ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাজিদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ইবিতে অবস্থান কর্মসূচি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (০৪ আগস্ট) সকাল ১১ টার দিকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়।

মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে তারা। ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সব ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, প্রশাসন জবাব চাই, ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, খুনিদের ফাঁসি দে’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে আমাদের ভাই সাজিদ খুনের শিকার হয়েছে। হত্যাকারীদেরকে প্রশাসন এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি। আমরা সাজিদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রশাসন যদি সাজিদ হত্যার বিচার করতে না পারে, তাহলে তাদের এই দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না। তারা আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করতে হবে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর মাধ্যমে তদন্ত করে অপরাধীদের সনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবির জানাচ্ছি। সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর থেকে সাজিদের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১৮ জুলাই সকালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ২১ জুলাই প্রকাশিত ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর আনুমানিক সময় উল্লেখ থাকলেও মৃত্যুর ধরন ও কারণ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য। মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে ৩ আগস্ট বিকেলে সাজিদের ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এতে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাজিদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ইবিতে অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট সময় ০৩:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (০৪ আগস্ট) সকাল ১১ টার দিকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়।

মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে তারা। ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সব ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, প্রশাসন জবাব চাই, ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, খুনিদের ফাঁসি দে’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে আমাদের ভাই সাজিদ খুনের শিকার হয়েছে। হত্যাকারীদেরকে প্রশাসন এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি। আমরা সাজিদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রশাসন যদি সাজিদ হত্যার বিচার করতে না পারে, তাহলে তাদের এই দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না। তারা আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করতে হবে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর মাধ্যমে তদন্ত করে অপরাধীদের সনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবির জানাচ্ছি। সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর থেকে সাজিদের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১৮ জুলাই সকালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ২১ জুলাই প্রকাশিত ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর আনুমানিক সময় উল্লেখ থাকলেও মৃত্যুর ধরন ও কারণ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য। মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে ৩ আগস্ট বিকেলে সাজিদের ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এতে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।