ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

শিক্ষকদের মর্যাদা দেয়নি কেউ, এখনো তৃতীয় শ্রেণি

আজ ৫ (অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি নানা আয়োজনে পালন করলেও আমাদের দেশে পালন হয় ভিন্ন ভাবে। নূন্যতম বেতন বৃদ্ধি আর মর্যাদার দাবি জানিয়ে সভা সমাবেশ আর মানববন্ধনেই পালিত হচ্ছে বাংলাদেশে।

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।একটি জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সেই মেরুদণ্ড গড়ার মহান দায়িত্ব পালন করে থাকেন শিক্ষকরা। প্রাথমিকেই শিশুর শিক্ষার ভিত তৈরি হয়। কিন্তু যারা সেই ভিত রচনা করেন, সেই শিক্ষকরা এখনো তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। বেতন গ্রেড ১৩তম। অন্যদিকে মাত্র অষ্টম শ্রেণি পাস একজন ড্রাইভারের গ্রেড ১২তম। সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা এবং বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ সর্বসাকূল্যে পান সাড়ে ১৯ হাজার টাকার মতো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের মান-মর্যাদা না বাড়িয়ে জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই শিক্ষা ও শিক্ষকদের জন্য সেভাবে ভাবেনি। যে কারণে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় দৈন্যদশাও কাটেনি। এমন বাস্তবতার মধ্যদিয়েই দেশে আজ রোববার (৫ অক্টোবর) পালিত হবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘শিক্ষকতা পেশা: মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি’।

দেশে হাজারও শিক্ষক রয়েছেন, যারা এখনো বেতন ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন। মাদরাসাগুলোতে নামমাত্র যে বেতন দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসারও চলে না। অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এক অর্থে সরকারিকরণ হলেও আমাদের এসব শিক্ষকদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন।

মাধ্যমিকের ৯৩ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের বাইরে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরি জীবন শেষের ৪-৫ বছরও নিজের জমানো পেনশনের অর্থ পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দেশের বেসরকারিপর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের বেতন প্রাথমিক শিক্ষকদের চেয়েও কম। আবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিমাত্রায় রাজনীতি, গবেষণা বিমুখতা কার্যত উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।

বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এ দেশের প্রাথমিকের শিক্ষকদের গড় বেতন ১৭০ ডলার ২ সেন্ট, যা দেশের মাথাপিছু গড় মাসিক আয়ের তুলনায় প্রায় ৬২ ডলার কম।

প্রাথমিকের শিক্ষকরা বলছেন, প্রায় সব শিক্ষক ঋণে জর্জরিত। কারণ এই বেতনে একজন শিক্ষক পরিবারের ভরণপোষণ ঠিকমতো করতে পারেন না। সবচেয়ে বেশি বেতন পান দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের শিক্ষকরা। দেশটির প্রাথমিকের শিক্ষকদের মাসিক গড় বেতন প্রায় ৯৫৩ ডলার ১৩ সেন্ট, যা বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ গুণ। এমনকি পাকিস্তানেও শিক্ষকদের গড় বেতন ২০৬ ডলার ৭ সেন্ট, শ্রীলংকায় ২৫০ ডলার ৪৪ সেন্ট। ভারতে রাজ্য ও বিষয়ভেদে শিক্ষকদের বেতনের ভিন্নতা রয়েছে।

দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরিজীবনে প্রবেশ করছেন মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে। এর সঙ্গে পান নামমাত্র বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা। অবসরের পর বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও মেলে না পেনশনের টাকা। শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদার এ সংকট শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

শিক্ষকদের মর্যাদা দেয়নি কেউ, এখনো তৃতীয় শ্রেণি

আপডেট সময় ০১:০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

আজ ৫ (অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি নানা আয়োজনে পালন করলেও আমাদের দেশে পালন হয় ভিন্ন ভাবে। নূন্যতম বেতন বৃদ্ধি আর মর্যাদার দাবি জানিয়ে সভা সমাবেশ আর মানববন্ধনেই পালিত হচ্ছে বাংলাদেশে।

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।একটি জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সেই মেরুদণ্ড গড়ার মহান দায়িত্ব পালন করে থাকেন শিক্ষকরা। প্রাথমিকেই শিশুর শিক্ষার ভিত তৈরি হয়। কিন্তু যারা সেই ভিত রচনা করেন, সেই শিক্ষকরা এখনো তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। বেতন গ্রেড ১৩তম। অন্যদিকে মাত্র অষ্টম শ্রেণি পাস একজন ড্রাইভারের গ্রেড ১২তম। সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা এবং বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ সর্বসাকূল্যে পান সাড়ে ১৯ হাজার টাকার মতো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের মান-মর্যাদা না বাড়িয়ে জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই শিক্ষা ও শিক্ষকদের জন্য সেভাবে ভাবেনি। যে কারণে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় দৈন্যদশাও কাটেনি। এমন বাস্তবতার মধ্যদিয়েই দেশে আজ রোববার (৫ অক্টোবর) পালিত হবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘শিক্ষকতা পেশা: মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি’।

দেশে হাজারও শিক্ষক রয়েছেন, যারা এখনো বেতন ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন। মাদরাসাগুলোতে নামমাত্র যে বেতন দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসারও চলে না। অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এক অর্থে সরকারিকরণ হলেও আমাদের এসব শিক্ষকদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন।

মাধ্যমিকের ৯৩ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের বাইরে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরি জীবন শেষের ৪-৫ বছরও নিজের জমানো পেনশনের অর্থ পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দেশের বেসরকারিপর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের বেতন প্রাথমিক শিক্ষকদের চেয়েও কম। আবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিমাত্রায় রাজনীতি, গবেষণা বিমুখতা কার্যত উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।

বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এ দেশের প্রাথমিকের শিক্ষকদের গড় বেতন ১৭০ ডলার ২ সেন্ট, যা দেশের মাথাপিছু গড় মাসিক আয়ের তুলনায় প্রায় ৬২ ডলার কম।

প্রাথমিকের শিক্ষকরা বলছেন, প্রায় সব শিক্ষক ঋণে জর্জরিত। কারণ এই বেতনে একজন শিক্ষক পরিবারের ভরণপোষণ ঠিকমতো করতে পারেন না। সবচেয়ে বেশি বেতন পান দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের শিক্ষকরা। দেশটির প্রাথমিকের শিক্ষকদের মাসিক গড় বেতন প্রায় ৯৫৩ ডলার ১৩ সেন্ট, যা বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ গুণ। এমনকি পাকিস্তানেও শিক্ষকদের গড় বেতন ২০৬ ডলার ৭ সেন্ট, শ্রীলংকায় ২৫০ ডলার ৪৪ সেন্ট। ভারতে রাজ্য ও বিষয়ভেদে শিক্ষকদের বেতনের ভিন্নতা রয়েছে।

দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরিজীবনে প্রবেশ করছেন মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে। এর সঙ্গে পান নামমাত্র বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা। অবসরের পর বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও মেলে না পেনশনের টাকা। শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদার এ সংকট শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।