পুর্ণ বিলিন হয়ে গেছে। গ্রামের স্কুল কলেজ, মাদাসা, মসজিদ, গোরস্থান, এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গেও যোগাযোগের একমাত্র  সড়কটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।