ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় কোটা আন্দোলনে আহত ও নিহতদের মাঝে বিজিবি’র অনুদান প্রদান

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় কোটা আন্দোলনে আহত ও নিহতদের মাঝে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন(৪৭বিজিবি)পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৬আগস্ট)দিনব্যাপী নিহত তিনজন ও আহত তিনজন পরিবারের সদস্যদের নগদ অর্থ ও খাবার দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন বিজিবি ৪৭। এদিন কুষ্টিয়া শহরের চর থানাপাড়া ও হরিপুর এলাকায় নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের হাতে অর্থ সহযোগিতা তুলে দেন কুষ্টিয়া ব্যাটেলিয়ান বিজিবি ৪৭-এর পরিচালক লেঃ কর্নেল মোঃ মাহবুব মুর্শেদ রহমান। এ সময় নিহত এবং আহতদের পরিবারের সাথে দেখা করে সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন তিনি। এছাড়াও কুষ্টিয়ার দহকোলা ও দৌলতপুর উপজেলার গুলিবিদ্ধ এক শিক্ষার্থীকে চেক প্রদান করা হয়। এ সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন(৪৭বিজিবি)-এর অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারগুলোতে এখনো শোক ও হতাশা বিরাজ করছে। উপার্জনক্ষম পরিবারের একমাত্র সদস্যদের হারিয়ে চিন্তিত তারা। উন্নত চিকিৎসার অভাবে অনেকেই সুস্থ হতে পারেননি। এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজিবিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল। এতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায় , সোমবার নিহত তিনজন ও আহত তিনজন পরিবারের সদস্যদের নগদ অর্থ ও খাবার প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে নিহত তিনজনের একজন হলেন-কুষ্টিয়া শহরতলির হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে রং মিস্ত্রি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম গত ৫ আগষ্ট আন্দোলনে এসে নিহত হন। স্ত্রী ও ছোট এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যাওয়ার পর পরিবারটি হতাশায় ভুগছে। সামনের দিনগুলো কিভাবে চলবে তা নিয়ে চিন্তিত পরিবারটি। একইদিন নিহত হন শিশু মোঃ আব্দুল্লাহ। কুষ্টিয়া শহরের চরথানাপাড়া বাধবাজার এলাকার লোকমানের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ লেখাপড়া করতো না। যে যখন যে কাজ দিতো, সে তাই করতো। চায়ের কর্মচারী আবদুল্লাহকে হারিয়ে শোক কাটছে না পরিবারের। এদিকে নিহত ও আহত অন্য পরিবারের সদস্যরাও আছেন নানা কষ্টে। অপরদিকে কুষ্টিয়া সদর থানার  দহকুলা গ্রামের মোঃ জয়নাল আবেদিনের ছেলে মোঃ উসামা বিন জয়নাল আবেদিন ছিলেন ছাত্র। কুওয়াতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার আলিম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। এছাড়া আহত তিনজনের মধ্যে চোখে গুলি লেগে ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জিসান নামের এক ছাত্র ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসীন আছে। সে কুষ্টিয়া সদরের হাটশহরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়া গ্রামের মোছাঃ হালিমা খাতুনের ছেলে। গত ৫আগস্ট সে পুলিশের গুলিতে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অন্যজন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার দক্ষিনপাড়া গ্রামের বাবলুর রহমানের ছেলে ইসতিয়াক । ইসতিয়াক কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে মাষ্টার্সের ছাত্র। পুলিশের শর্টগানের গুলিতে (স্প্রিন্টার) আহত হন। সে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ্য। অপর আরেক আহত হলেন- বেকার যুবক এস এম সুমন। সে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত ফরিদুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের শর্টগানের(স্প্রিন্টার) গুলিতে সেও আহত হন। বর্তমানে সে মোটামুটি সুস্থ্য রয়েছেন। এসব পরিবারের সদস্যরা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। নিহত রং মিস্ত্রি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবনী আক্তার বলেন, আমার স্বামী যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমার দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে কিভাবে থাকবো সেই চিন্তায় আছি। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে বিজিবি আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে, এতে আমি বেশ খুশি। তারা আমাদের এই দুঃখের সময় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এতে আমরা কৃতজ্ঞ। কুষ্টিয়া ব্যাটেলিয়ান বিজিবি ৪৭-এর পরিচালক লেঃ কর্নেল মোঃ মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, কোটা আন্দোলনে আহত ও নিহতদের বিজিবি’র পক্ষ থেকে খোজখবর নেয়া হচ্ছে।  পর্যায়ক্রমে সকল নিহত ও আহত পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় কোটা আন্দোলনে আহত ও নিহতদের মাঝে বিজিবি’র অনুদান প্রদান

