ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাদাম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ বাদাম হয়। প্রতি মণ বাদাম ১২০০-১৪০০ টাকা বিক্রি করা যায়। মৌসুম ছাড়া বাদাম বিক্রি করলে বাদামের দাম বেশি পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় খরচ বাদ দিয়েও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লাভ থাকে। যমুনার ভাঙা-গড়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকে চরাঞ্চলের মানুষ। যমুনার বুকে জেগে ওঠা বালুচর অবহেলিত মানুষের  বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। যমুনা নদীর বুকজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় বালুচরে দীর্ঘদিন ধরে বাদাম চাষ করছেন চরাঞ্চলের চাষিরা। চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলের চাষিরা বাদাম আবাদ করেছেন। বাদাম চাষে লাভ বেশি সাধারণত সেচের প্রয়োজন হয় না তবে মাটি অধিক শুষ্ক হলে বা অতিরিক্ত খরায় গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে এক বার পানি সেচের প্রয়োজন হতে পারে। এ দিকে বাদামকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খাবার বলা হচ্ছে। কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এক হাজার পুষ্টিকর খাবার নিয়ে গবেষণা করেন। তারা এগুলোর মধ্য থেকে ১০০টি খাবারকে শ্রেষ্ঠ খাবার হিসেবে শনাক্ত করেন। যে খাবারটিকে তারা তালিকার প্রথমে রাখেন সেটি হচ্ছে বাদাম; আরো নির্দিষ্ট করে বললে আখরোট এবং কাঠবাদাম দখল করে নাম্বার ওয়ান ফুড- এর স্থান। বাদামে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ব্রেনের সেরিব্রাল কর্টেক্সের প্রাথমিক গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত বাদাম খেলে আপনার মস্তিষ্ক চমৎকার কাজ করবে। সাদা বালুর জমিনে সবুজ আর সবুজে ছেয়ে গেছে লতানো বাদামের গাছে। প্রতিটি বাদাম গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই উঠে আসছে থোকা থোকা সোনালি রংয়ের চিনাবাদাম। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বালু মাটিতে বাদাম চাষ করেন কৃষকরা। চরের জেগে ওঠা বালু মাটি বাদাম চাষে উপযোগী হওয়ায় বাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। বাদাম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা  গেছে, বালু মাটি বাদাম চাষের উপযোগী। বাদাম রোপণ করা থেকে শুরু করে পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় তিন মাস। প্রতি বছর বন্যায় ব্যাপক হারে ভাঙনের ফলে মাটি সরে গিয়ে জমিতে বালি মাটি উঠে এসেছে। এই বালু মাটিতে অন্য কোনো ফসল হয় না। তবে অন্য ফসল না হলেও বালু মাটিতে বাদাম চাষ ভালো হয়। আগের চেয়ে বর্তমান বাজারে বাদামের চাহিদা বেশি হওয়ায় এটি চাষে ঝুঁকছে চরাঞ্চলের কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে প্রায় ১০  কেজির মতো বীজ লাগে। বাদামের বীজ রোপণ করা থেকে পরিপক্ব হতে তিন মাস সময় লাগে। বাদাম আবাদে লোকসান নেই বললে চলে। কোনো প্রকার সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। এক বিঘা জমির বাদাম ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। আর এক বিঘা জমিতে সবমিলিয়ে খরচ হয় মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলে ২ হাজার ২০১ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় বাদাম আবাদ বেশি হয়। বাদামচাষি আব্দুর রহিম বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে বাদাম আবাদ করি। কৃষি গবেষণার বারি চিনাবাদাম-৯ আবাদ করেছি। চিনাবাদামের ফলন খুবই ভালো। এই মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে আবাদ করতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিন বিঘা জমিতে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ হবে। বাদাম চাষি লিটু মন্ডল বলেন, ২০ বছর ধরে বাদাম আবাদ করি। যমুনার চর এলাকায় বাদাম খুব ভালো হয়। চরাঞ্চলে অন্য ফসল হয় না, বাদামটা ভালো হয়। আমি এ বছর এক একর জমিতে বাদাম আবাদ করেছি। আমার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। লাভ হবে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। কৃষক আবু হানিফ বলেন, যমুনার চরে ধানের আবাদ ও অন্য ফসল আবাদ করা যায় না। চরাঞ্চলের পতিত অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে বাদাম আবাদ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করতে ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৭-৮ মণ বাদাম হবে। প্রতি মণ বাদাম ১২০০-১৪০০ টাকা বিক্রি করা যায়। মৌসুম ছাড়া বাদাম বিক্রি করলে বাদামের দাম বেশি পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় খরচ বাদ দিয়েও ৫-৬ হাজার টাকা লাভ থাকে। কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, বাদাম একটি অর্থকরী ও তৈল জাতীয় ফসল। চরগুলো প্রতি বছরই যমুনার বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। প্রচুর পরিমাণ পলি ও বালি পড়ে। বালি পড়ার ফলে চরগুলোতে অন্য ফসল তেমন ভালো হয় না বাদাম ছাড়া। কৃষি গবেষণা এলাকার সুবিধাবঞ্চিত চাষিদের বাদামের উৎপাদন প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ নিতে হয়। তিনি আরও জানান, বাদামের বীজ রাখার জন্য পাত্র দেই। চাষিরা পাত্রের মধ্যে বীজ রেখে পরবর্তী বছর যখন বন্যার পানি চলে যায় তখন চাষিরা আগাম বাদাম আবাদ করতে পারে। বাদাম আবাদ করে চাষিরা প্রচুর লাভবান হচ্ছেন। ১৫০ দিনের মধ্যে চাষিরা বাদাম তুলতে পারেন। বারি চিনাবাদাম-৯ এই অঞ্চলে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। এ দিকে চাঁদপুরের কচুয়ার বিভিন্ন গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহয়তায় কয়েক বছর ধরেই উন্নতমানের চিনাবাদাম চাষ হচ্ছে। চাহিদা থাকায় কৃষক পর্যায়ে  কেজিপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাতে লাভবান হওয়ায় অনেকেই আগ্রহী এখন বাদাম চাষে। বিশেষ করে কচুয়াতে আলু এবং ভুট্টার জমিতে বাদাম করতে পারলে বেশি লাভ হবে বলে জানান কৃষকরা। ঘাগড়া গ্রামের কৃষক অজিত সরকার বলেন, চীনাবাদামের অনেক চাহিদা রয়েছে। অল্প খরচে বাদাম চাষে লাভ বেশি। চীনা বাদামের ফুল মাটির উপরে ফুটলেও গর্ভাশয়ের নিচের যে বৃন্তটি শুঁটি গঠন করে, সেটি মাটির নিচে চলে যায় এবং সেখানে পুষ্ট হয়ে বাদামে পরিণত হয়। এই কারণে ভালো নিকাশি ব্যবস্থা আছে এমন হাল্কা, ঝরঝরে দোঁয়াশ মাটিতে বাদাম চাষ করা উচিত। ফলে চীনাবাদাম চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। রাজশাহীর পবা উপজেলার পদ্মার চরের কৃষক আইনাল হক বলেন, চরের মাটি নিম্নমানের, শুধু বালু। এবারে তাপমাত্রা অত্যাধিক থাকার পরও বিঘায় ৮ মণের কম হবে না আশা করছি। ৮ মণ হলে ১ মণ শ্রমিকদের দিয়ে ৭ মণ টিকে। বাজারে বাদাম ৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়। অন্যান্য আবাদের চাইতে বেশি ভালো লাভ হবে বলে মনে করছি। এখন উপজেলার উঁচু বেলে-দোআঁশ মাটিতে এই লাভজনক ফসলে ঝুঁকছে চাষিরা। এক বিঘা জমিতে কম খরচের ফসলের মধ্যে বাদাম অন্যতম। সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা খরচে ফসল উঠানো যায়, কারণ খরচের ৫ গুণ লাভ। লেখক ঃ কৃষিবিদ রিপন কুমার।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাদাম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি

