ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিসিএস নিয়ে পিএসসিতে ১৫ প্রস্তাব এনসিপির

চলমান বিসিএসগুলোর অগ্রগতি বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) ১৫ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। পিএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে এসব প্রস্তাব দেন দলটির প্রতিনিধিদল।

রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল পিএসসি কার্যালয়ে এই বৈঠক করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর প্রকাশসহ বিসিএস প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি তুলে ধরা হয়।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব মিরাজ মিয়া।

পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এখন স্পষ্ট। দিনের পর দিন সচিবালয়ে ফাইল আটকে রেখে ‘গুণ্ডামি’ করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, সময় এসেছে এই মন্ত্রণালয়ের সংস্কার করার।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তারা এখন মূল কাজ ছেড়ে শুধু প্রমোশন আর ট্রান্সফারের পেছনে ছুটছে। চাকরি প্রত্যাশীদের নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সচিবালয়ে অনেক স্মার্ট কর্মকর্তা থাকলেও পুরনো ধ্যানধারণার কারণে তারা কাজের অগ্রগতি আনতে পারছেন না। এখনো মন্ত্রণালয়ের এক রুম থেকে আরেক রুমে সরকারি চিঠিপত্র ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো হয়, এ ধরনের ‘অযৌক্তিক’ কাজ বন্ধের দাবি জানায় এনসিপি।

এনসিপির ১৫ প্রস্তাবনা হলো-

১. ২৩ নন-ক্যাডার বিধি সংশোধনের জন্য পিএসসি থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে দ্রুত চিঠি ইস্যু করা। ৪৩তম বিসিএস থেকেই এ সমন্বয় শুরু করা।

২. ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য অধিযাচিত পদে দ্রুত সুপারিশ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

৩. ৪৪তম বিসিএসে অধিযাচিত ৮৭০ পোস্ট বৃদ্ধি ও চলমান সপ্তাহেই পুনরায় ফলাফল প্রকাশ। চলতি বছরেই গেজেট প্রকাশ নিশ্চিত করা।

৪. ২০২৩ সালের নন-ক্যাডার বিধির সংশোধন ত্বরান্বিত করে ৪৩ থেকে ৪৭তম বিসিএসে সর্বোচ্চ নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ অব্যাহত রাখা।

৫. ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডারে পূর্বে ১২ গ্রেডের হেড টিচার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মেধার ভিত্তিতে নতুন সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা।

৬. ৪৫তম বিসিএস ভাইভার হাজিরা পত্রে ভাইভার নম্বর ১০০ আপডেট করা।

৭. স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর প্রকাশ।

৮. চূড়ান্ত নম্বরপত্র ওয়েবসাইটে রোল নম্বর দিয়ে দেখা।

৯. পুলিশ ভ্যারিফিকেশন জটিলতা হ্রাস ও এক মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করা।

১০. ক্যালেন্ডার ইয়ারে প্রতিটি বিসিএস শেষ করা।

১১. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য স্পেশাল বিসিএসে প্যানেল সিস্টেম রাখা।

১২. ভাইভা বোর্ডভিত্তিক নম্বরের তারতম্য হ্রাসে ক্যাটাগরি নির্ধারণ।

১৩. প্রিলিমিনারি থেকে লিখিত পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময় দুই মাস বা ৫০ দিন রাখা ও লিখিত রুটিন আগে প্রকাশ।

১৪. চূড়ান্ত রেজাল্টের আগে ক্রসচেক করে সম বা নিচের ক্যাডার না পাওয়া নিশ্চিত করা।

১৫. পিএসসির পরীক্ষাগুলো গ্রেডভিত্তিক (ক্লাস্টার/সমন্বিত) আয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিএস নিয়ে পিএসসিতে ১৫ প্রস্তাব এনসিপির

আপডেট সময় ০৪:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

চলমান বিসিএসগুলোর অগ্রগতি বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) ১৫ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। পিএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে এসব প্রস্তাব দেন দলটির প্রতিনিধিদল।

রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল পিএসসি কার্যালয়ে এই বৈঠক করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর প্রকাশসহ বিসিএস প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি তুলে ধরা হয়।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব মিরাজ মিয়া।

পরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এখন স্পষ্ট। দিনের পর দিন সচিবালয়ে ফাইল আটকে রেখে ‘গুণ্ডামি’ করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, সময় এসেছে এই মন্ত্রণালয়ের সংস্কার করার।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তারা এখন মূল কাজ ছেড়ে শুধু প্রমোশন আর ট্রান্সফারের পেছনে ছুটছে। চাকরি প্রত্যাশীদের নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সচিবালয়ে অনেক স্মার্ট কর্মকর্তা থাকলেও পুরনো ধ্যানধারণার কারণে তারা কাজের অগ্রগতি আনতে পারছেন না। এখনো মন্ত্রণালয়ের এক রুম থেকে আরেক রুমে সরকারি চিঠিপত্র ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো হয়, এ ধরনের ‘অযৌক্তিক’ কাজ বন্ধের দাবি জানায় এনসিপি।

এনসিপির ১৫ প্রস্তাবনা হলো-

১. ২৩ নন-ক্যাডার বিধি সংশোধনের জন্য পিএসসি থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে দ্রুত চিঠি ইস্যু করা। ৪৩তম বিসিএস থেকেই এ সমন্বয় শুরু করা।

২. ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য অধিযাচিত পদে দ্রুত সুপারিশ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

৩. ৪৪তম বিসিএসে অধিযাচিত ৮৭০ পোস্ট বৃদ্ধি ও চলমান সপ্তাহেই পুনরায় ফলাফল প্রকাশ। চলতি বছরেই গেজেট প্রকাশ নিশ্চিত করা।

৪. ২০২৩ সালের নন-ক্যাডার বিধির সংশোধন ত্বরান্বিত করে ৪৩ থেকে ৪৭তম বিসিএসে সর্বোচ্চ নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ অব্যাহত রাখা।

৫. ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডারে পূর্বে ১২ গ্রেডের হেড টিচার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মেধার ভিত্তিতে নতুন সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা।

৬. ৪৫তম বিসিএস ভাইভার হাজিরা পত্রে ভাইভার নম্বর ১০০ আপডেট করা।

৭. স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর প্রকাশ।

৮. চূড়ান্ত নম্বরপত্র ওয়েবসাইটে রোল নম্বর দিয়ে দেখা।

৯. পুলিশ ভ্যারিফিকেশন জটিলতা হ্রাস ও এক মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করা।

১০. ক্যালেন্ডার ইয়ারে প্রতিটি বিসিএস শেষ করা।

১১. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য স্পেশাল বিসিএসে প্যানেল সিস্টেম রাখা।

১২. ভাইভা বোর্ডভিত্তিক নম্বরের তারতম্য হ্রাসে ক্যাটাগরি নির্ধারণ।

১৩. প্রিলিমিনারি থেকে লিখিত পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময় দুই মাস বা ৫০ দিন রাখা ও লিখিত রুটিন আগে প্রকাশ।

১৪. চূড়ান্ত রেজাল্টের আগে ক্রসচেক করে সম বা নিচের ক্যাডার না পাওয়া নিশ্চিত করা।

১৫. পিএসসির পরীক্ষাগুলো গ্রেডভিত্তিক (ক্লাস্টার/সমন্বিত) আয়োজন।