আপডেট সময় ১১:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় কোটা আন্দোলনে আহত ও নিহতদের মাঝে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন(৪৭বিজিবি)পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৬আগস্ট)দিনব্যাপী নিহত তিনজন ও আহত তিনজন পরিবারের সদস্যদের নগদ অর্থ ও খাবার দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন বিজিবি ৪৭। এদিন কুষ্টিয়া শহরের চর থানাপাড়া ও হরিপুর এলাকায় নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের হাতে অর্থ সহযোগিতা তুলে দেন কুষ্টিয়া ব্যাটেলিয়ান বিজিবি ৪৭-এর পরিচালক লেঃ কর্নেল মোঃ মাহবুব মুর্শেদ রহমান। এ সময় নিহত এবং আহতদের পরিবারের সাথে দেখা করে সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন তিনি। এছাড়াও কুষ্টিয়ার দহকোলা ও দৌলতপুর উপজেলার গুলিবিদ্ধ এক শিক্ষার্থীকে চেক প্রদান করা হয়। এ সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন(৪৭বিজিবি)-এর অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারগুলোতে এখনো শোক ও হতাশা বিরাজ করছে। উপার্জনক্ষম পরিবারের একমাত্র সদস্যদের হারিয়ে চিন্তিত তারা। উন্নত চিকিৎসার অভাবে অনেকেই সুস্থ হতে পারেননি। এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজিবিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল। এতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায় , সোমবার নিহত তিনজন ও আহত তিনজন পরিবারের সদস্যদের নগদ অর্থ ও খাবার প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে নিহত তিনজনের একজন হলেন-কুষ্টিয়া শহরতলির হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে রং মিস্ত্রি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম গত ৫ আগষ্ট আন্দোলনে এসে নিহত হন। স্ত্রী ও ছোট এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যাওয়ার পর পরিবারটি হতাশায় ভুগছে। সামনের দিনগুলো কিভাবে চলবে তা নিয়ে চিন্তিত পরিবারটি। একইদিন নিহত হন শিশু মোঃ আব্দুল্লাহ। কুষ্টিয়া শহরের চরথানাপাড়া বাধবাজার এলাকার লোকমানের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ লেখাপড়া করতো না। যে যখন যে কাজ দিতো, সে তাই করতো। চায়ের কর্মচারী আবদুল্লাহকে হারিয়ে শোক কাটছে না পরিবারের। এদিকে নিহত ও আহত অন্য পরিবারের সদস্যরাও আছেন নানা কষ্টে। অপরদিকে কুষ্টিয়া সদর থানার  দহকুলা গ্রামের মোঃ জয়নাল আবেদিনের ছেলে মোঃ উসামা বিন জয়নাল আবেদিন ছিলেন ছাত্র। কুওয়াতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার আলিম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। এছাড়া আহত তিনজনের মধ্যে চোখে গুলি লেগে ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জিসান নামের এক ছাত্র ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসীন আছে। সে কুষ্টিয়া সদরের হাটশহরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়া গ্রামের মোছাঃ হালিমা খাতুনের ছেলে। গত ৫আগস্ট সে পুলিশের গুলিতে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অন্যজন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার দক্ষিনপাড়া গ্রামের বাবলুর রহমানের ছেলে ইসতিয়াক । ইসতিয়াক কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে মাষ্টার্সের ছাত্র। পুলিশের শর্টগানের গুলিতে (স্প্রিন্টার) আহত হন। সে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে মোটামুটি সুস্থ্য। অপর আরেক আহত হলেন- বেকার যুবক এস এম সুমন। সে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত ফরিদুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের শর্টগানের(স্প্রিন্টার) গুলিতে সেও আহত হন। বর্তমানে সে মোটামুটি সুস্থ্য রয়েছেন। এসব পরিবারের সদস্যরা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। নিহত রং মিস্ত্রি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবনী আক্তার বলেন, আমার স্বামী যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমার দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে কিভাবে থাকবো সেই চিন্তায় আছি। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে বিজিবি আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে, এতে আমি বেশ খুশি। তারা আমাদের এই দুঃখের সময় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এতে আমরা কৃতজ্ঞ। কুষ্টিয়া ব্যাটেলিয়ান বিজিবি ৪৭-এর পরিচালক লেঃ কর্নেল মোঃ মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, কোটা আন্দোলনে আহত ও নিহতদের বিজিবি’র পক্ষ থেকে খোজখবর নেয়া হচ্ছে।  পর্যায়ক্রমে সকল নিহত ও আহত পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।