ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুবি শিক্ষার্থীকে সিএনজি চালক ও মালিকের মারধর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সিএনজি চালক ও সিএনজি মালিকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শরীফ উল ইসলাম। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে কোটবাড়ির চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড় এলাকায় ঘটনা ঘটে।

শরীফ জানান, টিউশন শেষে কুমিল্লা শহর থেকে কোটবাড়ি ফেরার পথে সিএনজিতে বৃষ্টি পড়ায় পর্দা টেনে দেন তিনি। পরে বৃষ্টি থামলে পর্দা ভাঁজ করতে বলায় চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চালক তাকে সিএনজি গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে মালিকসহ মারধর করে।

খবর পেয়ে সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়। ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মোবাইল, স্মার্ট ওয়াচ, পাওয়ার ব্যাংক ও নগদ টাকা হারিয়ে যায়।

আলোচনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শরীফ উল ইসলাম বলেন, আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। আমার পায়ে আঘাত করে। কিন্তু, পকেটে ফোন থাকায় সেটিতে আঘাত লাগে। এছাড়া আমাদের ওপর বৃষ্টির মত ইট মেরেছে। এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর একটি ফোন আঘাতে ভেঙে যাওয়া, যা দেখানো হয়।

সমাধানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পর মারধরের শিকার শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, আমরা গিয়েছি কথা বলে সমাধান করতে। কিন্তু, আমরা অটোরিকশা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। আমার একটি স্মার্ট ওয়াচ সেখানে হারিয়ে গেছে। আমাদের ওপর রড এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বৃষ্টির মত ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সিএনজি চালক আনোয়ার বলেন, তিনি (শিক্ষার্থী) যখন সিএনজিতে উঠেন তখন বৃষ্টি পড়ছিল। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে আমি পর্দাটি ভাজ করতে বলি। তখন আমাকে বাজে ভাষায় গালাগালি করে। তখন তিনি (শিক্ষার্থী) ফোনে লোকজনকে আসতে বললে আমি ভয়ে তাকে গ্যারেজের সামনে নানিয়ে দেই। আমি বাকি যাত্রীদের কোটবাড়ি নামিয়ে আবার গ্যারেজে আসলে ২০ থেকে ২৫ জন এসে আমারে মারধর করে ও পরে আবারও ৬০ থেকে ৭০ জন এসে মারধর করে।

অভিযুক্ত সিএনজির মালিক হারুন বলেন, আমি প্রথমে গ্যারেজের ভেতরে ছিলাম। পরে চিল্লাচিল্লি শুনে বাহিরে এসে দেখি উনার (শিক্ষার্থী) সঙ্গে ঝামেলা। এরপরে ২০ থেকে ২৫ এসে চালক মারধর করতে থাকলে আমি তাদের বাধা দেই।

পরে রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ, পুলিশ ও স্থানীয়রা উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করেন। এসময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনাটি সমাধান করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মুচলেকা নেয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুবি শিক্ষার্থীকে সিএনজি চালক ও মালিকের মারধর

আপডেট সময় ০১:৫০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সিএনজি চালক ও সিএনজি মালিকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শরীফ উল ইসলাম। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে কোটবাড়ির চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড় এলাকায় ঘটনা ঘটে।

শরীফ জানান, টিউশন শেষে কুমিল্লা শহর থেকে কোটবাড়ি ফেরার পথে সিএনজিতে বৃষ্টি পড়ায় পর্দা টেনে দেন তিনি। পরে বৃষ্টি থামলে পর্দা ভাঁজ করতে বলায় চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চালক তাকে সিএনজি গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে মালিকসহ মারধর করে।

খবর পেয়ে সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়। ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মোবাইল, স্মার্ট ওয়াচ, পাওয়ার ব্যাংক ও নগদ টাকা হারিয়ে যায়।

আলোচনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শরীফ উল ইসলাম বলেন, আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। আমার পায়ে আঘাত করে। কিন্তু, পকেটে ফোন থাকায় সেটিতে আঘাত লাগে। এছাড়া আমাদের ওপর বৃষ্টির মত ইট মেরেছে। এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর একটি ফোন আঘাতে ভেঙে যাওয়া, যা দেখানো হয়।

সমাধানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পর মারধরের শিকার শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, আমরা গিয়েছি কথা বলে সমাধান করতে। কিন্তু, আমরা অটোরিকশা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। আমার একটি স্মার্ট ওয়াচ সেখানে হারিয়ে গেছে। আমাদের ওপর রড এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বৃষ্টির মত ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সিএনজি চালক আনোয়ার বলেন, তিনি (শিক্ষার্থী) যখন সিএনজিতে উঠেন তখন বৃষ্টি পড়ছিল। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে আমি পর্দাটি ভাজ করতে বলি। তখন আমাকে বাজে ভাষায় গালাগালি করে। তখন তিনি (শিক্ষার্থী) ফোনে লোকজনকে আসতে বললে আমি ভয়ে তাকে গ্যারেজের সামনে নানিয়ে দেই। আমি বাকি যাত্রীদের কোটবাড়ি নামিয়ে আবার গ্যারেজে আসলে ২০ থেকে ২৫ জন এসে আমারে মারধর করে ও পরে আবারও ৬০ থেকে ৭০ জন এসে মারধর করে।

অভিযুক্ত সিএনজির মালিক হারুন বলেন, আমি প্রথমে গ্যারেজের ভেতরে ছিলাম। পরে চিল্লাচিল্লি শুনে বাহিরে এসে দেখি উনার (শিক্ষার্থী) সঙ্গে ঝামেলা। এরপরে ২০ থেকে ২৫ এসে চালক মারধর করতে থাকলে আমি তাদের বাধা দেই।

পরে রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ, পুলিশ ও স্থানীয়রা উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করেন। এসময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনাটি সমাধান করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মুচলেকা নেয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।