ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ আগস্ট হোক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিন: তারেক রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট হোক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

৫ আগস্টকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের জন্য আনন্দের ও বিজয়ের দিন উল্লেখ তারেক রহমান করে বলেন, এই দিনে বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়েছে এবং এটি এখন থেকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হবে।

তিনি বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সেই সময়ে গুম, খুন, অপহরণ, হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ‘আয়নাঘর’ নামের শত শত গোপন বন্দীখানায় মানুষকে আটকে রাখা হতো এবং অনেককে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও বিনষ্ট করার চক্রান্ত চলছিল। তিনি দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা, ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করা এবং ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। এই অভ্যুত্থানে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, কোলের শিশুসহ দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি এই গণ-অভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তারেক রহমান শহীদদের প্রতি ঋণ পরিশোধের জন্য জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ একটি রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।

সবশেষে, তারেক রহমান দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া, মব ভায়োলেন্সকে উৎসাহিত না করা, নারীর প্রতি সহিংস আচরণ না করা এবং অন্যের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান। তিনি ‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে থাকবে। তিনি আশা করেন, আজ এবং আগামীর প্রতিটি ‘৫ আগস্ট’ গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ আগস্ট হোক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিন: তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৩:০১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট হোক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

৫ আগস্টকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের জন্য আনন্দের ও বিজয়ের দিন উল্লেখ তারেক রহমান করে বলেন, এই দিনে বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়েছে এবং এটি এখন থেকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হবে।

তিনি বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সেই সময়ে গুম, খুন, অপহরণ, হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ‘আয়নাঘর’ নামের শত শত গোপন বন্দীখানায় মানুষকে আটকে রাখা হতো এবং অনেককে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও বিনষ্ট করার চক্রান্ত চলছিল। তিনি দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা, ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করা এবং ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। এই অভ্যুত্থানে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, কোলের শিশুসহ দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি এই গণ-অভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তারেক রহমান শহীদদের প্রতি ঋণ পরিশোধের জন্য জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ একটি রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।

সবশেষে, তারেক রহমান দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া, মব ভায়োলেন্সকে উৎসাহিত না করা, নারীর প্রতি সহিংস আচরণ না করা এবং অন্যের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান। তিনি ‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে থাকবে। তিনি আশা করেন, আজ এবং আগামীর প্রতিটি ‘৫ আগস্ট’ গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন হয়ে উঠবে।