ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আড়ুয়াপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক’র পদত্যাগ দাবী

কুষ্টিয়া অনৈতিক ও অশালীন আচরণ এবং  নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 47

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় অনৈতিক ও অশালীন আচরণ এবং নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সহকারী শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১২সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ু–য়াপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা পদত্যাগ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা দেন তারা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী গণিতের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল কাফি প্রত্যেক শ্রেণি কক্ষে ঢুকে ক্লাস নেয়ার সময় ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক ও অশালীন আচরণ করেন এবং আজেবাজে কথা বলেন। এছাড়া অনেক কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা উম্মে হাবিবা শান্তাকে অনেকবার অবগত করা হয়। প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী গণিতের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল কাফির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং প্রধান শিক্ষিকা আমাদেরকে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া নানা হুমকি ধামকি দেন। ছাত্রীরা আরো বলেন, প্রধান শিক্ষিকা উম্মে হাবিবা শান্তা অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকের পক্ষে কথা বলেন এবং তার সাথে চলাফেরা করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন এবং নানা অজুহাতে ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তোলেন। এদিকে ছাত্রীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সন্তানদের আমরা স্কুলে লেখাপড়া করতে পাঠায়। কিন্তু বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আমাদের সন্তান বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা আজেবাজে কথা বলেন। সেগুলো আমাদের সন্তানরা আমাদেরকে বলে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমরা এই শিক্ষকদের পদত্যাগ দাবি করছি। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা উম্মে হাবিবা শান্তা বলেন,  সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কিছুটা সত্য, কিছুটা বাড়তি। জেলা প্রশাসক না থাকাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তার  নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। অপরদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এস এম আলমগীর আলম বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা অবস্থায় ভালোই চলছিল। কোন সমস্যা ছিল না। চলতি বছরের ১৯ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেয়। তবে বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাঃ আমিরুল ইসলাম জানান, আমি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সরকারের গাইড লাইন অনুযায়ী তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল কাফির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়ুয়াপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক’র পদত্যাগ দাবী

কুষ্টিয়া অনৈতিক ও অশালীন আচরণ এবং  নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় অনৈতিক ও অশালীন আচরণ এবং নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সহকারী শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১২সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ু–য়াপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা পদত্যাগ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা দেন তারা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী গণিতের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল কাফি প্রত্যেক শ্রেণি কক্ষে ঢুকে ক্লাস নেয়ার সময় ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক ও অশালীন আচরণ করেন এবং আজেবাজে কথা বলেন। এছাড়া অনেক কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা উম্মে হাবিবা শান্তাকে অনেকবার অবগত করা হয়। প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী গণিতের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল কাফির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং প্রধান শিক্ষিকা আমাদেরকে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া নানা হুমকি ধামকি দেন। ছাত্রীরা আরো বলেন, প্রধান শিক্ষিকা উম্মে হাবিবা শান্তা অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকের পক্ষে কথা বলেন এবং তার সাথে চলাফেরা করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন এবং নানা অজুহাতে ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তোলেন। এদিকে ছাত্রীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সন্তানদের আমরা স্কুলে লেখাপড়া করতে পাঠায়। কিন্তু বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আমাদের সন্তান বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা আজেবাজে কথা বলেন। সেগুলো আমাদের সন্তানরা আমাদেরকে বলে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমরা এই শিক্ষকদের পদত্যাগ দাবি করছি। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা উম্মে হাবিবা শান্তা বলেন,  সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কিছুটা সত্য, কিছুটা বাড়তি। জেলা প্রশাসক না থাকাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তার  নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। অপরদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এস এম আলমগীর আলম বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা অবস্থায় ভালোই চলছিল। কোন সমস্যা ছিল না। চলতি বছরের ১৯ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেয়। তবে বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাঃ আমিরুল ইসলাম জানান, আমি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সরকারের গাইড লাইন অনুযায়ী তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল কাফির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।