ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক দফা দাবিতে ফের ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা

  • প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১১:২৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪
  • 36

চলমান চার দফা দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে এক দফা দাবিতে নামিয়ে এনে ফের সারা দেশে ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ নেতারা।

রোববার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে টানা ৫ ঘণ্টা অবরোধের পর রাত ৮টায় শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচির শেষে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।শিক্ষার্থীদের বর্তমান এক দফা দাবি হলো- সব গ্রেডে সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাস করতে হবে।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ব্লকেড কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী কোটা সম্পর্কে কথা বলেছেন। আমরা সংবিধান দেখিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছি। সংবিধানে বলা হয়েছে, নাগরিকের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আমরা সংবিধানের পক্ষে লড়াই করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিল করেছিলেন। আমরা আশা করে এবারও তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিকে মেনে কোটা আন্দোলনের চূড়ান্ত সুরাহা করবেন।

কোটা প্রথাকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা হয় দাবি আদায় করে ছাড়বো নয়তো দেশ ছাড়বো। আমাদের কোনো দাবি যদি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে না হয় তাহলে আমাদের একটি দাবি পূরণ করবেন। দেশে ১০০% কোটা নিশ্চিত করে দেবেন। যে প্রশাসন কোটাধারীদের প্রশাসন সে  প্রশাসনে আমরা যেতে চাই না। হয়তো এই আন্দোলন থেকে কোটা প্রথা চূড়ান্ত নিরসন হবে নয়তো এই দেশকে কোটাধারীদের দেশ ঘোষণা করতে হবে।

কর্মসূচি ঘোষণা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে। আগামীকালও সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন পয়েন্টে ব্লকেড কর্মসূচি চলবে। আজকে আমরা শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গিয়েছি আগামীকাল ফার্মগেট পার হয়ে যাবো।’ শিক্ষার্থীদেরকে আগামীকাল সাড়ে ৩টায় ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এক দফা দাবি ঘোষণা করে হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! এখন সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ আপনার দিকে চেয়ে আছে। আমাদের এক দফা দাবি- সকল গ্রেডে সকল প্রকার অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাস করতে হবে। ৫৬ শতাংশ কোনদিন কোটা হতে পারে না, এটা আমরা মানি না, মানবো না। আমাদের আন্দোলন নিয়ে নানা কথা ছড়ানো হচ্ছে আমরা নেতা হতে এসেছি। আমরা বলতে চাই আমাদের দাবি যেদিন মেনে নেয়া হবে সেদিন আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাবো।’

এর আগে, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহালসহ চার দফা দাবিতে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্ম ঘোষিত সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মহাসড়কে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ-চাঁনখারপুল মোড় অবরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

হাইকোর্ট কর্তৃক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ৭ম দিনে রোববার বিকেল ৪টায় এই অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। 

জনপ্রিয় সংবাদ

এক দফা দাবিতে ফের ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেট সময় ১১:২৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

চলমান চার দফা দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে এক দফা দাবিতে নামিয়ে এনে ফের সারা দেশে ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ নেতারা।

রোববার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে টানা ৫ ঘণ্টা অবরোধের পর রাত ৮টায় শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচির শেষে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।শিক্ষার্থীদের বর্তমান এক দফা দাবি হলো- সব গ্রেডে সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাস করতে হবে।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ব্লকেড কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী কোটা সম্পর্কে কথা বলেছেন। আমরা সংবিধান দেখিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছি। সংবিধানে বলা হয়েছে, নাগরিকের সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আমরা সংবিধানের পক্ষে লড়াই করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিল করেছিলেন। আমরা আশা করে এবারও তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিকে মেনে কোটা আন্দোলনের চূড়ান্ত সুরাহা করবেন।

কোটা প্রথাকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা হয় দাবি আদায় করে ছাড়বো নয়তো দেশ ছাড়বো। আমাদের কোনো দাবি যদি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে না হয় তাহলে আমাদের একটি দাবি পূরণ করবেন। দেশে ১০০% কোটা নিশ্চিত করে দেবেন। যে প্রশাসন কোটাধারীদের প্রশাসন সে  প্রশাসনে আমরা যেতে চাই না। হয়তো এই আন্দোলন থেকে কোটা প্রথা চূড়ান্ত নিরসন হবে নয়তো এই দেশকে কোটাধারীদের দেশ ঘোষণা করতে হবে।

কর্মসূচি ঘোষণা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে। আগামীকালও সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন পয়েন্টে ব্লকেড কর্মসূচি চলবে। আজকে আমরা শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গিয়েছি আগামীকাল ফার্মগেট পার হয়ে যাবো।’ শিক্ষার্থীদেরকে আগামীকাল সাড়ে ৩টায় ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এক দফা দাবি ঘোষণা করে হাসনাত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! এখন সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ আপনার দিকে চেয়ে আছে। আমাদের এক দফা দাবি- সকল গ্রেডে সকল প্রকার অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাস করতে হবে। ৫৬ শতাংশ কোনদিন কোটা হতে পারে না, এটা আমরা মানি না, মানবো না। আমাদের আন্দোলন নিয়ে নানা কথা ছড়ানো হচ্ছে আমরা নেতা হতে এসেছি। আমরা বলতে চাই আমাদের দাবি যেদিন মেনে নেয়া হবে সেদিন আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাবো।’

এর আগে, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহালসহ চার দফা দাবিতে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্ম ঘোষিত সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মহাসড়কে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ-চাঁনখারপুল মোড় অবরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

হাইকোর্ট কর্তৃক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ৭ম দিনে রোববার বিকেল ৪টায় এই অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।