আপডেট সময় ১২:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪

কৃষি প্রতিবেদক ॥ প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ বাদাম হয়। প্রতি মণ বাদাম ১২০০-১৪০০ টাকা বিক্রি করা যায়। মৌসুম ছাড়া বাদাম বিক্রি করলে বাদামের দাম বেশি পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় খরচ বাদ দিয়েও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লাভ থাকে। যমুনার ভাঙা-গড়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকে চরাঞ্চলের মানুষ। যমুনার বুকে জেগে ওঠা বালুচর অবহেলিত মানুষের  বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। যমুনা নদীর বুকজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় বালুচরে দীর্ঘদিন ধরে বাদাম চাষ করছেন চরাঞ্চলের চাষিরা। চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলের চাষিরা বাদাম আবাদ করেছেন। বাদাম চাষে লাভ বেশি সাধারণত সেচের প্রয়োজন হয় না তবে মাটি অধিক শুষ্ক হলে বা অতিরিক্ত খরায় গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে এক বার পানি সেচের প্রয়োজন হতে পারে। এ দিকে বাদামকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খাবার বলা হচ্ছে। কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এক হাজার পুষ্টিকর খাবার নিয়ে গবেষণা করেন। তারা এগুলোর মধ্য থেকে ১০০টি খাবারকে শ্রেষ্ঠ খাবার হিসেবে শনাক্ত করেন। যে খাবারটিকে তারা তালিকার প্রথমে রাখেন সেটি হচ্ছে বাদাম; আরো নির্দিষ্ট করে বললে আখরোট এবং কাঠবাদাম দখল করে নাম্বার ওয়ান ফুড- এর স্থান। বাদামে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ব্রেনের সেরিব্রাল কর্টেক্সের প্রাথমিক গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত বাদাম খেলে আপনার মস্তিষ্ক চমৎকার কাজ করবে। সাদা বালুর জমিনে সবুজ আর সবুজে ছেয়ে গেছে লতানো বাদামের গাছে। প্রতিটি বাদাম গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই উঠে আসছে থোকা থোকা সোনালি রংয়ের চিনাবাদাম। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বালু মাটিতে বাদাম চাষ করেন কৃষকরা। চরের জেগে ওঠা বালু মাটি বাদাম চাষে উপযোগী হওয়ায় বাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। বাদাম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা  গেছে, বালু মাটি বাদাম চাষের উপযোগী। বাদাম রোপণ করা থেকে শুরু করে পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় তিন মাস। প্রতি বছর বন্যায় ব্যাপক হারে ভাঙনের ফলে মাটি সরে গিয়ে জমিতে বালি মাটি উঠে এসেছে। এই বালু মাটিতে অন্য কোনো ফসল হয় না। তবে অন্য ফসল না হলেও বালু মাটিতে বাদাম চাষ ভালো হয়। আগের চেয়ে বর্তমান বাজারে বাদামের চাহিদা বেশি হওয়ায় এটি চাষে ঝুঁকছে চরাঞ্চলের কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে প্রায় ১০  কেজির মতো বীজ লাগে। বাদামের বীজ রোপণ করা থেকে পরিপক্ব হতে তিন মাস সময় লাগে। বাদাম আবাদে লোকসান নেই বললে চলে। কোনো প্রকার সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। এক বিঘা জমির বাদাম ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। আর এক বিঘা জমিতে সবমিলিয়ে খরচ হয় মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলে ২ হাজার ২০১ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় বাদাম আবাদ বেশি হয়। বাদামচাষি আব্দুর রহিম বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে বাদাম আবাদ করি। কৃষি গবেষণার বারি চিনাবাদাম-৯ আবাদ করেছি। চিনাবাদামের ফলন খুবই ভালো। এই মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে আবাদ করতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিন বিঘা জমিতে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ হবে। বাদাম চাষি লিটু মন্ডল বলেন, ২০ বছর ধরে বাদাম আবাদ করি। যমুনার চর এলাকায় বাদাম খুব ভালো হয়। চরাঞ্চলে অন্য ফসল হয় না, বাদামটা ভালো হয়। আমি এ বছর এক একর জমিতে বাদাম আবাদ করেছি। আমার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। লাভ হবে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। কৃষক আবু হানিফ বলেন, যমুনার চরে ধানের আবাদ ও অন্য ফসল আবাদ করা যায় না। চরাঞ্চলের পতিত অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে বাদাম আবাদ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করতে ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৭-৮ মণ বাদাম হবে। প্রতি মণ বাদাম ১২০০-১৪০০ টাকা বিক্রি করা যায়। মৌসুম ছাড়া বাদাম বিক্রি করলে বাদামের দাম বেশি পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় খরচ বাদ দিয়েও ৫-৬ হাজার টাকা লাভ থাকে। কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, বাদাম একটি অর্থকরী ও তৈল জাতীয় ফসল। চরগুলো প্রতি বছরই যমুনার বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। প্রচুর পরিমাণ পলি ও বালি পড়ে। বালি পড়ার ফলে চরগুলোতে অন্য ফসল তেমন ভালো হয় না বাদাম ছাড়া। কৃষি গবেষণা এলাকার সুবিধাবঞ্চিত চাষিদের বাদামের উৎপাদন প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ নিতে হয়। তিনি আরও জানান, বাদামের বীজ রাখার জন্য পাত্র দেই। চাষিরা পাত্রের মধ্যে বীজ রেখে পরবর্তী বছর যখন বন্যার পানি চলে যায় তখন চাষিরা আগাম বাদাম আবাদ করতে পারে। বাদাম আবাদ করে চাষিরা প্রচুর লাভবান হচ্ছেন। ১৫০ দিনের মধ্যে চাষিরা বাদাম তুলতে পারেন। বারি চিনাবাদাম-৯ এই অঞ্চলে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। এ দিকে চাঁদপুরের কচুয়ার বিভিন্ন গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহয়তায় কয়েক বছর ধরেই উন্নতমানের চিনাবাদাম চাষ হচ্ছে। চাহিদা থাকায় কৃষক পর্যায়ে  কেজিপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাতে লাভবান হওয়ায় অনেকেই আগ্রহী এখন বাদাম চাষে। বিশেষ করে কচুয়াতে আলু এবং ভুট্টার জমিতে বাদাম করতে পারলে বেশি লাভ হবে বলে জানান কৃষকরা। ঘাগড়া গ্রামের কৃষক অজিত সরকার বলেন, চীনাবাদামের অনেক চাহিদা রয়েছে। অল্প খরচে বাদাম চাষে লাভ বেশি। চীনা বাদামের ফুল মাটির উপরে ফুটলেও গর্ভাশয়ের নিচের যে বৃন্তটি শুঁটি গঠন করে, সেটি মাটির নিচে চলে যায় এবং সেখানে পুষ্ট হয়ে বাদামে পরিণত হয়। এই কারণে ভালো নিকাশি ব্যবস্থা আছে এমন হাল্কা, ঝরঝরে দোঁয়াশ মাটিতে বাদাম চাষ করা উচিত। ফলে চীনাবাদাম চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। রাজশাহীর পবা উপজেলার পদ্মার চরের কৃষক আইনাল হক বলেন, চরের মাটি নিম্নমানের, শুধু বালু। এবারে তাপমাত্রা অত্যাধিক থাকার পরও বিঘায় ৮ মণের কম হবে না আশা করছি। ৮ মণ হলে ১ মণ শ্রমিকদের দিয়ে ৭ মণ টিকে। বাজারে বাদাম ৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়। অন্যান্য আবাদের চাইতে বেশি ভালো লাভ হবে বলে মনে করছি। এখন উপজেলার উঁচু বেলে-দোআঁশ মাটিতে এই লাভজনক ফসলে ঝুঁকছে চাষিরা। এক বিঘা জমিতে কম খরচের ফসলের মধ্যে বাদাম অন্যতম। সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা খরচে ফসল উঠানো যায়, কারণ খরচের ৫ গুণ লাভ। লেখক ঃ কৃষিবিদ রিপন কুমার।