ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ ফোনালাপে এনসিপি নেত্রী রুমী টেনশনের কথা জানান বাবাকে

পাসপোর্ট করতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল মেয়ের, কিন্তু বাড়ি ফিরছে তার নিথর দেহ। ধানমন্ডি থানার ওসির মাধ্যমে নিজের মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন এক শোকাতুর বাবা। বর্তমানে তিনি মেয়ের মরদেহ নিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

নিহতের নাম জান্নাত আরা রুমী (৩০)। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর জিগাতলার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধানমন্ডি থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। নিহত জান্নাত আরা রুমির স্থায়ী ঠিকানা নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায়। তার বাবার নাম জাকির হোসেন।

নিহতের বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর মেয়ের সঙ্গে তার শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল। তখন মেয়েটি মোবাইলে বাবাকে জানিয়েছিল যে, সে ‘টেনশনে’ আছে। তবে ঠিক কী কারণে সে দুশ্চিন্তায় ছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

নিহতের বাবা আরও জানান, পাসপোর্ট করতে মেয়েটির বাড়ি আসার কথা ছিল। রুমি তার বাবাকে বাসায় একটি ব্যাংক চেক রাখা আছে বলে জানান। তিনি সেই চেকটি বাবাকে খুঁজে রাখতে বলেন।

হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান জানান, রুমী ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নার্সিংয়ে পড়ালেখা শেষ করেছেন। এরপর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছিলেন। তবে বর্তমানে কোথায় চাকরি করতেন, নাকি বেকার ছিলেন তা জানাতে পারেননি তিনি।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এনসিপির নেত্রী জান্নাত আরা রুমী বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিনি জিগাতলার ওই ছাত্রী হোস্টেলের একটি কক্ষে একা থাকতেন।

আজ সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ওই হোস্টেলে যায়। পুলিশ ও ছাত্রী হোস্টেলের বাসিন্দারা রুমীকে ডাকাডাকি করে কোনও শব্দ পাননি। কক্ষটির ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। একপর্যায়ে পুলিশ দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় জান্নাত আরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ ফোনালাপে এনসিপি নেত্রী রুমী টেনশনের কথা জানান বাবাকে

আপডেট সময় ০৩:২১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

পাসপোর্ট করতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল মেয়ের, কিন্তু বাড়ি ফিরছে তার নিথর দেহ। ধানমন্ডি থানার ওসির মাধ্যমে নিজের মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন এক শোকাতুর বাবা। বর্তমানে তিনি মেয়ের মরদেহ নিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

নিহতের নাম জান্নাত আরা রুমী (৩০)। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর জিগাতলার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধানমন্ডি থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। নিহত জান্নাত আরা রুমির স্থায়ী ঠিকানা নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায়। তার বাবার নাম জাকির হোসেন।

নিহতের বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর মেয়ের সঙ্গে তার শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল। তখন মেয়েটি মোবাইলে বাবাকে জানিয়েছিল যে, সে ‘টেনশনে’ আছে। তবে ঠিক কী কারণে সে দুশ্চিন্তায় ছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

নিহতের বাবা আরও জানান, পাসপোর্ট করতে মেয়েটির বাড়ি আসার কথা ছিল। রুমি তার বাবাকে বাসায় একটি ব্যাংক চেক রাখা আছে বলে জানান। তিনি সেই চেকটি বাবাকে খুঁজে রাখতে বলেন।

হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান জানান, রুমী ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নার্সিংয়ে পড়ালেখা শেষ করেছেন। এরপর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছিলেন। তবে বর্তমানে কোথায় চাকরি করতেন, নাকি বেকার ছিলেন তা জানাতে পারেননি তিনি।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এনসিপির নেত্রী জান্নাত আরা রুমী বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিনি জিগাতলার ওই ছাত্রী হোস্টেলের একটি কক্ষে একা থাকতেন।

আজ সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ওই হোস্টেলে যায়। পুলিশ ও ছাত্রী হোস্টেলের বাসিন্দারা রুমীকে ডাকাডাকি করে কোনও শব্দ পাননি। কক্ষটির ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। একপর্যায়ে পুলিশ দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় জান্নাত আরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।