রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত রজনী ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সকাল ৯ টায় তার নিজ গ্রাম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুরের সাদিপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তার মরদেহ পৌঁছে কল্যাণপুরে। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
জানা যায়, অন্য দিনের মত সোমবার কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী পতœী রজনী ইসলাম রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে গিয়েছিলেন ৫ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত মেয়ে জুমজুম ইসলামকে আনতে। স্কুল ছুটির মিনিট দশেক আগে মেয়ের অপেক্ষায় স্কুল কম্পাউন্ডেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মা রজনী ইসলাম। কিন্তু হঠাৎ একটি বিমান স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ে। এতে বিধ্বস্ত বিমানের ঘন্ডিত অংশ রজনী ইসলামের মাথায় আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ৮টার দিকে মারা যান রজনী ইসলাম।
তবে বিমান দুর্ঘটনায় রজনী ইসলাম প্রাণ হারালেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় মেয়ে জুমজুম ইসলাম। ক্লাসে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিমানটি স্কুল ভবনের ছাদে আছড়ে পড়লে জুমজুম চোখের সামনেই দেখেছে বিমান দুর্ঘটনার বিভিষীকাময় দৃশ্য। পরে জুমজুম তার এক বান্ধবীকে সাথে নিয়ে স্কুল ক্যান্টিনে আশ্রয় নেয় সেখানে বিমান দুর্ঘটনার পর ৩ঘন্টা অবস্থান করছিলো তারা।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় রজনী ইসলামের মরদেহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সযোগে পৌছে তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সাদিপুর গ্রামে। সাথে আসেন রজনীর স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা। এসময় গোটা সাদিপুর গ্রামজুড়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন জানাযা ও দাফন অনুষ্ঠানে।
রজনীর স্বামী জহুরুল ইসলাম জানান, সোমবার ব্যবসায়িক কাজে চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন। দুপুরের কিছু সময় পর তাকে মুঠোফোনে জানানো হয় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনার কথা। তাৎক্ষনাৎ চলে আসেন ঢাকায়। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজাখুঁজির পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সন্ধান পান তার স্ত্রীর মরদেহের।
রজনীর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই সিদ্দিকী। তিনি জানান এমন মৃত্যু সকলকে নাড়া দিয়েছে। মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
রজনী ইসলাম ৩ সন্তানের জননী। বড় ছেলে এসএম রুবাই চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, ছোট ছেলে এসএম রোহান মাইলস্টোন স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়লেও সোমবার বিমান দুর্ঘটনার দিন স্কুলে যায়নি। তিন সন্তানের জননী রজনী ইসলাম স্বামী সন্তান নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে বসবাস করছেন রাজধানী ঢাকায়। রজনী ইসলামের স্বামী জহুরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। পরিবারসহ রাজধানী ঢাকাতেই বসবাস করছিলেন তারা।
নিজস্ব সংবাদ : 










